অর্থ-বাণিজ্য
মন্ত্রী নেই নারায়ণগঞ্জে, কী বলছেন এমপি ও নেতারা
NewsView

নিউজভিউ বিশেষ
প্রায় দুই দশক পর ফের ক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি সরকার গঠন করেছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। এতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পায়। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
নারায়ণগঞ্জেও এমন ধারাবাহিকতাই দেখা গেছে। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি একটিতে এনসিপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কোনো সাংসদ এই তালিকায় নেই। এটি নারায়ণগঞ্জের কোনো রাজনৈতিক দুর্বলতা বা কেন্দ্রের মনোযোগের ঘাটতি কি না—সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় উঠে এসেছে নিউজভিউয়ের প্রতিবেদনে।
৩৯ লাখের বেশি জনসংখ্যার এই জনপদে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫,৭১২ জনের বাস। এর মধ্যে ৫টি উপজেলায় ভোটার রয়েছেন প্রায় সাড়ে ২২ লাখ। সরকারের কোষাগারে বড় আকারের রাজস্ব আসে নারায়ণগঞ্জ থেকে। রপ্তানি বাণিজ্যেও এই জেলার ভূমিকা ব্যাপক। দেশের প্রধান নদীবন্দর, ‘ক’ ক্যাটাগরির সিটি করপোরেশনসহ ৫টি উপজেলা, ছোট-বড় ১,৮৩৪টির বেশি পোশাক কারখানা, ২ শতাধিক অন্যান্য শিল্পকারখানা, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক পাট প্রক্রিয়াজাত ও সংগ্রহকেন্দ্র, দেশের প্রধান পাইকারি লবণ সরবরাহকেন্দ্র, দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ডালের বাজার এবং প্রধান ভুসিমাল ও আটা-ময়দার পাইকারি বাজার—এসব কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো জনপ্রতিনিধির ঠাঁই না হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। তারা মনে করছেন—রাজনৈতিক বলিষ্ঠতা না থাকায় এমনটি হয়েছে। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হয়েও উপযুক্ত মূল্যায়ন হয়নি বলে তাদের ধারণা।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বি বলেন, যৌক্তিক কারণেই নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী থাকা উচিত। কারণ এখান থেকে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসে, সেই পরিমাণে উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হয়েও এখানে অনেক কিছুই হয়নি। এখানে রাজনৈতিক বলিষ্ঠতার অভাব রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ আবুল কালাম বলেন, আমাদের যাত্রা শুরু জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের ভোটে হওয়া। পরবর্তী ধাপ হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্ত। এই মুহূর্তে আমার প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা, হকার উচ্ছেদ, যানজট নিরসন। এরপর সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। রাজনৈতিক বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। নারায়ণগঞ্জে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। বিএনপিকে অভিনন্দন।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, নারায়ণগঞ্জের একজন নাগরিক হিসেবে আশা করেছিলাম—যেহেতু নারায়ণগঞ্জ শহরটি প্রাচ্যের ডান্ডি এবং এখানে লোকবল অনেক বেশি, আমরা সারা দেশের জন্য অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি অবদান রাখি। সেখানে একজন মন্ত্রী আমরা আশা করতেই পারি। তাই আমাদের এখানে একজন মন্ত্রী থাকা উচিত ছিল। আমরা ব্যবসা করি, সরকারের সঙ্গে অনেক কাজ করতে হয়—যে সরকারই আসুক না কেন। এ কারণে এই জেলায় একজন মন্ত্রী দরকার ছিল। তারপরও আমি আশা করি, যারা নির্বাচিত হয়েছেন, একসঙ্গে কাজ করলে ভালো কিছু সম্ভব।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, বিএনপির যে বিজয়, তা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই হয়েছে। পুরো দেশ নিয়েই তারেক রহমানের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি ভালো সিদ্ধান্ত। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী হিসেবে আমাদের কিছুটা হতাশা রয়েছে—আমাদের এখান থেকে কোনো মন্ত্রী হয়নি। তবে এটা তো মাত্র শুরু। আমরা আশা করছি, সামনে আমাদের আশা পূরণ হবে। তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। মন্ত্রী না হলেও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে না।
