মতামত
ট্রাম্প কি আসন্ন হিটলার!
NewsView

ঘুমঘুম মজুরদার
বিশ্বে আগ্রাসনের রাজনীতি বা গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন নতুন নয়। এর ফলে মানবাজাতিই শুধু নয় সমগ্র প্রাণীকূল ও পৃথিবীর বিপর্যয় নেমে এসেছিলো বিগত বিশ্বযুদ্ধগুলোয়। সেই স্মৃতির দগদগে ঘা এখনও শুকায়নি। বিষেশ করে হিটলারের আধিপত্যবাদ, আরও কিছু শক্তির উচ্চাবিলাষ সেই পরিণতি ডেকে এনেছিল। আবারও এমন এক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিশ্বে। সামরিক ও আর্থিক বলীয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোল্ডা ট্রাম্পা হাজির হচ্ছেন এমনই এক আগ্রাসী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। ফলে সঙ্গতই প্রশ্ন হাজির- ট্রাম্প কি আসন্ন ‘হিটলার’?
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি একজন শাসক, নানা কারণে বিশ্বে বিতর্কিত ও লেবাসাধারী উন্মাদ- কারো কারো কাছে। তার শাসনামলে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে এগুলো এক কথা আগ্রাসী। মার্কিন স্বার্থের কথা বেলা হলেও, এক সময় দেশটির নাগরিকদের জন্য বিষের ফোঁড়া উঠতে ট্রাম্পাকাল। সম্প্রতি তার কর্মকাণ্ডে বিশ্ব এক মাতালের তালে পড়েছে বলেই মনে হয়।
মাদুরোকে তুলে নেওয়া এবং কিউবার সঙ্গে উত্তেজনা
আগেরবার ট্রাম্পের শাসনামলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে, ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি তার শাসনকেই অবৈধ ঘোষণা করে। অন্য আরেকটি দেশের শাসনকে অবৈধ বলার নজির নতুন নয় হতে পারে। কিন্তু এর পরের কাজটি করতে পারে কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ। সেই জনগণের সায় বিবেচনায় না নিয়ে তিনি একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযানে তুলে নিলে নিয়ে আছড়ে ফেললেন আমেরিকায়। এটি হিটলারি ক্ষমতালিপ্সার থেকেও ভয়াবহ ২০২৬ সালের পৃথিবীতে।
অপরদিকে কিউবার প্রতি মার্কিন শাসকদের অভিলাষ বরাবরই সাম্রাজ্যবাদী। তারা পৃথিবীর সবাইকে পদানত করতে চান। এটিও হিটলারি সিলসিলা। তারা গণতন্ত্রের কথা বলেন। তাদের বেকুবি গণতন্ত্রতো বেকুব ছাড়া কেউ সমর্থন করে না। ফলে সবাইকে সেই বেকুবি গণতন্ত্র মানতে হবে কেন? আর সেটি হলেও সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ সেই সিদ্ধান্ত নেবে। দুনিয়ার দেশে দেশে মানুষ হত্যা করে, সামরিক বলে গণতন্ত্রের বড়ি গেলানোর এই নোংরামি আর কত দিন।
কিউবার জনগণই ঠিক করতে পারেন, তারা কী চান। ট্রাম্প বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কিউবার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরো দুর্বল করার চেষ্টা রয়েছে। এই পদক্ষেপ কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতি নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
ইরানে হামলা এবং বিশ্ব শান্তির প্রতি হুমকি
ট্রাম্পের ইরাননীতি ইসরায়েলি স্বার্থান্ধ এবং আগ্রাসী। ২০১৮ সালে, তিনি একপাক্ষিকভাবে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন। এই পদক্ষেপের পর, ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক আরও গরম হয়ে ওঠে। ইরানকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়। ২০২০ সালে, ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার মাধ্যমে এক ধরনের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এবং বিশ্বকে উন্মুক্ত হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
হিটলারও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার শাসনামলে অগণতান্ত্রিক এবং একচেটিয়া শক্তির প্রদর্শন- ট্রাম্পের শাসনকালেও দেখা যাচ্ছে। যেমন—মিডিয়ার প্রতি তার বিরোধিতা, জাতীয় নিরাপত্তা বা অভ্যন্তরীণ শত্রুদের বিরুদ্ধে সহিংস ভাষা ব্যবহার, এবং জনগণের কাছে শক্তিশালী, বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস। হিটলার যেমন গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ট্রাম্পও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তার নিজের দেশেও।
দ্বৈত নীতি এবং জাতীয়তাবাদ
ট্রাম্পের শাসনামলে জাতীয়তাবাদের দোহাই প্রবল হয়ে ওঠে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে একতরফা করে তোলার চেষ্টায় হিটলারি ‘এগজেন্সি’ (জাতীয়ভাবে সেরা হয়ে ওঠা) নীতির পথ ধরে দৌড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, জাতিগত বৈষম্য ও অভিবাসন নীতিতে তার কঠোর মনোভাব এবং শক্তিশালী জাতির ধারণা হিটলারের চেয়েও আরও আগ্রাসী।
ট্রাম্প কেন বিশ্বের জন্য ভয়ঙকর
