নারায়ণগঞ্জআড়াইহাজার
নারী চায় সামাজিক ন্যায্যতা
NewsView

সংরক্ষিত নয়, সরসরি নির্বাচন চাই: রিনা আহমেদ- সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ
নিউজভিউ বিশেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণ হয়েছে গত ১১ ডিসেম্বর। একই তফসিলে হবে গণভোটও। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিএসই) এই তফসিল ঘোষণা করেন। ফলে ভোটের লড়াই এখন মাঠে। বিধি মোতাবেক নির্বাচনের প্রচার শুরু না হলেও ভোটের হাওয়ায় দুলছে দেশ। মাঠে-ময়দানের গণ্ডি ছাড়িয়ে জমে উঠছে ফেসবুক, ইউটিউব। টকশোগুলোতেও লাগছে ভোটের আঁচ। পুরো দেশের মতো নারায়ণগঞ্জও এই ভোটের উত্তাপের বাইরে নেই। প্রকাশ্য প্রচার শুরু না হলেও আনাচে-কানাচে ভোটের মাঠ গমর বলেই মানছেন অনেকে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটউৎসব নির্ধারণ করবে কারা চালাবেন দেশ, চলবে কীভাবে।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনটি জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের জুলাই অভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ সামনে এসেছে। তাই শুধু দেশ নয় দেশের বাইরেও এই নির্বাচন নিয়ে বেশ আগ্রহ জেগেছে। আগের একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন মানুষকে ভোটবিমুখ করেছে। এ কারণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।
নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক করতে হলে সব মহলের সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সবার আগে মাথায় আসে নারী ভোটার। পরিসংখ্যান বলেছে, ভোটের সংখ্যায় নারী-পুরুষ সমান সমান। ফলে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে নারী ভোটার হতে পারে বড় নিয়ামক। তাই নারীরা কাকে ভোট দেবেন, ভোটের মাধ্যমে কী চাইবেন এসব প্রশ্ন ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে সক্ষম। এক্ষেত্রে নিউজভিউ মাঠ পর্যায়ে অনেক নারীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি খানিকটা বোঝার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে তরুণীরা, যারা এবার প্রথম কিংবা দ্বিতীয়বার ভোট দিচ্ছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলে সামাজিক ন্যয্যতার বিয়ষয়টি জোরালোভাবে বোঝা গেছে। তারা বলেছেন, নারীদের অবহেলা বা পাশ কাটিয়ে সমাজ কাঠামো মজবুত হতে পারে না। সংসার থেকে বাইরের কর্ম ক্ষেত্রেও নারীর অংশগ্রণ বিশেষ মূল্যায়ণ দাবি করে। বর্তামান শিক্ষা প্রসারের মধ্য দিয়ে নারী অনেকটাই নানা বিষয়ে সক্ষম বলে তাদের ধারণা। তাই জীবন ও কর্মে বাধা-বারণের কোনো সামাজিক রাজনীতি মানতে নারাজ তারা।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য বলছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ভোট ২৩,৫৯,৭৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ১১,৯৫,৭৪৮; নারী ১১,৬৪,০২২। সুতরাং প্রতিটি দলকেই নারী ভোটার নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে। নারীকে যেনতেন মনে করে ভোটে পার পাওয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করেন নারী নেত্রীরা। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তার নারীদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত নারীরা। তাদের মত, এই যুগের নারীকে সাম্য আর মর্যাদার ভিত্তিতে দেখতে হবে এবং সেই ভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহার ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সভাপতি রিনা আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি, ভোটে নারীর শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন দরকার। কারণ আমাদের এখানে নির্বাচনে অনেক টাকার খেলা হয়। এটি একটি বাস্তবতা। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে নারীরা সামনে আসতে পারেন না। এখানে স্বচ্ছ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংসদের গিয়ে নারীরা কথা বলতে পারবেন না। স্বাধীনভাবে তাদের সংসদে যাওয়া দরকার।
নারাণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক দিনা তাজরিন বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাদ দিয়ে কখনোই কোনো সমাজ কল্পনা করা যায়নি। তারপরও কালে কালে নারীর অর্জন অস্বীকার করা হয়েছে। সমাজ সুষ্ঠু ধারায় আনতে হলে নারীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজে নানা ক্ষেত্রে নারীর জন্য যে সব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। আমি সংরক্ষিত নারী আসনে বিশ্বাসী নই। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চত করতে হলে সরসরি নির্বাচন দিতে হবে।
শিল্পী ও শিক্ষক সুমনা আক্তার বলেন, নারী পুরুষের মর্যাদাকর সম্পর্ক ছাড়া উন্নত সমাজ বা রাষ্ট্র চিন্তা করা যায় না। স্বাধীনতার পর কিংবা তারও আগে থেকে আমাদের নারীরা একটি সম মর্যাদার সমাজ দাবি করে আসছেন। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। জুলই অভ্যুত্থানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা লড়াই করেছেন। ভেবেছিলাম এবার হয়তো সমাজে নারীরা ন্যায্যতা পাবে। কিন্তু লক্ষণ দেখে হতাশ হচ্ছি। তারপরও আশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অংশগ্রণ নিশ্চিত হওয়ার একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কোনো কোনো নারী নেত্রী। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন, জুলাই অভুত্থানের পর বেশকিছু ঘটনা নারীর ক্ষমতায়নকে খর্ব করতে তৎপর। এটি নারীর জন্য বাধা হিসেবে হাজির হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে শ্রমের একটা বড় অংশ হচ্ছে পোশাক শিল্প। এখানে লাখ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করেন। তারা অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা। তারপরও একটা বড় অংশ এখানে ভোটার। এই নারীরা আসলে বরবরই উপেক্ষিতই থেকে যান। তাই সামনে যে ভোট আসছে তাতে এই শ্রমজীবী নারীদের ভোট বড় নিয়ামক হয়ে সামনে আসবে। এছাড়া নতুন ভোটার নারীরাও এবার তাদের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে নিজেদের হিস্যা চাইবেন। কারণ বিগত সময়ে নানা ক্ষেত্রে নারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের জন্য নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঘরে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।
সাংবাদিক আফসানা আক্তার বলেন, নারীর কর্মক্ষেত্র নিরাপদ হওয়া দরকার। সব ধরনের বৈষ্যম দূর করা প্রয়োজন। ভোট যেমন প্রার্থীর, ভোট ভোটেররও। তাই অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে এখন আর অবহেলা করা যাবে না। তার মত প্রকাশে স্বাধীনতা লাগবে।
ব্যাংক কর্মকর্তা মিথিলা আফরোজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নারীর পোশাক নিয়ে কথা হচ্ছে। অথচ অধিকার নিয়ে কোনো কথা নেই। মানুষটা বেঁচে থাকে পোশাকে নয়, অধিকারে। আসন্ন ভোটের আগে এসব প্রশ্ন মীমাংসা করেই প্রার্থীদের ভোট চাওয়া উচিত।
দেওভোগ কাটাপাড়র মার্কেটে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা রুনা আক্তার বলেন, আমাগ ভোট নাই, কাম দ্যান। কাম থাকলেই আমরা ভালা থাকি। মিনিস্টার যার ইচ্ছা হোক। আর ভোট কারে দিমু, কাউরে তো চিনি না।
চা-দোকানি নাসিমা বেগম বলেন, ছোট্ট একটা টং। চান্দা দিতে হয়। যে চান্দা বন্ধ করবার পারে ভোট দিমু তারে।
উদ্যোক্তা মৌসুমি বলেন, ব্যবসা নেই। ব্যবসা করাটাও সহজ না। নারীর জন্য আরও ঝামেলা। নাগরিক যেহেতো ভোট দিতে হবে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। দেখি কারে দেওয়া যায়।
পিঠা বিক্রেতা রোকসানা বলেন, দুইটা বাচ্চা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামেও জমি নাই। সরকার তো আসা-যাওয়া করে। কই কিছুই তো হয় না। ভোট দিবার জন্য বাড়ি যাইতে হবে। ভাড়া নাই।
