বিনোদন
জন অরণ্যে পুঁজিবাদ, মধ্যস্বত্বভোগী এবং মানুষের পণ্যায়ন
নীরব আত্মসমর্পণ
NewsView4

নিউজভিউ
আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
কিছু কিছু চলচ্চিত্র সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে তাদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলি সেই সময়কাল পেরিয়েও দীর্ঘদিন প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। অর্ধশতাব্দী পরেও “জন অরণ্য” নিঃসন্দেহে সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত এবং মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ সালে। সত্যজিৎ, যিনি বরাবরই বাঙালি মানসিকতার সূক্ষ্মতম বিশ্লেষক, বুঝেছিলেন যে তাঁর সময়ের প্রকৃত ট্র্যাজেডি কেবল দারিদ্র্য নয়, বরং বিশ্বাসের ক্ষয়।
“জন অরণ্য”সিনেমাটিতে সত্যজিৎ রায় নায়ক বা খলনায়কের খোঁজ করেননি। তিনি দেখেছেন এক সাধারণ তরুণকে যে এমন এক ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে মেধার চেয়ে আপসই বড় যোগ্যতা। এই ছবি কোনো প্রদর্শনী নয়; এটি এক সমাজের রোগনির্ণয়।পঞ্চাশ বছর পরেও ছবিটি প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি কেবল একজন মানুষের পতনের গল্প নয়। এটি সেই মুহূর্তের দলিল, যখন একটি প্রজন্ম বুঝে ফেলে যে পৃথিবীর জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা আর নেই। টিকে থাকতে হলে তাদের এমন কিছু হতে হবে, যা তারা কখনো হতে চায়নি।কলকাতা ট্রিলজির শেষ অধ্যায় হিসেবে “জন অরণ্য” দেখায় আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত রূপ। এখানে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে, আর আপস আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় না তা হয়ে ওঠে অনিবার্যতা।সোমনাথ শহুরে মধ্যবিত্তের প্রতীক শিক্ষিত, সৎ, কিন্তু ব্যবস্থার কাছে অসহায়। তার চারপাশের কলকাতা সুযোগের শহর নয়, হতাশার। এখানে মানুষ মুদ্রার মতো, যার মূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা অনুযায়ী। মধ্যস্বত্বভোগীর দর্শনই ছবির কেন্দ্রীয় রূপক যে কিছু সৃষ্টি করে না, অথচ সবকিছুর মধ্যেই লাভ খোঁজে। সোমনাথ ধীরে ধীরে এই দর্শনে অভ্যস্ত হয়। নৈতিক পতন এখানে নাটকীয় নয় তা নীরবে ঘটে। ছবির সবচেয়ে নির্মম মুহূর্তে সাফল্য আর আত্মসমর্পণ এক হয়ে যায়। তখন বোঝা যায় এই ব্যবস্থায় জয় মানেই হার।
“জন অরণ্য”সিনেমাটিতে সত্যজিৎ রায় নায়ক বা খলনায়কের খোঁজ করেননি। তিনি দেখেছেন এক সাধারণ তরুণকে যে এমন এক ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে মেধার চেয়ে আপসই বড় যোগ্যতা। এই ছবি কোনো প্রদর্শনী নয়; এটি এক সমাজের রোগনির্ণয়।পঞ্চাশ বছর পরেও ছবিটি প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি কেবল একজন মানুষের পতনের গল্প নয়। এটি সেই মুহূর্তের দলিল, যখন একটি প্রজন্ম বুঝে ফেলে যে পৃথিবীর জন্য তাদের প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা আর নেই। টিকে থাকতে হলে তাদের এমন কিছু হতে হবে, যা তারা কখনো হতে চায়নি।কলকাতা ট্রিলজির শেষ অধ্যায় হিসেবে “জন অরণ্য” দেখায় আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত রূপ। এখানে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে, আর আপস আর সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় না তা হয়ে ওঠে অনিবার্যতা।সোমনাথ শহুরে মধ্যবিত্তের প্রতীক শিক্ষিত, সৎ, কিন্তু ব্যবস্থার কাছে অসহায়। তার চারপাশের কলকাতা সুযোগের শহর নয়, হতাশার। এখানে মানুষ মুদ্রার মতো, যার মূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা অনুযায়ী। মধ্যস্বত্বভোগীর দর্শনই ছবির কেন্দ্রীয় রূপক যে কিছু সৃষ্টি করে না, অথচ সবকিছুর মধ্যেই লাভ খোঁজে। সোমনাথ ধীরে ধীরে এই দর্শনে অভ্যস্ত হয়। নৈতিক পতন এখানে নাটকীয় নয় তা নীরবে ঘটে। ছবির সবচেয়ে নির্মম মুহূর্তে সাফল্য আর আত্মসমর্পণ এক হয়ে যায়। তখন বোঝা যায় এই ব্যবস্থায় জয় মানেই হার।
“জন অরণ্য” কোনো সমাধান দেয় না। দেয় শুধু একটি আয়না। আর সেই প্রতিবিম্বে, হয়তো আমরা সোমনাথের পাশাপাশি নিজেদেরও দেখতে পাই।
আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
লোড হচ্ছে...