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন মার্কিন রাজনীতিতে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে হাজির হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড বিশ্ব রাজনীতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ শুধু মার্কিন জনগণের জন্যই নয়, বিশ্বের জন্য এক বিপদ সংকেত।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ট্রাম্পের সক্রিয়তা
ট্রাম্পে প্রশাসনের ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি একতরফা সমর্থন চরম অগণতান্ত্রিক ও মানবাতবিরোধী। ২০১৭ সালে, ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অগ্রণযোগ ছিল। তার এ পদক্ষেপ শুধু প্যালেস্টাইনিদের প্রতি অবিচার নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা নগগ্ন প্রকাশ। এই পদক্ষেপের পর, প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহিংসতা আরও আরও নির্মম হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্যও একটি বড় ধাক্কা ছিল।
বিশ্বকে বশে নেওয়ার অগণতান্ত্রিক প্রকল্প“আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অধীনে, ট্রাম্প শুধু বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক দুর্বল করেননি, বৈশ্বিক শান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছেন। এই নীতিন মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে অগণতান্ত্রিকভাবে চাপে ফেলেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা, যেমন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করা, বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের পাগলা ঘোড়া বানিয়ে ছোটাচ্ছেন।
নিজ দেশে জনরোষ তোয়াক্কা না করা
ট্রাম্পের শাসনামলে আমেরিকায় রাজনৈতিক বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণ তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর, তিনি বারবার মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে নির্বাচন সঠিক হয়নি। এতে ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছে। তার একনায়কত্বের আকাঙ্ক্ষা থেকে এমন অভিলাষ।
ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে, তার নিজ দেশেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যহত করেছেন। সর্ব শেষ ইসরায়েলিদের সঙ্গে মিলে ইরানি সর্বময় নেতা খামেনিকে হত্যাই হয়ে যেতে পারে ট্রাম্পের শেষ ট্রাম্পকার্ড।
মতামত: লেখকের
বিশ্বে আগ্রাসনের রাজনীতি বা গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন নতুন নয়। এর ফলে মানবাজাতিই শুধু নয় সমগ্র প্রাণীকূল ও পৃথিবীর বিপর্যয় নেমে এসেছিলো বিগত বিশ্বযুদ্ধগুলোয়। সেই স্মৃতির দগদগে ঘা এখনও শুকায়নি। বিষেশ করে হিটলারের আধিপত্যবাদ, আরও কিছু শক্তির উচ্চাবিলাষ সেই পরিণতি ডেকে এনেছিল। আবারও এমন এক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিশ্বে। সামরিক ও আর্থিক বলীয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোল্ডা ট্রাম্পা হাজির হচ্ছেন এমনই এক আগ্রাসী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। ফলে সঙ্গতই প্রশ্ন হাজির- ট্রাম্প কি আসন্ন ‘হিটলার’?
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি একজন শাসক, নানা কারণে বিশ্বে বিতর্কিত ও লেবাসাধারী উন্মাদ- কারো কারো কাছে। তার শাসনামলে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে এগুলো এক কথা আগ্রাসী। মার্কিন স্বার্থের কথা বেলা হলেও, এক সময় দেশটির নাগরিকদের জন্য বিষের ফোঁড়া উঠতে ট্রাম্পাকাল। সম্প্রতি তার কর্মকাণ্ডে বিশ্ব এক মাতালের তালে পড়েছে বলেই মনে হয়।
মাদুরোকে তুলে নেওয়া এবং কিউবার সঙ্গে উত্তেজনা
আগেরবার ট্রাম্পের শাসনামলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে, ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি তার শাসনকেই অবৈধ ঘোষণা করে। অন্য আরেকটি দেশের শাসনকে অবৈধ বলার নজির নতুন নয় হতে পারে। কিন্তু এর পরের কাজটি করতে পারে কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ। সেই জনগণের সায় বিবেচনায় না নিয়ে তিনি একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযানে তুলে নিলে নিয়ে আছড়ে ফেললেন আমেরিকায়। এটি হিটলারি ক্ষমতালিপ্সার থেকেও ভয়াবহ ২০২৬ সালের পৃথিবীতে।
অপরদিকে কিউবার প্রতি মার্কিন শাসকদের অভিলাষ বরাবরই সাম্রাজ্যবাদী। তারা পৃথিবীর সবাইকে পদানত করতে চান। এটিও হিটলারি সিলসিলা। তারা গণতন্ত্রের কথা বলেন। তাদের বেকুবি গণতন্ত্রতো বেকুব ছাড়া কেউ সমর্থন করে না। ফলে সবাইকে সেই বেকুবি গণতন্ত্র মানতে হবে কেন? আর সেটি হলেও সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ সেই সিদ্ধান্ত নেবে। দুনিয়ার দেশে দেশে মানুষ হত্যা করে, সামরিক বলে গণতন্ত্রের বড়ি গেলানোর এই নোংরামি আর কত দিন।
