লাইফস্টাইল
অন্যকে দেখলে নিজেরও হাই ওঠে কেন?
NewsView5

নিউজভিউ ডেস্ক
হাই তোলা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ঘুম পেলে, আলস্য লাগলে হাই তুলে খানিক স্বস্তি পাওয়া যায়। আবার অন্যকে হাই তুলতে দেখলে নিজেরও হাই তোলার ইচ্ছা জাগে। এবং তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই হয়। কেন এমন হয়?
অফিসে মিটিং চলছে। সামনে বসে সহকর্মী বড়সড় মুখ খুলে পেল্লায় হাই তুললেন। সেটা দেখামাত্র আপনারও দুই চোখ ছোট হয়ে এল, মুখটা নিজ থেকেই খুলে গেল, বুকভরে বাতাস টেনে আপনিও তুললেন লম্বা এক হাই!
সে আপনি চান বা না চান। শরীর ক্লান্ত থাকুক বা না থাকুক। হাই তো কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া নয়। অসুখবিসুখও নয়। তা-ও কেন এত ছোঁয়াচে? এক জনকে হাই তুলতে দেখলে অন্য জনেরও হাই ওঠে কেন?
কেন ওঠে হাই?
ছোট থেকে হয়তো শুনে আসছেন, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। মস্তিষ্কের পীড়াপীড়িতে ফুসফুস বাধ্য হয়ে বেশি বাতাস টানে, আর তাতেই হাই ওঠে। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মত, রক্তে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণের সঙ্গে হাই তোলার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এটি মগজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, হাই হল মস্তিষ্কের ‘কুলিং প্রসেস’। দিনভরের কাজ, হাজারো চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ক্লান্ত ও তেতেপুড়ে থাকা মস্তিষ্কও একমুঠো ঠান্ডা বাতাস খোঁজে। হাই তুলে তা পূরণ করে। মুখ বড়সড় হাঁ করে যখন হাই তোলেন, তখন বাইরের তাজা বাতাস সোজা মুখের ভিতরের কোষ হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছোয়। একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশিগুলি সঙ্কুচিত হয়ে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনকে দ্রুততর করে। তাই হাই হল মগজের নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। এর কাজই হল মাথা ঠান্ডা রাখা।
হাই তোলা মানেই কি ঘুম পাওয়া ?
হাই তোলা মানেই ঘুম পাওয়া নয়। হাই কিন্তু সজাগও করে। ধরুন, বেলায় টিফিন সেরে সবে ঝিমুনি আসছে। ভাতঘুম সবে চাগাড় দিয়েছে। ঘুম ও জাগরণের মাঝের অবস্থায় শরীর সঙ্কেত দিতে থাকে। সে সময়েও হাই ওঠে। হাই তোলার সময় বুকের পেশি প্রসারিত হয়, হৃৎস্পন্দন সাময়িক ভাবে বাড়ে, যা মস্তিষ্কে একটি ছোট্ট ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। শরীর বার্তা দেয়, যে এই সময়টা ঘুমোনোর নয়, বরং জেগে থাকাই জরুরি।
আদৌ কি ছোঁয়াচে?
হাই মগজের ‘কুলিং ফ্যান’, সে তো বোঝা গেল। হাই তুলে মাথা ঠান্ডা হয়, তা-ও মানা গেল। কিন্তু অন্যজন যখন হাই তুলে মগজকে তরতাজা করছেন, তখন আপনারও কেন হাই তোলার প্রয়োজন হল? হাই দেখলেই যে হাই তোলার ইচ্ছা জাগে, তা-ও কিন্তু মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কারসাজিতেই হয়।
গবেষকেরা বলছেন, হাই যে ছোঁয়াচে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে ছোঁয়াচে 'রোগ' নয়। মনোবিজ্ঞানে একে বলে ‘ক্যামেলিয়ন এফেক্ট’। মানুষের এমন একটি অবচেতন বা অচেতন স্বভাব, যার মাধ্যমে মানুষ অজান্তেই তার আশেপাশের মানুষের শারীরিক ভঙ্গি, মুখের ভাব, অঙ্গভঙ্গি ও কথা বলার ধরন বা সুর অনুকরণ করে। কেবল মানুষ নয়, অন্য প্রাণীদের মধ্যেও তা দেখা যায়। কেউ আপনার সামনে হাত গুটিয়ে বসলে কিছুক্ষণ পর খেয়াল করবেন, আপনিও হাত গুটিয়ে বসেছেন। ঠিক একই ভাবে, অন্য কাউকে মুখ হাঁ করে হাই তুলতে দেখলে, অজান্তেই কোনওরকম ইচ্ছা বা অনুভূতি ছাড়াই, মস্তিষ্ক তা অনুকরণ করার সঙ্কেত দেয়।
হাই তোলার সময়ে কী ঘটে মস্তিষ্কে?
