সাহিত্য-সংস্কৃতি
সুরের ঝরনা ছড়িয়ে লক্ষ্যাপারের সংগীত সম্মিলন শুরু
NewsView

নিউজভিউ
গোধূলির আলো যখন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে খেলা করছে, তখন লোকসংগীতের মাটির টান আর শাস্ত্রীয় সংগীতের শুদ্ধ রাগের এক অনন্য সেতুবন্ধন রচিত হলো লক্ষ্যাপার-এর আঙিনায়। সুরের প্রদীপ জ্বেলে সূচিত হলো পঞ্চদশ বার্ষিক শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মিলনের প্রথম অধিবেশন। এবারের আয়োজনটি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন ও দর্শনকে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা আধুনিক নাগরিক জীবনে এক চিলতে শুদ্ধ বাতাসের মতো ধরা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত অব্দি গান, নৃত্য আর বাদ্যের এই নিরবচ্ছিন্ন ধারা শহরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মোহাবিষ্ট সন্ধ্যায় ডুবিয়ে রাখে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সম্মিলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পী রফিউর রাব্বি। তিনি মঞ্চে উপস্থিত সকল শিল্পীকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, আমাদের এই সংগীত আয়োজন কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং সংস্কৃতির শেকড়কে চেনার একটি প্রচেষ্টা। লোকসংগীতই হচ্ছে শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম প্রধান উৎসধারা। বাউল শাহ আবদুল করিমের মতো মহাজনেরা যে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার স্বপ্ন গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেই দর্শনকে ধারণ করাই আমাদের এই সম্মিলনের সার্থকতা।
সম্মিলনের সূচনা হয় বহুকণ্ঠে খেয়াল ও লোকগানের মাধ্যমে। লক্ষ্যাপার পরম্পরার ক্ষুদে শিল্পী এবং কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন সমবেত কণ্ঠে আবদুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গেয়ে ওঠে, তখন উপস্থিত দর্শকরা নস্টালজিয়ায় ডুবে যান। এরপর তালছন্দ পর্বে সবুজ আহমেদ ও তাঁর দলের লোক ও শাস্ত্রীয় ধারার সমন্বিত পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্রের শিল্পীরা তামান্না রহমানের পরিচালনায় মণিপুরী নৃত্যের ধ্রুপদী ও লোকজ রূপ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাগসংগীতের আবহে লোকজ গানের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন। সংগীতাচার্য রেজোয়ান আলী রাগ ও আলাপনের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু করার পর খাম্বাজ, ঝিঁঝিট, তিলক কামোদ, জয়জয়ন্তী ও ভৈরবী রাগের ওপর ভিত্তি করে হাসন রাজা, লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম ও চান পরান ফকিরের কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করা হয়। এই বিশেষ পর্বে কণ্ঠ দেন মহীতোষ কুমার মণ্ডল, কাজল রেখা, নুপুর রানী মিস্ত্রি ও বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। যন্ত্রসংগীতে খ্যাতিমান শিল্পীদের তবলা, হারমোনিয়াম, দোতারা ও বাঁশির সংগত সুরের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
লক্ষ্যাপারের সমন্বয়ক শাশ্বতী পাল জানান, গত ১৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে শাস্ত্রীয় সংগীতের এই আয়োজন করে আসছেন তাঁরা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুক্ত অঙ্গনে সুরে-তালে গণমানুষে যোগসাধন’। অনুষ্ঠানের শেষাংশে সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের শিল্পীরা সম্মেলক গান পরিবেশন করেন।
শহরের এই উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য রথীন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন, সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় এবং লক্ষ্যাপারের প্রধান উপদেষ্টা কাসেম জামালসহ বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনরা।
গোধূলির আলো যখন নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে খেলা করছে, তখন লোকসংগীতের মাটির টান আর শাস্ত্রীয় সংগীতের শুদ্ধ রাগের এক অনন্য সেতুবন্ধন রচিত হলো লক্ষ্যাপার-এর আঙিনায়। সুরের প্রদীপ জ্বেলে সূচিত হলো পঞ্চদশ বার্ষিক শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মিলনের প্রথম অধিবেশন। এবারের আয়োজনটি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন ও দর্শনকে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা আধুনিক নাগরিক জীবনে এক চিলতে শুদ্ধ বাতাসের মতো ধরা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত অব্দি গান, নৃত্য আর বাদ্যের এই নিরবচ্ছিন্ন ধারা শহরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মোহাবিষ্ট সন্ধ্যায় ডুবিয়ে রাখে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সম্মিলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পী রফিউর রাব্বি। তিনি মঞ্চে উপস্থিত সকল শিল্পীকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, আমাদের এই সংগীত আয়োজন কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং সংস্কৃতির শেকড়কে চেনার একটি প্রচেষ্টা। লোকসংগীতই হচ্ছে শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম প্রধান উৎসধারা। বাউল শাহ আবদুল করিমের মতো মহাজনেরা যে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার স্বপ্ন গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেই দর্শনকে ধারণ করাই আমাদের এই সম্মিলনের সার্থকতা।
সম্মিলনের সূচনা হয় বহুকণ্ঠে খেয়াল ও লোকগানের মাধ্যমে। লক্ষ্যাপার পরম্পরার ক্ষুদে শিল্পী এবং কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন সমবেত কণ্ঠে আবদুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গেয়ে ওঠে, তখন উপস্থিত দর্শকরা নস্টালজিয়ায় ডুবে যান। এরপর তালছন্দ পর্বে সবুজ আহমেদ ও তাঁর দলের লোক ও শাস্ত্রীয় ধারার সমন্বিত পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্রের শিল্পীরা তামান্না রহমানের পরিচালনায় মণিপুরী নৃত্যের ধ্রুপদী ও লোকজ রূপ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাগসংগীতের আবহে লোকজ গানের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন। সংগীতাচার্য রেজোয়ান আলী রাগ ও আলাপনের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু করার পর খাম্বাজ, ঝিঁঝিট, তিলক কামোদ, জয়জয়ন্তী ও ভৈরবী রাগের ওপর ভিত্তি করে হাসন রাজা, লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম ও চান পরান ফকিরের কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করা হয়। এই বিশেষ পর্বে কণ্ঠ দেন মহীতোষ কুমার মণ্ডল, কাজল রেখা, নুপুর রানী মিস্ত্রি ও বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। যন্ত্রসংগীতে খ্যাতিমান শিল্পীদের তবলা, হারমোনিয়াম, দোতারা ও বাঁশির সংগত সুরের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

লক্ষ্যাপারের সমন্বয়ক শাশ্বতী পাল জানান, গত ১৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে শাস্ত্রীয় সংগীতের এই আয়োজন করে আসছেন তাঁরা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুক্ত অঙ্গনে সুরে-তালে গণমানুষে যোগসাধন’। অনুষ্ঠানের শেষাংশে সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের শিল্পীরা সম্মেলক গান পরিবেশন করেন।
শহরের এই উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য রথীন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন, সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় এবং লক্ষ্যাপারের প্রধান উপদেষ্টা কাসেম জামালসহ বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনরা।
লোড হচ্ছে...