বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মাইক্রো-চিটিং : লাইক দেওয়াও প্রতারণা!
NewsView

নিউজ ভিউ
বিশ্বে মাইক্রো-চিটিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু আজকের ফোনভরা জীবনে এটি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লিলি অ্যালেনের সেই তীব্র বিচ্ছেদের গল্প শুরুতে মনে করিয়ে দেয় যে প্রতারণার রূপ বদলে গেছে। সম্পর্ক ভাঙতে এখন আর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা লাগছে না; হাতের স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে গোপন দরজা। যেখানে কত কথা, কত ইঙ্গিত, কত অনুভূতি জমা হয়ে থাকে নিজ সঙ্গীর অজান্তেই। এই জগৎ যেন আরেকটি সমান্তরাল জীবন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত মেসেজ সব মিলিয়ে এমন এক জায়গা তৈরি হয়েছে যেখানে ভুলগুলো খুব নীরব। কিন্তু আঘাত প্রচণ্ড। স্প্যানিশ লেখক ম্যানুয়েল জাবোইসের বন্ধুর মতো মানুষের সংখ্যাও আজ নেহাত কম নয়। তারা মাসের পর মাস অন্য কারও সঙ্গে আলাপ, নিয়মিত মেসেজ, ছবি আদান-প্রদান করে। তারপর আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলে ‘আমরা তো একে অন্যকে ছুঁইনি’। এ যুক্তি এখন আর টেকে না, কারণ আসল প্রশ্নটা শরীরের নয়। বিশ্বাস ভাঙে কোথায়, সেটিই মুখ্য। এল পাইস।
যৌন বিশেষজ্ঞ ভ্যালেরি ট্যাসো বলেন, প্রতারণা আসলে সামাজিক ধারণা। বদলায় সময়ের সঙ্গে। ডিজিটাল জগৎ এই বদলকে ত্বরান্বিত করেছে। অনলিফ্যানসের মতো প্ল্যাটফর্মে হয়তো আপনি শুধু কনটেন্ট দেখছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত কথোপকথন শুরু হলেই সম্পর্কের ভেতর অদৃশ্য দেয়াল উঠে আসে। কখনো তো আবার সেখানে মানুষই নেই। থাকে কোনো চ্যাটবট। তবু প্রশ্ন একই। কারও সঙ্গে আবেগের টানাপড়েন তৈরি হলে সেটি কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রতারণার সংজ্ঞা প্রযুক্তি ঠিক করে দেবে না; ঠিক করবেন দুজন মানুষ। কেউ প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলাকে স্বাভাবিক মনে করেন, কারও কাছে সেটিই অসম্মান। তাই প্রয়োজন খোলামেলা আলোচনা। ‘এতে আমার অস্বস্তি হচ্ছে’, ‘এটি আমাকে নিরাপত্তাহীন করে’ এ ধরনের কথা বলতে পারাই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে।
এখানেই আসে ‘মাইক্রো-চিটিং’ ধারণা। নামটা যত হালকা শোনায়, এর প্রভাব ততটা হালকা নয়। অন্য কারও ছবিতে বারবার লাইক দেওয়া, মেসেজ রিপ্লাই দিতে ছুটে যাওয়া, নিজের সমস্যাগুলো সঙ্গীর বদলে অন্য কাউকে বলা এসবেই কোথাও না কোথাও আবেগ সরে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ইরাৎসে লোপেজের ভাষায়, বিশ্বাস যদি ভাঙে, তা হলে ক্ষুদ্র বলে কিছু থাকে না। ফাঁকটা যত ছোটই হোক, সেখান থেকেই ফাটল তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকাল সোফায় বসেই অন্যের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। আবেগঘন মেসেজ পাঠানো বা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘লাইক’ দেওয়া—এগুলো শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে কম নয়। এখানে শরীর দিয়ে নয়, আবেগ দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়।
সম্পর্ক বিশারদরা বলেন, বেশিরভাগ প্রতারণাই শুরু হয় সাধারণ কথাবার্তা দিয়ে। যে ঘরে কেউ অবহেলা পান, বাইরে যদি গুরুত্ব পেয়ে যান, ঝুঁকি তখনই তৈরি হয়। অনলাইনে এই গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্র সীমাহীন। একটি ইনবক্স, একটি লাইক, একটি শুভরাত্রি মেসেজই কখনো কখনো সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে করে দেয়।