আরও একটি কারণ হল ‘মিরর নিউরন’। মগজে এমন কিছু স্নায়ুকোষ আছে, যা সবসময়েই অনুকরণ করে চলে। অন্যে যে কাজ করছেন, যে ভাবে কথা বলছেন বা হাঁটাচলা করছেন, সেই রকমই অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এদেরই বলে ‘মিরর নিউরন’। সহানুভূতি বা সমবেদনা জানানো, অন্যের আচরণ ও উদ্দেশ্য বোঝা, অনুকরণ করা বা দেখে শেখার চেষ্টা— এই সব কাজের সঙ্গে এরা জড়িত। হাই তোলা নকল করতেও এরা পারদর্শী।
অন্যকে দেখে হাই তোলার ইচ্ছা কেন জাগে, তার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথা বলেছেন গবেষকেরা। সেটি হল ‘এমপ্যাথি’। অন্যের দুঃখ, কষ্ট, বা অনুভূতি নিজের মতো করে অনুভব করার বা গভীর ভাবে বোঝার মানসিক ক্ষমতা। অন্যকে হাই তুলতে দেখলেও মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলি একসঙ্গে সক্রিয় হয়। তাই হাই তোলা দেখলে নিজেরও হাই ওঠে।
এমন ক্ষমতা প্রাণীদের মধ্যেও রয়েছে। এমনও দেখা গিয়েছে, মালিককে হাই তুলতে দেখলে পোষ্য কুকুর বা বিড়ালও তাতে সাড়া দেয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এই নিয়ে গবেষণাও চলছে।
গবেষকেরা বলছেন, এমন মানসিক অবস্থা অটিজ়ম বা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের থাকে না। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতি দেখা যায়। তাই দেখা গিয়েছে, হাই তুলতে দেখলে তারা সাড়া দেয় না। তাই হাই তোলা কেবল ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, আবেগ-অনুভূতির সঙ্গেও এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
অফিসে মিটিং চলছে। সামনে বসে সহকর্মী বড়সড় মুখ খুলে পেল্লায় হাই তুললেন। সেটা দেখামাত্র আপনারও দুই চোখ ছোট হয়ে এল, মুখটা নিজ থেকেই খুলে গেল, বুকভরে বাতাস টেনে আপনিও তুললেন লম্বা এক হাই!
সে আপনি চান বা না চান। শরীর ক্লান্ত থাকুক বা না থাকুক। হাই তো কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া নয়। অসুখবিসুখও নয়। তা-ও কেন এত ছোঁয়াচে? এক জনকে হাই তুলতে দেখলে অন্য জনেরও হাই ওঠে কেন?
কেন ওঠে হাই?
ছোট থেকে হয়তো শুনে আসছেন, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। মস্তিষ্কের পীড়াপীড়িতে ফুসফুস বাধ্য হয়ে বেশি বাতাস টানে, আর তাতেই হাই ওঠে। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মত, রক্তে অক্সিজেন বা কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণের সঙ্গে হাই তোলার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এটি মগজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, হাই হল মস্তিষ্কের ‘কুলিং প্রসেস’। দিনভরের কাজ, হাজারো চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ক্লান্ত ও তেতেপুড়ে থাকা মস্তিষ্কও একমুঠো ঠান্ডা বাতাস খোঁজে। হাই তুলে তা পূরণ করে। মুখ বড়সড় হাঁ করে যখন হাই তোলেন, তখন বাইরের তাজা বাতাস সোজা মুখের ভিতরের কোষ হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছোয়। একই সঙ্গে চোখ ও গালের পেশিগুলি সঙ্কুচিত হয়ে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনকে দ্রুততর করে। তাই হাই হল মগজের নিজস্ব শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। এর কাজই হল মাথা ঠান্ডা রাখা।
হাই তোলা মানেই কি ঘুম পাওয়া ?
