শিক্ষাসদর
বেইলী স্কুলের নবীনবরণ
শৈশব-কৈশোরের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস
NewsView

নিউজভিউ
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বেইলী স্কুলের বাতাসে নতুনের আবাহন। বইয়ের অক্ষর আর ক্লাসরুমের বাঁধাধরা গণ্ডি পেরিয়ে পুরো চত্বর পরিণত হয় উন্মুক্ত মেলায়। তোরণজুড়ে ঝালরের কারুকাজ, আলোর ছটা আর সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে ক্যাম্পাস হয়ে উঠে আনন্দের ফোয়ারা। শুধু নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম নয়, বরং সুপ্ত মেধার ডানা মেলার সুযোগ করে দিতেই এই সৃজনশীল মিলনমেলা। রঙিন পোশাকে সজ্জিত খুদে শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখর প্রাঙ্গণ যেন শৈশব আর তারুণ্যের এক অনাবিল ভুবন। কারো কণ্ঠে গানের সুর, কারো পায়ে নাচের ছন্দ—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথাগত গাম্ভীর্য ছাপিয়ে বেইলী স্কুলের প্রতিটি ধূলিকণায় লেগে ছিল বাঁধভাঙা পরশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল তিন দিনব্যাপী ‘বেইলী উৎসব ২০২৬’। নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক মহড়া এবং শৈল্পিক প্রদর্শনীর মিশেলে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনটি ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পচর্চার এই শুরুটাই শিশুদের মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আজ যে মায়াবী প্রদীপগুলো জ্বলে উঠল, তারাই আগামী দিনের সমাজকে পথ দেখাবে।"
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা স্কুলে তারা আগামীকাল থাকবে না। স্কুল হলো নৌকার মতো, নদীর পাড় হওয়ার পর যেমন আমরা নদী ছেড়ে চলে যাই। তেমনী এই স্কুল থেকে বের হয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। আর সেখান থেকে পৃথিবীর পথে পা রাখবে। এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়া। আমাদের সন্তানরা অনেক সময় অনেক কিছু পারে না। এদের বকাঝকা করা হয়। আসলে শিশুদের সাথে কোন ব্যবহার করা উচিৎ, কি কথা বলা উচিৎ সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শব্দের শক্তি বলে একটা কথা আছে, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সন্তানের সাথে কোন ব্যবহার করবো সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘তোমার দ্বারা কিছু হবে না, তোমার মেধা শূণ্য’ এই ধরণের কথা বলা উচিৎ না। এতে তারা সামনে অগ্রসর হওয়ার ধীরতা মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন।