সম্পর্কে গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি থাকা জরুরি। তবে ফোনের পাসওয়ার্ড দেওয়া-নেওয়া বা সঙ্গীর ওপর নজরদারি করা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।
ভ্যালেরি ট্যাসো বলেন, অবিশ্বাস নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সীমারেখা ঠিক করতে হবে। সুস্থ সম্পর্কে সবারই নিজস্ব জগৎ থাকা উচিত।
মনোবিজ্ঞানী লারা ফেরেইরো বলেন, স্বচ্ছতা মানে এই নয় যে সব মেসেজ দেখাতে হবে। বিশ্বাসই হলো আসল। কৌতূহলবশত কিছু দেখা আর প্রতারণা এক নয়। তবে প্রযুক্তিকে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহার না করে খোলামেলা কথা বলাই শ্রেয়। অ্যাশলে ম্যাডিসন অ্যাপের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন শারীরিক সম্পর্ক প্রতারণা। তবে ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করেন ভার্চুয়ালি ফ্লার্ট করাও প্রতারণা। অর্থাৎ বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের সীমারেখা এখন বদলে গেছে।
জাবোইস তাই ঠাট্টা করে হলেও ঠিকই বলেছেন, দিনে ২০০ মেসেজ, ছবির আদান-প্রদান, সারাক্ষণ ফোনে বুঁদ থাকার পরও দাবি করা যে এটি প্রতারণা নয়, কারণ দুজন মানুষ একে অন্যকে স্পর্শ করেনি তা সত্যিই হাস্যকর। কারণ প্রতারণা এখন শরীরের বিষয় নয়। বরং মন কোথায় যাচ্ছে, সময় কার কাছে দেওয়া হচ্ছে, গোপন কথা কার সঙ্গে ভাগ হচ্ছে এসবেই লুকিয়ে থাকে আসল আঘাত। আজকের দিনে প্রতারণা বাইরে নয়, ফোনের ভেতরে বেশি ঘটে। আর মাইক্রো-চিটিং ঠিক সেই জায়গাটাই দেখায় কখনো সামান্য একটি লাইকই হয়ে ওঠে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
বিশ্বে মাইক্রো-চিটিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু আজকের ফোনভরা জীবনে এটি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লিলি অ্যালেনের সেই তীব্র বিচ্ছেদের গল্প শুরুতে মনে করিয়ে দেয় যে প্রতারণার রূপ বদলে গেছে। সম্পর্ক ভাঙতে এখন আর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা লাগছে না; হাতের স্মার্টফোনই হয়ে উঠেছে গোপন দরজা। যেখানে কত কথা, কত ইঙ্গিত, কত অনুভূতি জমা হয়ে থাকে নিজ সঙ্গীর অজান্তেই। এই জগৎ যেন আরেকটি সমান্তরাল জীবন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত মেসেজ সব মিলিয়ে এমন এক জায়গা তৈরি হয়েছে যেখানে ভুলগুলো খুব নীরব। কিন্তু আঘাত প্রচণ্ড। স্প্যানিশ লেখক ম্যানুয়েল জাবোইসের বন্ধুর মতো মানুষের সংখ্যাও আজ নেহাত কম নয়। তারা মাসের পর মাস অন্য কারও সঙ্গে আলাপ, নিয়মিত মেসেজ, ছবি আদান-প্রদান করে। তারপর আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলে ‘আমরা তো একে অন্যকে ছুঁইনি’। এ যুক্তি এখন আর টেকে না, কারণ আসল প্রশ্নটা শরীরের নয়। বিশ্বাস ভাঙে কোথায়, সেটিই মুখ্য। এল পাইস।
যৌন বিশেষজ্ঞ ভ্যালেরি ট্যাসো বলেন, প্রতারণা আসলে সামাজিক ধারণা। বদলায় সময়ের সঙ্গে। ডিজিটাল জগৎ এই বদলকে ত্বরান্বিত করেছে। অনলিফ্যানসের মতো প্ল্যাটফর্মে হয়তো আপনি শুধু কনটেন্ট দেখছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত কথোপকথন শুরু হলেই সম্পর্কের ভেতর অদৃশ্য দেয়াল উঠে আসে। কখনো তো আবার সেখানে মানুষই নেই। থাকে কোনো চ্যাটবট। তবু প্রশ্ন একই। কারও সঙ্গে আবেগের টানাপড়েন তৈরি হলে সেটি কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রতারণার সংজ্ঞা প্রযুক্তি ঠিক করে দেবে না; ঠিক করবেন দুজন মানুষ। কেউ প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলাকে স্বাভাবিক মনে করেন, কারও কাছে সেটিই অসম্মান। তাই প্রয়োজন খোলামেলা আলোচনা। ‘এতে আমার অস্বস্তি হচ্ছে’, ‘এটি আমাকে নিরাপত্তাহীন করে’ এ ধরনের কথা বলতে পারাই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে।
