জাতীয়
প্লাস্টিকের দখলে শৈশব, কদর হারিয়েছে মাটির খেলনা
NHP NewsView

নিউজভিউ ডেস্ক
গ্রামবাংলার মেলা আর হাটে একসময় শিশুদের প্রধান আকর্ষণ ছিল মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া, পুতুল আর রঙবেরঙের হাঁড়িপাতিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মাটির সেই মায়াবী খেলনা এখন বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাজার দখল করেছে প্লাস্টিক আর মেলামাইনের সস্তা ও টেকসই খেলনা। এর ফলে এক সময়ের কর্মচঞ্চল পালপাড়াগুলোতে এখন নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়ে পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন অনেক মৃৎশিল্পী।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পালপাড়ার ঐতিহ্য ছিল মাটির হাঁড়িপাতিল আর খেলনা তৈরির কারুকার্য। মৃৎশিল্পী সরস্বতী রাণী আক্ষেপ করে জানান যে, তাদের তৈরি জিনিসের কদর এখন আর নেই। বাচ্চারা এখন রঙিন আর চকচকে প্লাস্টিকের খেলনা পছন্দ করে, যার ফলে মৃৎশিল্পীরা তাদের তৈরি পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের দাপটে মাটির এই শিল্পটি এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

কারুশিল্পীদের মতে এই সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম। আগে নিখরচায় বা সস্তায় মাটি পাওয়া গেলেও এখন তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি কাঠ ও রঙের খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। কারিগর রঞ্জিত পাল জানান যে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা দেখে তিনি তার সন্তানদের এই পেশায় আনেননি। স্থানীয় অন্য কারিগরদের ভাষ্যমতে মেলা বা উৎসবের আগে যে পাইকাররা অগ্রিম টাকা দিয়ে যেতেন তারা এখন আর আগের মতো আসেন না। আসলেও পণ্য নিয়ে যান বাকিতে।
অভিভাবকদের রুচিও এখন বদলে গেছে। দুই সন্তানের জনক হাফিজুর রহমান সুমন জানান যে প্লাস্টিকের খেলনা টেকসই ও রঙিন হওয়ায় তারা সেগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তবে পরিবেশবাদীরা বিষয়টিকে উদ্বেগের সাথে দেখছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল মনে করেন পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে মাটির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তার মতে এই শিল্পকে আধুনিকায়ন করতে পারলে নতুন বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব।

নিকলী উপজেলা প্রশাসন অবশ্য এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে কয়েকজন কারিগরকে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
গ্রামবাংলার মেলা আর হাটে একসময় শিশুদের প্রধান আকর্ষণ ছিল মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া, পুতুল আর রঙবেরঙের হাঁড়িপাতিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মাটির সেই মায়াবী খেলনা এখন বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাজার দখল করেছে প্লাস্টিক আর মেলামাইনের সস্তা ও টেকসই খেলনা। এর ফলে এক সময়ের কর্মচঞ্চল পালপাড়াগুলোতে এখন নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়ে পৈতৃক পেশা ছাড়ছেন অনেক মৃৎশিল্পী।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পালপাড়ার ঐতিহ্য ছিল মাটির হাঁড়িপাতিল আর খেলনা তৈরির কারুকার্য। মৃৎশিল্পী সরস্বতী রাণী আক্ষেপ করে জানান যে, তাদের তৈরি জিনিসের কদর এখন আর নেই। বাচ্চারা এখন রঙিন আর চকচকে প্লাস্টিকের খেলনা পছন্দ করে, যার ফলে মৃৎশিল্পীরা তাদের তৈরি পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের দাপটে মাটির এই শিল্পটি এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

কারুশিল্পীদের মতে এই সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম। আগে নিখরচায় বা সস্তায় মাটি পাওয়া গেলেও এখন তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি কাঠ ও রঙের খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। কারিগর রঞ্জিত পাল জানান যে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা দেখে তিনি তার সন্তানদের এই পেশায় আনেননি। স্থানীয় অন্য কারিগরদের ভাষ্যমতে মেলা বা উৎসবের আগে যে পাইকাররা অগ্রিম টাকা দিয়ে যেতেন তারা এখন আর আগের মতো আসেন না। আসলেও পণ্য নিয়ে যান বাকিতে।
অভিভাবকদের রুচিও এখন বদলে গেছে। দুই সন্তানের জনক হাফিজুর রহমান সুমন জানান যে প্লাস্টিকের খেলনা টেকসই ও রঙিন হওয়ায় তারা সেগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তবে পরিবেশবাদীরা বিষয়টিকে উদ্বেগের সাথে দেখছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল মনে করেন পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে মাটির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তার মতে এই শিল্পকে আধুনিকায়ন করতে পারলে নতুন বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব।

নিকলী উপজেলা প্রশাসন অবশ্য এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে কয়েকজন কারিগরকে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
লোড হচ্ছে...