নারায়ণগঞ্জ–২ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী ছিল। আবার কখনও ছিল না। তবে এবার মন্ত্রী না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। এবার যারা নির্বাচিত হয়েছেন, হয়তো তাঁদের যোগ্য মনে করেনি দল। তাই মন্ত্রী করা হয়নি। তবে আমাদের একজন মন্ত্রী থাকলে মানুষের দাবি–দাওয়াগুলো পূরণ হতো। মন্ত্রী না থাকাটা দুঃখজনক।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে বিএনপি চারটি আসন পেয়েছে। কিন্তু কোনো মন্ত্রী পায়নি। তবে নারায়ণগঞ্জকে উপেক্ষা করে কোনো কাজ করা যাবে না। একে গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু এখানে মন্ত্রী দেওয়া হয়নি, আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র যিনি হবেন, তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে সরকার কাজ করে, সেটিই আমি আশা করি।
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। মন্ত্রিত্ব না পাওয়াটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। আমি মনে করি, যারা নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রী না হয়েও তাঁরা নারায়ণগঞ্জের বরাদ্দটুকু আদায় করে আনতে পারবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, মাত্র তো শুরু হলো। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। মনে করি, কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। এই জেলার যে রাজস্ব, সেটি সারা দেশেই প্রভাব রাখে। নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে দেশের অর্থনীতির হার্টলাইন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক রয়েছে। তাই এই জেলায় মন্ত্রী থাকাটা যৌক্তিক বলে মনে করি।
গণসংহতি আন্দোলন মহানগর শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সব সময় বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রকে দেওয়ার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু পাওয়ার বেলায় গুরুত্ব পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ রাজস্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। তারপরও এটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। পাওয়ার বেলায় নারায়ণগঞ্জের হিসাবটা বাইরে থাকে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মন্ত্রী করা হয়নি। তাঁদের যোগ্য মনে না করলে সিভিল সোসাইটি কিংবা নাগরিক সমাজ থেকে কাউকে মন্ত্রী করা যেত।
২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হয়। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান। এর পর একটি বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। যারা নির্বাচিত হলেন—এমপি–মন্ত্রী হলেন—তাঁরা সেই স্বপ্ন কতটা মানুষের নাগালে আনতে সক্ষম হবেন, তার উত্তর হয়তো মিলবে সামনের পাঁচ বছরে।
প্রায় দুই দশক পর ফের ক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি সরকার গঠন করেছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। এতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পায়। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
নারায়ণগঞ্জেও এমন ধারাবাহিকতাই দেখা গেছে। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি একটিতে এনসিপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কোনো সাংসদ এই তালিকায় নেই। এটি নারায়ণগঞ্জের কোনো রাজনৈতিক দুর্বলতা বা কেন্দ্রের মনোযোগের ঘাটতি কি না—সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় উঠে এসেছে নিউজভিউয়ের প্রতিবেদনে।
৩৯ লাখের বেশি জনসংখ্যার এই জনপদে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫,৭১২ জনের বাস। এর মধ্যে ৫টি উপজেলায় ভোটার রয়েছেন প্রায় সাড়ে ২২ লাখ। সরকারের কোষাগারে বড় আকারের রাজস্ব আসে নারায়ণগঞ্জ থেকে। রপ্তানি বাণিজ্যেও এই জেলার ভূমিকা ব্যাপক। দেশের প্রধান নদীবন্দর, ‘ক’ ক্যাটাগরির সিটি করপোরেশনসহ ৫টি উপজেলা, ছোট-বড় ১,৮৩৪টির বেশি পোশাক কারখানা, ২ শতাধিক অন্যান্য শিল্পকারখানা, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক পাট প্রক্রিয়াজাত ও সংগ্রহকেন্দ্র, দেশের প্রধান পাইকারি লবণ সরবরাহকেন্দ্র, দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ডালের বাজার এবং প্রধান ভুসিমাল ও আটা-ময়দার পাইকারি বাজার—এসব কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো জনপ্রতিনিধির ঠাঁই না হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। তারা মনে করছেন—রাজনৈতিক বলিষ্ঠতা না থাকায় এমনটি হয়েছে। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হয়েও উপযুক্ত মূল্যায়ন হয়নি বলে তাদের ধারণা।