অর্থ-বাণিজ্য
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে অর্থনীতি কতটা পাল্টালো?
NewsView

নিউজভিউ ডেস্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির হাল ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেড় বছর অতিবাহিত হতে চললেও অর্থনীতির সেই ক্ষত কতটা উপশম হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আশানুরূপ সফল হতে পারেনি।
ক্ষমতা গ্রহণের সময় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বিদেশি ঋণের পাহাড় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো বিশাল সব চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অর্থনীতির যে চরম দুর্দশা ছিল, তা সামাল দেওয়াটাই ছিল বড় সাফল্য। তাঁর মতে, সরকার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে পেরেছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবিরের মতে, দেড় বছরে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়নি। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তলানিতে এসে ঠেকেছে, যা একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের জন্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। একই সময়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি এবং দেশে দারিদ্র্যের হারও কিছুটা বেড়েছে।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি-র সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে সরকার নিয়ে যেতে পারেননি, এটা সত্য। তবে তারা এমন কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন, যার সুফল ভবিষ্যতে দেশ পাবে।”
সংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাসে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। যদিও তাৎক্ষণিক সুফল হিসেবে প্রবৃদ্ধি বা দ্রব্যমূল্যের স্বস্তি মেলেনি, তবে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পথে হাঁটার চেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন নির্বাচিত সরকার এই সংস্কারের ধারা বজায় রেখে অর্থনীতিকে কতটা গতিশীল করতে পারবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির হাল ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেড় বছর অতিবাহিত হতে চললেও অর্থনীতির সেই ক্ষত কতটা উপশম হয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আশানুরূপ সফল হতে পারেনি।
ক্ষমতা গ্রহণের সময় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বিদেশি ঋণের পাহাড় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো বিশাল সব চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অর্থনীতির যে চরম দুর্দশা ছিল, তা সামাল দেওয়াটাই ছিল বড় সাফল্য। তাঁর মতে, সরকার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে পেরেছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবিরের মতে, দেড় বছরে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়নি। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তলানিতে এসে ঠেকেছে, যা একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের জন্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। একই সময়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি এবং দেশে দারিদ্র্যের হারও কিছুটা বেড়েছে।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি-র সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে সরকার নিয়ে যেতে পারেননি, এটা সত্য। তবে তারা এমন কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন, যার সুফল ভবিষ্যতে দেশ পাবে।”
সংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাসে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। যদিও তাৎক্ষণিক সুফল হিসেবে প্রবৃদ্ধি বা দ্রব্যমূল্যের স্বস্তি মেলেনি, তবে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পথে হাঁটার চেষ্টা ছিল দৃশ্যমান। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন নির্বাচিত সরকার এই সংস্কারের ধারা বজায় রেখে অর্থনীতিকে কতটা গতিশীল করতে পারবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
লোড হচ্ছে...