আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতঃ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা
NewsView4

নিউজভিউ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। চলমান যুদ্ধে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য তথা সারা বিশ্বে এক প্রকার উত্তেজনা চারিদেকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রধানত জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ, আর্থিক বাজার এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রধানত চারটি উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে প্রথমত জ্বালানির দামের ধাক্কা দ্বিতীয়ত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি তৃতীয়ত আর্থিক বাজারের অস্থিরতা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত।
বিশেষজ্ঞ মতে ধরা হচ্ছে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চলবে এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান ছাড়াও পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জড়িত থাকবে এই সময়ে বিমান চলাচল কমে যাবে এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে এই দুই সপ্তাহের পর ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকবে তবে বৃহত্তর অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং হরমুজ প্রণালী ধীরে ধীরে আবার খুলে যাবে। প্রায় চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে, যদিও অনিশ্চয়তার মাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে।তবে ইতিহাসে খুব দ্রুত ও সহজভাবে কোনো দেশে শাসন পরিবর্তনের নজির নেই। তাই এই পরিস্থিতির বড় ঝুঁকি হলো পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে।উদাহরণ হিসেবে:স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠানো ,দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত,ইরানের পাল্টা আক্রমণ। যেমন, গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা, সাইবার আক্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু বা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে তেল ও গ্যাসের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। যুদ্ধ বা উত্তেজনা বাড়লে এই পথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে এক প্রকার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রকার মানসিক উত্তেজনা। কেননা যুদ্ধ চলাকালিন এই পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়বে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রায়। প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে জাতীয় বাজেট অধিবেশন পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশের সব খাতে দাম বৃদ্ধি পায় বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি,পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি ,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অন্যতম প্রধান খাত। এই প্রধান খাত গুলোই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে
মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রানীতি জ্বালানির দাম বাড়লে তা সরাসরি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনের খরচ বাড়ে,পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের প্রভাবে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে, যা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যেমনঃ শেয়ারবাজারে পতন,বন্ড বাজারে অস্থিরতা এবং পণ্যের বাজারে (কমোডিটি) বড় ওঠানামা। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তখন নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে স্বর্ণ ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ড এর মধ্য অন্যতম এর ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া মধ্যপ্রাচ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততায় সংগঠিত যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হতে পারে,জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং বীমা খরচ বাড়তে পারে। এতে করে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব পরবে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষনায়। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ভোক্তা ব্যয় কমে যেতে পারে, শিল্প উৎপাদন কমে যেতে পারে,আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমে যেতে পারে এর ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে বা মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তেল রপ্তানিকারক দেশ কিছু ক্ষেত্রে তারা লাভবান হতে পারে, কারণ, তেলের দাম বাড়লে আয় বাড়ে।
সবশেষে বলা যায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয় এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু উন্নত অর্থনীতিতেই নয় বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও ব্যাপকভাবে পড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মতে ধরা হচ্ছে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চলবে এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান ছাড়াও পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জড়িত থাকবে এই সময়ে বিমান চলাচল কমে যাবে এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে এই দুই সপ্তাহের পর ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকবে তবে বৃহত্তর অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং হরমুজ প্রণালী ধীরে ধীরে আবার খুলে যাবে। প্রায় চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে, যদিও অনিশ্চয়তার মাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে।তবে ইতিহাসে খুব দ্রুত ও সহজভাবে কোনো দেশে শাসন পরিবর্তনের নজির নেই। তাই এই পরিস্থিতির বড় ঝুঁকি হলো পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে।উদাহরণ হিসেবে:স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠানো ,দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত,ইরানের পাল্টা আক্রমণ। যেমন, গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা, সাইবার আক্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু বা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে তেল ও গ্যাসের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। যুদ্ধ বা উত্তেজনা বাড়লে এই পথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে এক প্রকার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রকার মানসিক উত্তেজনা। কেননা যুদ্ধ চলাকালিন এই পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়বে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রায়। প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে জাতীয় বাজেট অধিবেশন পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশের সব খাতে দাম বৃদ্ধি পায় বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি,পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি ,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অন্যতম প্রধান খাত। এই প্রধান খাত গুলোই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে
মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রানীতি জ্বালানির দাম বাড়লে তা সরাসরি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনের খরচ বাড়ে,পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের প্রভাবে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে, যা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যেমনঃ শেয়ারবাজারে পতন,বন্ড বাজারে অস্থিরতা এবং পণ্যের বাজারে (কমোডিটি) বড় ওঠানামা। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তখন নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে স্বর্ণ ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ড এর মধ্য অন্যতম এর ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া মধ্যপ্রাচ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সম্পৃক্ততায় সংগঠিত যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হতে পারে,জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং বীমা খরচ বাড়তে পারে। এতে করে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব পরবে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষনায়। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ভোক্তা ব্যয় কমে যেতে পারে, শিল্প উৎপাদন কমে যেতে পারে,আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমে যেতে পারে এর ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে বা মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তেল রপ্তানিকারক দেশ কিছু ক্ষেত্রে তারা লাভবান হতে পারে, কারণ, তেলের দাম বাড়লে আয় বাড়ে।
সবশেষে বলা যায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয় এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব শুধু উন্নত অর্থনীতিতেই নয় বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও ব্যাপকভাবে পড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
লোড হচ্ছে...