কিউবার জনগণই ঠিক করতে পারেন, তারা কী চান। ট্রাম্প বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কিউবার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরো দুর্বল করার চেষ্টা রয়েছে। এই পদক্ষেপ কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতি নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
ইরানে হামলা এবং বিশ্ব শান্তির প্রতি হুমকি
ট্রাম্পের ইরাননীতি ইসরায়েলি স্বার্থান্ধ এবং আগ্রাসী। ২০১৮ সালে, তিনি একপাক্ষিকভাবে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন। এই পদক্ষেপের পর, ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক আরও গরম হয়ে ওঠে। ইরানকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়। ২০২০ সালে, ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার মাধ্যমে এক ধরনের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এবং বিশ্বকে উন্মুক্ত হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
হিটলারও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার শাসনামলে অগণতান্ত্রিক এবং একচেটিয়া শক্তির প্রদর্শন- ট্রাম্পের শাসনকালেও দেখা যাচ্ছে। যেমন—মিডিয়ার প্রতি তার বিরোধিতা, জাতীয় নিরাপত্তা বা অভ্যন্তরীণ শত্রুদের বিরুদ্ধে সহিংস ভাষা ব্যবহার, এবং জনগণের কাছে শক্তিশালী, বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস। হিটলার যেমন গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ট্রাম্পও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তার নিজের দেশেও।
দ্বৈত নীতি এবং জাতীয়তাবাদ
ট্রাম্পের শাসনামলে জাতীয়তাবাদের দোহাই প্রবল হয়ে ওঠে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে একতরফা করে তোলার চেষ্টায় হিটলারি ‘এগজেন্সি’ (জাতীয়ভাবে সেরা হয়ে ওঠা) নীতির পথ ধরে দৌড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, জাতিগত বৈষম্য ও অভিবাসন নীতিতে তার কঠোর মনোভাব এবং শক্তিশালী জাতির ধারণা হিটলারের চেয়েও আরও আগ্রাসী।
ট্রাম্প কেন বিশ্বের জন্য ভয়ঙকর
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন মার্কিন রাজনীতিতে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে হাজির হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড বিশ্ব রাজনীতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ শুধু মার্কিন জনগণের জন্যই নয়, বিশ্বের জন্য এক বিপদ সংকেত।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ট্রাম্পের সক্রিয়তা
ট্রাম্পে প্রশাসনের ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি একতরফা সমর্থন চরম অগণতান্ত্রিক ও মানবাতবিরোধী। ২০১৭ সালে, ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অগ্রণযোগ ছিল। তার এ পদক্ষেপ শুধু প্যালেস্টাইনিদের প্রতি অবিচার নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা নগগ্ন প্রকাশ। এই পদক্ষেপের পর, প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহিংসতা আরও আরও নির্মম হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্যও একটি বড় ধাক্কা ছিল।
বিশ্বকে বশে নেওয়ার অগণতান্ত্রিক প্রকল্প“আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অধীনে, ট্রাম্প শুধু বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক দুর্বল করেননি, বৈশ্বিক শান্তির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছেন। এই নীতিন মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে অগণতান্ত্রিকভাবে চাপে ফেলেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা, যেমন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করা, বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের পাগলা ঘোড়া বানিয়ে ছোটাচ্ছেন।
নিজ দেশে জনরোষ তোয়াক্কা না করা
ট্রাম্পের শাসনামলে আমেরিকায় রাজনৈতিক বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণ তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর, তিনি বারবার মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে নির্বাচন সঠিক হয়নি। এতে ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছে। তার একনায়কত্বের আকাঙ্ক্ষা থেকে এমন অভিলাষ।
ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিশ্বের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে, তার নিজ দেশেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যহত করেছেন। সর্ব শেষ ইসরায়েলিদের সঙ্গে মিলে ইরানি সর্বময় নেতা খামেনিকে হত্যাই হয়ে যেতে পারে ট্রাম্পের শেষ ট্রাম্পকার্ড।
মতামত: লেখকের
লোড হচ্ছে...