জাতীয়
শিল্পী নাছির আহাম্মদ এর “সফরনামা” ।। আহমেদ বাবলু
NewsView

‘পরমার্থিক’ নামের একটি ওয়েবসাইটে শিল্পী খন্দকার নাছির আহাম্মদ এর ছবির ই-এক্সিবিশন “সফরনামা” দেখলাম। দেখে অপার্থিব যে অনুভূতি হলো তা নিয়ে কিছু বলতে চাই। একটু খুচরো সময় হাতে থেকে গেলে আপনাদের আমার অনুভূতির ঘরে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানাই।
নাছির আহাম্মদ মূলত ভাস্কর শিল্পী। তবে নিয়মিতভাবে চিত্রশিল্পেও নাছিরকে মগ্ন হতে দেখা যায়। ব্যক্তিগতভাবে চিত্রশিল্পের নাদান রসিক আমি। নাদান হওয়ায় লজ্জা নেই কোনো। গরীবের দেশে কজনই মৌলিক চাহিদার পিছনে ঘোড়া ছুটিয়ে শিল্পবোধে মগ্ন হতে পারে? তবে নাদান মানুষও কোথাও রসের ইংগিত পেলে কিছু বোঝার আগেই সেই রসে সে ডুবে যেতে পারে। নাছিরের ছবিতে আমিও বোঝা না-বোঝা নিয়ে ডুব দিয়ে এসেছি।
চিত্র শিল্পের মানুষদের যতটুকু দেখেছি সাধারণত তাদের বেশিরভাগই ছবির আর্ট ফর্ম নিয়ে সচেতন থাকতে দেখেছি। সেই ফর্মের মধ্য দিয়ে অবশ্যই শিল্পী তার চিন্তা ও অভিজ্ঞতাগুলো নিজের মতো করে প্রকাশ করে থাকেন। সেই শিল্প কেউ কেউ ধরতে পারেন কেউ হয়ত পারেন না। এই পারা না-পারার ধোঁয়াশায়ই শিল্পের শক্তি ও সৌন্দর্য।
তবে কিছু কিছু শিল্পী নিশ্চয়ই আছেন, যারা শিল্পের ফর্ম নিয়ে হয়ত অতটা ভাবিত হন না যতটা ভাবিত হন তার আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ভাব প্রকাশে। নাছির আহাম্মদকে তেমনই আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ভাব প্রকাশের শিল্পী মনে হয় আমার কাছে এবং দর্শক হিসেবে যখন আপনি তা দর্শন করবেন তখন বোঝা না-বোঝার দেয়াল ভেঙে আপনার আপন আত্মার ভেতরেও সেই ভাবের অনুরণন আপনি টের পাবেন। প্রতিটিই ছবিই আপনাকে সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করবে।
নাছির আদতে একজন সুফিবাদী শিল্পী। একজন সাধক। আমার কাছে তেমনই মনে হয়। অদ্ভুত ঘোরমগ্ন। প্রেমিক। যে ঘোর, যে প্রেম, নগরের ধোঁয়ায় ধুলায়, তত্ত্বে ও ধান্দবাদিতার রিলেরেসে নাছিরের মধ্যে অম্লান থেকে গেছে। নাছির নিজের আঁকা ছবির মোটিফ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বীকারোক্তি প্রকাশের এক জায়গায় বলেছে
“ঘোড়া আমার কাছে গতি, তেজ, অদম্য ইচ্ছা, আধ্যাত্মিক যাত্রা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতীক। লালনের গান, ফররুখ আহমেদের কবিতা, আল মাহমুদের চিত্রকল্প, সুফি ঐতিহ্য, মিনিয়েচার পেইন্টিং, বোরাকের মিথ, এমনকি কারবালার স্মৃতি—সবকিছু মিলিয়ে ঘোড়া এক বহুমাত্রিক চিহ্ন আমার কাছে।”
এই জেনে মনে পড়ল আমার একটি কবিতার কথা। সেই কবিতাটি তুলে দিতে ইচ্ছে করছে।
সবকিছু প্রকাশ করতে নেই ।। আহমেদ বাবলু
পৃথিবীর প্রথম যে ঘোড়াটি দৌড় শুরু করেছিল
গতকাল কথা হলো তার সাথে - এ কথা শুনেই
বন্ধুরা যেভাবে হা হা হা হা করে হেসে ওঠে
আমি বিব্রতবোধ করি। সকলেই আমাকে
পাগল অথবা চাপাবাজ বলে চালিয়ে দিতে চায়।
কাউকে বোঝাতে পারি না যখন থেকে আমার
ব্যক্তিগত বোধদয় হয়েছে তখন থেকেই সেই আদিম
ঘোড়াটির সাথে মাঝে মাঝেই কথা হয় আমার, আরও
পরিষ্কার করে বললে বলা যায় - ঘোড়াটি যে আমার
করোটিতে আজও দৌড়ায়, ডেকে ওঠে, আমাকে
তাড়া করে বেড়ায়, ঘাস খায় মহিনের ঘোড়াদের সাথে।
এই তথ্য সাধারণত আমি লুকিয়েই রাখি, আজ
প্রকাশ্যে এনে এইটুকু অন্তত বোঝা হলো –
আমাদের সবকিছু প্রকাশ করতে নেই,
কিছু কথা গহীনে গোপনে সঞ্চিত থাকা ভালো।