এখানেই আসে ‘মাইক্রো-চিটিং’ ধারণা। নামটা যত হালকা শোনায়, এর প্রভাব ততটা হালকা নয়। অন্য কারও ছবিতে বারবার লাইক দেওয়া, মেসেজ রিপ্লাই দিতে ছুটে যাওয়া, নিজের সমস্যাগুলো সঙ্গীর বদলে অন্য কাউকে বলা এসবেই কোথাও না কোথাও আবেগ সরে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ইরাৎসে লোপেজের ভাষায়, বিশ্বাস যদি ভাঙে, তা হলে ক্ষুদ্র বলে কিছু থাকে না। ফাঁকটা যত ছোটই হোক, সেখান থেকেই ফাটল তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকাল সোফায় বসেই অন্যের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। আবেগঘন মেসেজ পাঠানো বা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘লাইক’ দেওয়া—এগুলো শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে কম নয়। এখানে শরীর দিয়ে নয়, আবেগ দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়।
সম্পর্ক বিশারদরা বলেন, বেশিরভাগ প্রতারণাই শুরু হয় সাধারণ কথাবার্তা দিয়ে। যে ঘরে কেউ অবহেলা পান, বাইরে যদি গুরুত্ব পেয়ে যান, ঝুঁকি তখনই তৈরি হয়। অনলাইনে এই গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্র সীমাহীন। একটি ইনবক্স, একটি লাইক, একটি শুভরাত্রি মেসেজই কখনো কখনো সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে করে দেয়।
সম্পর্কে গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি থাকা জরুরি। তবে ফোনের পাসওয়ার্ড দেওয়া-নেওয়া বা সঙ্গীর ওপর নজরদারি করা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।
ভ্যালেরি ট্যাসো বলেন, অবিশ্বাস নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সীমারেখা ঠিক করতে হবে। সুস্থ সম্পর্কে সবারই নিজস্ব জগৎ থাকা উচিত।
মনোবিজ্ঞানী লারা ফেরেইরো বলেন, স্বচ্ছতা মানে এই নয় যে সব মেসেজ দেখাতে হবে। বিশ্বাসই হলো আসল। কৌতূহলবশত কিছু দেখা আর প্রতারণা এক নয়। তবে প্রযুক্তিকে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহার না করে খোলামেলা কথা বলাই শ্রেয়। অ্যাশলে ম্যাডিসন অ্যাপের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন শারীরিক সম্পর্ক প্রতারণা। তবে ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করেন ভার্চুয়ালি ফ্লার্ট করাও প্রতারণা। অর্থাৎ বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের সীমারেখা এখন বদলে গেছে।
জাবোইস তাই ঠাট্টা করে হলেও ঠিকই বলেছেন, দিনে ২০০ মেসেজ, ছবির আদান-প্রদান, সারাক্ষণ ফোনে বুঁদ থাকার পরও দাবি করা যে এটি প্রতারণা নয়, কারণ দুজন মানুষ একে অন্যকে স্পর্শ করেনি তা সত্যিই হাস্যকর। কারণ প্রতারণা এখন শরীরের বিষয় নয়। বরং মন কোথায় যাচ্ছে, সময় কার কাছে দেওয়া হচ্ছে, গোপন কথা কার সঙ্গে ভাগ হচ্ছে এসবেই লুকিয়ে থাকে আসল আঘাত। আজকের দিনে প্রতারণা বাইরে নয়, ফোনের ভেতরে বেশি ঘটে। আর মাইক্রো-চিটিং ঠিক সেই জায়গাটাই দেখায় কখনো সামান্য একটি লাইকই হয়ে ওঠে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
লোড হচ্ছে...