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বি বলেন, যৌক্তিক কারণেই নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী থাকা উচিত। কারণ এখান থেকে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসে, সেই পরিমাণে উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হয়েও এখানে অনেক কিছুই হয়নি। এখানে রাজনৈতিক বলিষ্ঠতার অভাব রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ আবুল কালাম বলেন, আমাদের যাত্রা শুরু জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের ভোটে হওয়া। পরবর্তী ধাপ হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্ত। এই মুহূর্তে আমার প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা, হকার উচ্ছেদ, যানজট নিরসন। এরপর সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। রাজনৈতিক বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। নারায়ণগঞ্জে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। বিএনপিকে অভিনন্দন।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, নারায়ণগঞ্জের একজন নাগরিক হিসেবে আশা করেছিলাম—যেহেতু নারায়ণগঞ্জ শহরটি প্রাচ্যের ডান্ডি এবং এখানে লোকবল অনেক বেশি, আমরা সারা দেশের জন্য অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি অবদান রাখি। সেখানে একজন মন্ত্রী আমরা আশা করতেই পারি। তাই আমাদের এখানে একজন মন্ত্রী থাকা উচিত ছিল। আমরা ব্যবসা করি, সরকারের সঙ্গে অনেক কাজ করতে হয়—যে সরকারই আসুক না কেন। এ কারণে এই জেলায় একজন মন্ত্রী দরকার ছিল। তারপরও আমি আশা করি, যারা নির্বাচিত হয়েছেন, একসঙ্গে কাজ করলে ভালো কিছু সম্ভব।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, বিএনপির যে বিজয়, তা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই হয়েছে। পুরো দেশ নিয়েই তারেক রহমানের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি ভালো সিদ্ধান্ত। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী হিসেবে আমাদের কিছুটা হতাশা রয়েছে—আমাদের এখান থেকে কোনো মন্ত্রী হয়নি। তবে এটা তো মাত্র শুরু। আমরা আশা করছি, সামনে আমাদের আশা পূরণ হবে। তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। মন্ত্রী না হলেও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে না।
নারায়ণগঞ্জ–২ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে মন্ত্রী ছিল। আবার কখনও ছিল না। তবে এবার মন্ত্রী না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। এবার যারা নির্বাচিত হয়েছেন, হয়তো তাঁদের যোগ্য মনে করেনি দল। তাই মন্ত্রী করা হয়নি। তবে আমাদের একজন মন্ত্রী থাকলে মানুষের দাবি–দাওয়াগুলো পূরণ হতো। মন্ত্রী না থাকাটা দুঃখজনক।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে বিএনপি চারটি আসন পেয়েছে। কিন্তু কোনো মন্ত্রী পায়নি। তবে নারায়ণগঞ্জকে উপেক্ষা করে কোনো কাজ করা যাবে না। একে গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু এখানে মন্ত্রী দেওয়া হয়নি, আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র যিনি হবেন, তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে সরকার কাজ করে, সেটিই আমি আশা করি।
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। মন্ত্রিত্ব না পাওয়াটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। আমি মনে করি, যারা নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রী না হয়েও তাঁরা নারায়ণগঞ্জের বরাদ্দটুকু আদায় করে আনতে পারবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, মাত্র তো শুরু হলো। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। মনে করি, কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। এই জেলার যে রাজস্ব, সেটি সারা দেশেই প্রভাব রাখে। নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে দেশের অর্থনীতির হার্টলাইন ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক রয়েছে। তাই এই জেলায় মন্ত্রী থাকাটা যৌক্তিক বলে মনে করি।
গণসংহতি আন্দোলন মহানগর শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সব সময় বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। রাষ্ট্রকে দেওয়ার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু পাওয়ার বেলায় গুরুত্ব পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ রাজস্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। তারপরও এটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। পাওয়ার বেলায় নারায়ণগঞ্জের হিসাবটা বাইরে থাকে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মন্ত্রী করা হয়নি। তাঁদের যোগ্য মনে না করলে সিভিল সোসাইটি কিংবা নাগরিক সমাজ থেকে কাউকে মন্ত্রী করা যেত।
২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হয়। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান। এর পর একটি বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। যারা নির্বাচিত হলেন—এমপি–মন্ত্রী হলেন—তাঁরা সেই স্বপ্ন কতটা মানুষের নাগালে আনতে সক্ষম হবেন, তার উত্তর হয়তো মিলবে সামনের পাঁচ বছরে।
লোড হচ্ছে...