আপনাদের আমন্ত্রণ রইল নাছির আহাম্মদের আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ছবির প্রদর্শনী “সফরনামা” দর্শনে। দেখে আসুন। ভালো লাগবে। নাছিরের প্রতি আমার প্রেম ও শুভেচ্ছা জানাই।
নাছির আহাম্মদ মূলত ভাস্কর শিল্পী। তবে নিয়মিতভাবে চিত্রশিল্পেও নাছিরকে মগ্ন হতে দেখা যায়। ব্যক্তিগতভাবে চিত্রশিল্পের নাদান রসিক আমি। নাদান হওয়ায় লজ্জা নেই কোনো। গরীবের দেশে কজনই মৌলিক চাহিদার পিছনে ঘোড়া ছুটিয়ে শিল্পবোধে মগ্ন হতে পারে? তবে নাদান মানুষও কোথাও রসের ইংগিত পেলে কিছু বোঝার আগেই সেই রসে সে ডুবে যেতে পারে। নাছিরের ছবিতে আমিও বোঝা না-বোঝা নিয়ে ডুব দিয়ে এসেছি।
চিত্র শিল্পের মানুষদের যতটুকু দেখেছি সাধারণত তাদের বেশিরভাগই ছবির আর্ট ফর্ম নিয়ে সচেতন থাকতে দেখেছি। সেই ফর্মের মধ্য দিয়ে অবশ্যই শিল্পী তার চিন্তা ও অভিজ্ঞতাগুলো নিজের মতো করে প্রকাশ করে থাকেন। সেই শিল্প কেউ কেউ ধরতে পারেন কেউ হয়ত পারেন না। এই পারা না-পারার ধোঁয়াশায়ই শিল্পের শক্তি ও সৌন্দর্য।
তবে কিছু কিছু শিল্পী নিশ্চয়ই আছেন, যারা শিল্পের ফর্ম নিয়ে হয়ত অতটা ভাবিত হন না যতটা ভাবিত হন তার আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ভাব প্রকাশে। নাছির আহাম্মদকে তেমনই আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ভাব প্রকাশের শিল্পী মনে হয় আমার কাছে এবং দর্শক হিসেবে যখন আপনি তা দর্শন করবেন তখন বোঝা না-বোঝার দেয়াল ভেঙে আপনার আপন আত্মার ভেতরেও সেই ভাবের অনুরণন আপনি টের পাবেন। প্রতিটিই ছবিই আপনাকে সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করবে।
নাছির আদতে একজন সুফিবাদী শিল্পী। একজন সাধক। আমার কাছে তেমনই মনে হয়। অদ্ভুত ঘোরমগ্ন। প্রেমিক। যে ঘোর, যে প্রেম, নগরের ধোঁয়ায় ধুলায়, তত্ত্বে ও ধান্দবাদিতার রিলেরেসে নাছিরের মধ্যে অম্লান থেকে গেছে। নাছির নিজের আঁকা ছবির মোটিফ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বীকারোক্তি প্রকাশের এক জায়গায় বলেছে
“ঘোড়া আমার কাছে গতি, তেজ, অদম্য ইচ্ছা, আধ্যাত্মিক যাত্রা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতীক। লালনের গান, ফররুখ আহমেদের কবিতা, আল মাহমুদের চিত্রকল্প, সুফি ঐতিহ্য, মিনিয়েচার পেইন্টিং, বোরাকের মিথ, এমনকি কারবালার স্মৃতি—সবকিছু মিলিয়ে ঘোড়া এক বহুমাত্রিক চিহ্ন আমার কাছে।”
এই জেনে মনে পড়ল আমার একটি কবিতার কথা। সেই কবিতাটি তুলে দিতে ইচ্ছে করছে।
সবকিছু প্রকাশ করতে নেই ।। আহমেদ বাবলু
পৃথিবীর প্রথম যে ঘোড়াটি দৌড় শুরু করেছিল
গতকাল কথা হলো তার সাথে - এ কথা শুনেই
বন্ধুরা যেভাবে হা হা হা হা করে হেসে ওঠে
আমি বিব্রতবোধ করি। সকলেই আমাকে
পাগল অথবা চাপাবাজ বলে চালিয়ে দিতে চায়।
কাউকে বোঝাতে পারি না যখন থেকে আমার
ব্যক্তিগত বোধদয় হয়েছে তখন থেকেই সেই আদিম
ঘোড়াটির সাথে মাঝে মাঝেই কথা হয় আমার, আরও
পরিষ্কার করে বললে বলা যায় - ঘোড়াটি যে আমার
করোটিতে আজও দৌড়ায়, ডেকে ওঠে, আমাকে
তাড়া করে বেড়ায়, ঘাস খায় মহিনের ঘোড়াদের সাথে।
এই তথ্য সাধারণত আমি লুকিয়েই রাখি, আজ
প্রকাশ্যে এনে এইটুকু অন্তত বোঝা হলো –
আমাদের সবকিছু প্রকাশ করতে নেই,
কিছু কথা গহীনে গোপনে সঞ্চিত থাকা ভালো।
আপনাদের আমন্ত্রণ রইল নাছির আহাম্মদের আত্মার স্বতঃস্ফূর্ত ছবির প্রদর্শনী “সফরনামা” দর্শনে। দেখে আসুন। ভালো লাগবে। নাছিরের প্রতি আমার প্রেম ও শুভেচ্ছা জানাই।
লোড হচ্ছে...