অর্থ-বাণিজ্য
দুই বছর আগেও টিকে ছিল
হারিয়ে গেছে টঙ্গীর জামদানি তাঁতশিল্প
NewsView
জামদানি শাড়ি
নিউজভিউ ডেস্ক
টঙ্গীতে রয়েছে বিসিকের মতো শিল্পনগরী। পুরো নগরীতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। কিন্তুএসব গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ভিড়ে হারিয়ে গেছে টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী জামদানি তাঁতশিল্প।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেই কার্যত বিলীন হয়ে গেছে টঙ্গীর গুটিয়া তাঁতিবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী জামদানি তাঁতশিল্প। এখন আর এটি সংকটে থাকা কোনো শিল্প নয়; বরং অস্তিুত্ব হারানো এক ইতিহাস।
একসময় ভোর হওয়ার আগেই গুটিয়া এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠত তাঁতের শব্দে। শত শত তাঁতির হাতে তৈরি হতো জামদানি, কাতান, বেনারসি, অপেরা, জংলা ও টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি। সেই ঐতিহ্যের কেন্দ্র আজ নীরব। সারিবদ্ধ তাঁতঘরের জায়গায় গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, গুদাম ও শিল্পকারখানা। বিসিক শিল্পনগরী ও আধুনিক গার্মেন্টস কারখানার বিস্তুারের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে শতবর্ষী তাঁতপল্লী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, একসময় প্রায় ২৭টি তাঁতিবাড়ী নিয়ে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এলাকায় এখন কোনো নিয়মিত তাঁত কার্যক্রম নেই। দুই-একটি পুরোনো তাঁতের কাঠামো থাকলেও সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় গুটিয়া এলাকায় ৩২০ থেকে ৩৫০ তাঁতি পরিবার দিন-রাত ব্যস্ত থাকতেন কাপড় তৈরিতে। ঢাকার মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসে কাপড় সংগ্রহ করতেন। টঙ্গীর কাপড়ের আলাদা সুনাম ছিল বাজারে। কিন্তু শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার এবং গার্মেন্টসনির্ভর অর্থনীতির উত্থানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে যায়। সর্বশেষ দুই বছরের মধ্যে শেষ কয়েকজন তাঁতিও পেশা বদলে ফেলেছেন।
প্রবীণ তাঁতি আব্দুল্লাহ আলী জানান, শেষ দিকে কাজ চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের সংকট, সহজ ঋণের অভাব এবং বিদেশি তৈরি সস্তুা কাপড়ের বাজার দখলে স্থানীয় তাঁতিরা টিকে থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। কিন্তু আয় না থাকায় দুই বছর আগে তাঁত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।
ডিজাইন মাস্টার কালিম উদ্দিন বলেন, এক সময় টঙ্গী ছিল তাঁত ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁতকল মালিকরা নতুন ডিজাইন নিতে আসতেন। তাঁতি না থাকায় সেই ডিজাইন শিল্পও হারিয়ে গেছে। তাঁত নেই, তাই ডিজাইনেরও আর প্রয়োজন নেই, আক্ষেপ তার।
গুটিয়া এলাকার প্রবীণ মাস্টার রফিকুল ইসলাম মনে করেন, এটি শুধু একটি পেশার মৃত্যু নয়; বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিলুপ্তি। তাঁর ভাষায়, টঙ্গীর তাঁতশিল্প একসময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ছিল, কিন্তু পরিকল্পিত সংরক্ষণ উদ্যোগ না থাকায় ঐতিহ্যটি হারিয়ে গেছে নীরবে।
টঙ্গী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সময়মতো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না নেওয়ার ফলেই শিল্পটি বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, বিপণন সহায়তা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আগে নিশ্চিত করা গেলে হয়তো টঙ্গীর তাঁতশিল্প টিকে থাকত। তবে সরকার চাইলে এখনো নুুনভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, অতীতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে তাঁতপল্লী গড়ে তোলা, জামদানিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
টঙ্গীতে রয়েছে বিসিকের মতো শিল্পনগরী। পুরো নগরীতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। কিন্তুএসব গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ভিড়ে হারিয়ে গেছে টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী জামদানি তাঁতশিল্প।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেই কার্যত বিলীন হয়ে গেছে টঙ্গীর গুটিয়া তাঁতিবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী জামদানি তাঁতশিল্প। এখন আর এটি সংকটে থাকা কোনো শিল্প নয়; বরং অস্তিুত্ব হারানো এক ইতিহাস।
একসময় ভোর হওয়ার আগেই গুটিয়া এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠত তাঁতের শব্দে। শত শত তাঁতির হাতে তৈরি হতো জামদানি, কাতান, বেনারসি, অপেরা, জংলা ও টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি। সেই ঐতিহ্যের কেন্দ্র আজ নীরব। সারিবদ্ধ তাঁতঘরের জায়গায় গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, গুদাম ও শিল্পকারখানা। বিসিক শিল্পনগরী ও আধুনিক গার্মেন্টস কারখানার বিস্তুারের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে শতবর্ষী তাঁতপল্লী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, একসময় প্রায় ২৭টি তাঁতিবাড়ী নিয়ে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এলাকায় এখন কোনো নিয়মিত তাঁত কার্যক্রম নেই। দুই-একটি পুরোনো তাঁতের কাঠামো থাকলেও সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় গুটিয়া এলাকায় ৩২০ থেকে ৩৫০ তাঁতি পরিবার দিন-রাত ব্যস্ত থাকতেন কাপড় তৈরিতে। ঢাকার মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসে কাপড় সংগ্রহ করতেন। টঙ্গীর কাপড়ের আলাদা সুনাম ছিল বাজারে। কিন্তু শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তার এবং গার্মেন্টসনির্ভর অর্থনীতির উত্থানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে যায়। সর্বশেষ দুই বছরের মধ্যে শেষ কয়েকজন তাঁতিও পেশা বদলে ফেলেছেন।
প্রবীণ তাঁতি আব্দুল্লাহ আলী জানান, শেষ দিকে কাজ চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের সংকট, সহজ ঋণের অভাব এবং বিদেশি তৈরি সস্তুা কাপড়ের বাজার দখলে স্থানীয় তাঁতিরা টিকে থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। কিন্তু আয় না থাকায় দুই বছর আগে তাঁত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।
ডিজাইন মাস্টার কালিম উদ্দিন বলেন, এক সময় টঙ্গী ছিল তাঁত ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁতকল মালিকরা নতুন ডিজাইন নিতে আসতেন। তাঁতি না থাকায় সেই ডিজাইন শিল্পও হারিয়ে গেছে। তাঁত নেই, তাই ডিজাইনেরও আর প্রয়োজন নেই, আক্ষেপ তার।
গুটিয়া এলাকার প্রবীণ মাস্টার রফিকুল ইসলাম মনে করেন, এটি শুধু একটি পেশার মৃত্যু নয়; বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিলুপ্তি। তাঁর ভাষায়, টঙ্গীর তাঁতশিল্প একসময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ছিল, কিন্তু পরিকল্পিত সংরক্ষণ উদ্যোগ না থাকায় ঐতিহ্যটি হারিয়ে গেছে নীরবে।
টঙ্গী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সময়মতো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না নেওয়ার ফলেই শিল্পটি বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, বিপণন সহায়তা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আগে নিশ্চিত করা গেলে হয়তো টঙ্গীর তাঁতশিল্প টিকে থাকত। তবে সরকার চাইলে এখনো নুুনভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার জানান, অতীতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে তাঁতপল্লী গড়ে তোলা, জামদানিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
লোড হচ্ছে...