ভোটারের এসব আশা-নিরাশার মধ্যেও- ভোটই এখনও গণতন্ত্রের সর্বশেষ সুন্দর। সেই ভোট হওয়া চাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক। বিগত ১৫ বছর মানুষ অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত ছিল। এতে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ রুদ্ধ হয়েছে। এই রুদ্ধ সমাজ নারীর জন্য আরও ভয় ও আতঙ্ক হিসেবে হাজির হয়েছে। তাদের স্বাধীনতার পরিসর আরও ছোট হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে অনলাইজনিত নীপিড়ন। এটি নারীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। তাই এসব প্রশ্ন মাথায় নিয়েই ভোট দেবেন নারীরা। সবার আগে তাদের সামাজিক ন্যায্যতার বিষয়টি উঠে এসেছে জোরালোভাবে।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনটি জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের জুলাই অভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ সামনে এসেছে। তাই শুধু দেশ নয় দেশের বাইরেও এই নির্বাচন নিয়ে বেশ আগ্রহ জেগেছে। আগের একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন মানুষকে ভোটবিমুখ করেছে। এ কারণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।
নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক করতে হলে সব মহলের সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সবার আগে মাথায় আসে নারী ভোটার। পরিসংখ্যান বলেছে, ভোটের সংখ্যায় নারী-পুরুষ সমান সমান। ফলে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে নারী ভোটার হতে পারে বড় নিয়ামক। তাই নারীরা কাকে ভোট দেবেন, ভোটের মাধ্যমে কী চাইবেন এসব প্রশ্ন ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে সক্ষম। এক্ষেত্রে নিউজভিউ মাঠ পর্যায়ে অনেক নারীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি খানিকটা বোঝার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে তরুণীরা, যারা এবার প্রথম কিংবা দ্বিতীয়বার ভোট দিচ্ছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলে সামাজিক ন্যয্যতার বিয়ষয়টি জোরালোভাবে বোঝা গেছে। তারা বলেছেন, নারীদের অবহেলা বা পাশ কাটিয়ে সমাজ কাঠামো মজবুত হতে পারে না। সংসার থেকে বাইরের কর্ম ক্ষেত্রেও নারীর অংশগ্রণ বিশেষ মূল্যায়ণ দাবি করে। বর্তামান শিক্ষা প্রসারের মধ্য দিয়ে নারী অনেকটাই নানা বিষয়ে সক্ষম বলে তাদের ধারণা। তাই জীবন ও কর্মে বাধা-বারণের কোনো সামাজিক রাজনীতি মানতে নারাজ তারা।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য বলছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ভোট ২৩,৫৯,৭৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ১১,৯৫,৭৪৮; নারী ১১,৬৪,০২২। সুতরাং প্রতিটি দলকেই নারী ভোটার নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে। নারীকে যেনতেন মনে করে ভোটে পার পাওয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করেন নারী নেত্রীরা। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তার নারীদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত নারীরা। তাদের মত, এই যুগের নারীকে সাম্য আর মর্যাদার ভিত্তিতে দেখতে হবে এবং সেই ভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহার ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সভাপতি রিনা আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি, ভোটে নারীর শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন দরকার। কারণ আমাদের এখানে নির্বাচনে অনেক টাকার খেলা হয়। এটি একটি বাস্তবতা। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে নারীরা সামনে আসতে পারেন না। এখানে স্বচ্ছ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংসদের গিয়ে নারীরা কথা বলতে পারবেন না। স্বাধীনভাবে তাদের সংসদে যাওয়া দরকার।
নারাণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক দিনা তাজরিন বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাদ দিয়ে কখনোই কোনো সমাজ কল্পনা করা যায়নি। তারপরও কালে কালে নারীর অর্জন অস্বীকার করা হয়েছে। সমাজ সুষ্ঠু ধারায় আনতে হলে নারীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজে নানা ক্ষেত্রে নারীর জন্য যে সব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। আমি সংরক্ষিত নারী আসনে বিশ্বাসী নই। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চত করতে হলে সরসরি নির্বাচন দিতে হবে।