দিনের প্রথম ভাগে প্রি-নার্সারি থেকে প্রি-ওয়ান শ্রেণির শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পর্ব। নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও প্রদীপ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে নেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান কাসেম জামাল ও প্রধান শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। শিশুদের র্যাম্প শো এবং নৃত্যের তালে তালে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অভিভাবকদের ক্যামেরা ও মোবাইলে বন্দি হয় সেসব রঙিন সময়।
মঞ্চে জাদুশিল্পী কবিরের চোখধাঁধানো কৌশল শিশুদের বিমোহিত করে। পাশাপাশি মাঠজুড়ে ছিল হাওয়াই মিঠাই, বায়োস্কোপ, দেশীয় পিঠা আর শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতে আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলবে বলে জানান স্কুলের শিক্ষিকা দিনা তাজরিন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। শিক্ষার্থীদের শখের যে বইটা আছে সেটাও এই উৎসবের মেলায় উপস্থাপন করেছেন। অল্প অল্প করে ৩দিন ব্যাপি আমাদের এই আয়োজন করেছি। নবীন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী তৈরি করবে এই আয়োজন।
অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয় দিবা শাখার পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় পর্ব। নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তারা তাদের মঞ্চ দখলের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক করে গড়ে তুলতেই প্রতিবছর এই ধরণের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কাসেম জামাল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বেইলী স্কুল সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মনোরম ও সৃজনশীল শিক্ষাকেন্দ্র নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। এই ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি গঠনে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। নারায়ণগঞ্জে শিক্ষা বান্ধব একটা পরিস্থিতি হোক এটা সব অভিভাবকই চায়। সেই ক্ষেত্রে আমরা মনে করি বড় ক্যাম্পাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ করে দেওয়া উচিৎ। আগের থেকে আরও ভালো হবে বলে আমি মনে করি। অন্যান্য জেলার চাইতে নারায়ণগঞ্জ আরও ভালো হবে বলে আমি আশাবাদি।
উৎসবের বাকি দুই দিনে চিত্র প্রদর্শনী ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎস শেষ হবে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বেইলী স্কুলের বাতাসে নতুনের আবাহন। বইয়ের অক্ষর আর ক্লাসরুমের বাঁধাধরা গণ্ডি পেরিয়ে পুরো চত্বর পরিণত হয় উন্মুক্ত মেলায়। তোরণজুড়ে ঝালরের কারুকাজ, আলোর ছটা আর সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে ক্যাম্পাস হয়ে উঠে আনন্দের ফোয়ারা। শুধু নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম নয়, বরং সুপ্ত মেধার ডানা মেলার সুযোগ করে দিতেই এই সৃজনশীল মিলনমেলা। রঙিন পোশাকে সজ্জিত খুদে শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখর প্রাঙ্গণ যেন শৈশব আর তারুণ্যের এক অনাবিল ভুবন। কারো কণ্ঠে গানের সুর, কারো পায়ে নাচের ছন্দ—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথাগত গাম্ভীর্য ছাপিয়ে বেইলী স্কুলের প্রতিটি ধূলিকণায় লেগে ছিল বাঁধভাঙা পরশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল তিন দিনব্যাপী ‘বেইলী উৎসব ২০২৬’। নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক মহড়া এবং শৈল্পিক প্রদর্শনীর মিশেলে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনটি ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পচর্চার এই শুরুটাই শিশুদের মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আজ যে মায়াবী প্রদীপগুলো জ্বলে উঠল, তারাই আগামী দিনের সমাজকে পথ দেখাবে।"
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা স্কুলে তারা আগামীকাল থাকবে না। স্কুল হলো নৌকার মতো, নদীর পাড় হওয়ার পর যেমন আমরা নদী ছেড়ে চলে যাই। তেমনী এই স্কুল থেকে বের হয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। আর সেখান থেকে পৃথিবীর পথে পা রাখবে। এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়া। আমাদের সন্তানরা অনেক সময় অনেক কিছু পারে না। এদের বকাঝকা করা হয়। আসলে শিশুদের সাথে কোন ব্যবহার করা উচিৎ, কি কথা বলা উচিৎ সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শব্দের শক্তি বলে একটা কথা আছে, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সন্তানের সাথে কোন ব্যবহার করবো সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘তোমার দ্বারা কিছু হবে না, তোমার মেধা শূণ্য’ এই ধরণের কথা বলা উচিৎ না। এতে তারা সামনে অগ্রসর হওয়ার ধীরতা মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন।

দিনের প্রথম ভাগে প্রি-নার্সারি থেকে প্রি-ওয়ান শ্রেণির শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পর্ব। নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও প্রদীপ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে নেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান কাসেম জামাল ও প্রধান শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। শিশুদের র্যাম্প শো এবং নৃত্যের তালে তালে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অভিভাবকদের ক্যামেরা ও মোবাইলে বন্দি হয় সেসব রঙিন সময়।
মঞ্চে জাদুশিল্পী কবিরের চোখধাঁধানো কৌশল শিশুদের বিমোহিত করে। পাশাপাশি মাঠজুড়ে ছিল হাওয়াই মিঠাই, বায়োস্কোপ, দেশীয় পিঠা আর শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতে আঁকা চিত্রপ্রদর্শনী। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলবে বলে জানান স্কুলের শিক্ষিকা দিনা তাজরিন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। শিক্ষার্থীদের শখের যে বইটা আছে সেটাও এই উৎসবের মেলায় উপস্থাপন করেছেন। অল্প অল্প করে ৩দিন ব্যাপি আমাদের এই আয়োজন করেছি। নবীন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী তৈরি করবে এই আয়োজন।
অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয় দিবা শাখার পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় পর্ব। নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তারা তাদের মঞ্চ দখলের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক করে গড়ে তুলতেই প্রতিবছর এই ধরণের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কাসেম জামাল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বেইলী স্কুল সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মনোরম ও সৃজনশীল শিক্ষাকেন্দ্র নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। এই ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি গঠনে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। নারায়ণগঞ্জে শিক্ষা বান্ধব একটা পরিস্থিতি হোক এটা সব অভিভাবকই চায়। সেই ক্ষেত্রে আমরা মনে করি বড় ক্যাম্পাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ করে দেওয়া উচিৎ। আগের থেকে আরও ভালো হবে বলে আমি মনে করি। অন্যান্য জেলার চাইতে নারায়ণগঞ্জ আরও ভালো হবে বলে আমি আশাবাদি।
উৎসবের বাকি দুই দিনে চিত্র প্রদর্শনী ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎস শেষ হবে।
লোড হচ্ছে...