হাই তোলা মানেই ঘুম পাওয়া নয়। হাই কিন্তু সজাগও করে। ধরুন, বেলায় টিফিন সেরে সবে ঝিমুনি আসছে। ভাতঘুম সবে চাগাড় দিয়েছে। ঘুম ও জাগরণের মাঝের অবস্থায় শরীর সঙ্কেত দিতে থাকে। সে সময়েও হাই ওঠে। হাই তোলার সময় বুকের পেশি প্রসারিত হয়, হৃৎস্পন্দন সাময়িক ভাবে বাড়ে, যা মস্তিষ্কে একটি ছোট্ট ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। শরীর বার্তা দেয়, যে এই সময়টা ঘুমোনোর নয়, বরং জেগে থাকাই জরুরি।
আদৌ কি ছোঁয়াচে?
হাই মগজের ‘কুলিং ফ্যান’, সে তো বোঝা গেল। হাই তুলে মাথা ঠান্ডা হয়, তা-ও মানা গেল। কিন্তু অন্যজন যখন হাই তুলে মগজকে তরতাজা করছেন, তখন আপনারও কেন হাই তোলার প্রয়োজন হল? হাই দেখলেই যে হাই তোলার ইচ্ছা জাগে, তা-ও কিন্তু মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কারসাজিতেই হয়।
গবেষকেরা বলছেন, হাই যে ছোঁয়াচে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে ছোঁয়াচে 'রোগ' নয়। মনোবিজ্ঞানে একে বলে ‘ক্যামেলিয়ন এফেক্ট’। মানুষের এমন একটি অবচেতন বা অচেতন স্বভাব, যার মাধ্যমে মানুষ অজান্তেই তার আশেপাশের মানুষের শারীরিক ভঙ্গি, মুখের ভাব, অঙ্গভঙ্গি ও কথা বলার ধরন বা সুর অনুকরণ করে। কেবল মানুষ নয়, অন্য প্রাণীদের মধ্যেও তা দেখা যায়। কেউ আপনার সামনে হাত গুটিয়ে বসলে কিছুক্ষণ পর খেয়াল করবেন, আপনিও হাত গুটিয়ে বসেছেন। ঠিক একই ভাবে, অন্য কাউকে মুখ হাঁ করে হাই তুলতে দেখলে, অজান্তেই কোনওরকম ইচ্ছা বা অনুভূতি ছাড়াই, মস্তিষ্ক তা অনুকরণ করার সঙ্কেত দেয়।
হাই তোলার সময়ে কী ঘটে মস্তিষ্কে?
আরও একটি কারণ হল ‘মিরর নিউরন’। মগজে এমন কিছু স্নায়ুকোষ আছে, যা সবসময়েই অনুকরণ করে চলে। অন্যে যে কাজ করছেন, যে ভাবে কথা বলছেন বা হাঁটাচলা করছেন, সেই রকমই অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এদেরই বলে ‘মিরর নিউরন’। সহানুভূতি বা সমবেদনা জানানো, অন্যের আচরণ ও উদ্দেশ্য বোঝা, অনুকরণ করা বা দেখে শেখার চেষ্টা— এই সব কাজের সঙ্গে এরা জড়িত। হাই তোলা নকল করতেও এরা পারদর্শী।
অন্যকে দেখে হাই তোলার ইচ্ছা কেন জাগে, তার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথা বলেছেন গবেষকেরা। সেটি হল ‘এমপ্যাথি’। অন্যের দুঃখ, কষ্ট, বা অনুভূতি নিজের মতো করে অনুভব করার বা গভীর ভাবে বোঝার মানসিক ক্ষমতা। অন্যকে হাই তুলতে দেখলেও মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলি একসঙ্গে সক্রিয় হয়। তাই হাই তোলা দেখলে নিজেরও হাই ওঠে।
এমন ক্ষমতা প্রাণীদের মধ্যেও রয়েছে। এমনও দেখা গিয়েছে, মালিককে হাই তুলতে দেখলে পোষ্য কুকুর বা বিড়ালও তাতে সাড়া দেয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এই নিয়ে গবেষণাও চলছে।
গবেষকেরা বলছেন, এমন মানসিক অবস্থা অটিজ়ম বা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের থাকে না। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক সহমর্মিতার ঘাটতি দেখা যায়। তাই দেখা গিয়েছে, হাই তুলতে দেখলে তারা সাড়া দেয় না। তাই হাই তোলা কেবল ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, আবেগ-অনুভূতির সঙ্গেও এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
লোড হচ্ছে...