শিল্পী ও শিক্ষক সুমনা আক্তার বলেন, নারী পুরুষের মর্যাদাকর সম্পর্ক ছাড়া উন্নত সমাজ বা রাষ্ট্র চিন্তা করা যায় না। স্বাধীনতার পর কিংবা তারও আগে থেকে আমাদের নারীরা একটি সম মর্যাদার সমাজ দাবি করে আসছেন। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। জুলই অভ্যুত্থানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা লড়াই করেছেন। ভেবেছিলাম এবার হয়তো সমাজে নারীরা ন্যায্যতা পাবে। কিন্তু লক্ষণ দেখে হতাশ হচ্ছি। তারপরও আশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অংশগ্রণ নিশ্চিত হওয়ার একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন কোনো কোনো নারী নেত্রী। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন, জুলাই অভুত্থানের পর বেশকিছু ঘটনা নারীর ক্ষমতায়নকে খর্ব করতে তৎপর। এটি নারীর জন্য বাধা হিসেবে হাজির হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে শ্রমের একটা বড় অংশ হচ্ছে পোশাক শিল্প। এখানে লাখ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করেন। তারা অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা। তারপরও একটা বড় অংশ এখানে ভোটার। এই নারীরা আসলে বরবরই উপেক্ষিতই থেকে যান। তাই সামনে যে ভোট আসছে তাতে এই শ্রমজীবী নারীদের ভোট বড় নিয়ামক হয়ে সামনে আসবে। এছাড়া নতুন ভোটার নারীরাও এবার তাদের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে নিজেদের হিস্যা চাইবেন। কারণ বিগত সময়ে নানা ক্ষেত্রে নারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের জন্য নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঘরে বাইরে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।
সাংবাদিক আফসানা আক্তার বলেন, নারীর কর্মক্ষেত্র নিরাপদ হওয়া দরকার। সব ধরনের বৈষ্যম দূর করা প্রয়োজন। ভোট যেমন প্রার্থীর, ভোট ভোটেররও। তাই অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে এখন আর অবহেলা করা যাবে না। তার মত প্রকাশে স্বাধীনতা লাগবে।
ব্যাংক কর্মকর্তা মিথিলা আফরোজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নারীর পোশাক নিয়ে কথা হচ্ছে। অথচ অধিকার নিয়ে কোনো কথা নেই। মানুষটা বেঁচে থাকে পোশাকে নয়, অধিকারে। আসন্ন ভোটের আগে এসব প্রশ্ন মীমাংসা করেই প্রার্থীদের ভোট চাওয়া উচিত।
দেওভোগ কাটাপাড়র মার্কেটে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা রুনা আক্তার বলেন, আমাগ ভোট নাই, কাম দ্যান। কাম থাকলেই আমরা ভালা থাকি। মিনিস্টার যার ইচ্ছা হোক। আর ভোট কারে দিমু, কাউরে তো চিনি না।
চা-দোকানি নাসিমা বেগম বলেন, ছোট্ট একটা টং। চান্দা দিতে হয়। যে চান্দা বন্ধ করবার পারে ভোট দিমু তারে।
উদ্যোক্তা মৌসুমি বলেন, ব্যবসা নেই। ব্যবসা করাটাও সহজ না। নারীর জন্য আরও ঝামেলা। নাগরিক যেহেতো ভোট দিতে হবে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। দেখি কারে দেওয়া যায়।
পিঠা বিক্রেতা রোকসানা বলেন, দুইটা বাচ্চা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রামেও জমি নাই। সরকার তো আসা-যাওয়া করে। কই কিছুই তো হয় না। ভোট দিবার জন্য বাড়ি যাইতে হবে। ভাড়া নাই।
ভোটারের এসব আশা-নিরাশার মধ্যেও- ভোটই এখনও গণতন্ত্রের সর্বশেষ সুন্দর। সেই ভোট হওয়া চাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক। বিগত ১৫ বছর মানুষ অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত ছিল। এতে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ রুদ্ধ হয়েছে। এই রুদ্ধ সমাজ নারীর জন্য আরও ভয় ও আতঙ্ক হিসেবে হাজির হয়েছে। তাদের স্বাধীনতার পরিসর আরও ছোট হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আগুনে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে অনলাইজনিত নীপিড়ন। এটি নারীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। তাই এসব প্রশ্ন মাথায় নিয়েই ভোট দেবেন নারীরা। সবার আগে তাদের সামাজিক ন্যায্যতার বিষয়টি উঠে এসেছে জোরালোভাবে।
লোড হচ্ছে...