সাহিত্য-সংস্কৃতি
আউশভিৎজের ‘অ্যাঞ্জেল অফ ডেথ’ বিজ্ঞানের ছদ্মবেশে এক পৈশাচিক অধ্যায়
NewsView4

আজিজুল ইসলাম চৌধুরী

ডাক্তার শব্দটির প্রতিশব্দ কী? এ প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করলে এর উত্তর কারো কাছে হবে চিকিৎসক, কারো কাছে নির্ভরতা, আবার কারো কাছে ত্রাতা। কিন্তু ইতিহাসে এমন একজন বিকৃত মস্তিষ্কের ডাক্তারের নাম উল্লেখ রয়েছে যার নাম জোসেফ মেঙ্গেল। আমেরিকান বিখ্যাত লেখক এবং কৌতুকশিল্পী মার্ক টোয়াইন এর বিখ্যাত একটি উক্তি, “বাস্তব ঘটনা কল্পকাহিনীর চেয়েও বিস্ময়কর হতে পারে”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আউশভিৎজ শিবিরে ঘটে যাওয়া নারকীয় সব ঘটনার মধ্য অন্যতম একটা ঘটনা হচ্ছে জোসেফ মেঙ্গেল এর মানবদেহ নিয়ে সব পৈশাচিক পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং পরবর্তীতে যা নিয়ে অসংখ্য জনপ্রিয় বই, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু হয়েছেন। তবে এসব চিত্রায়নের অনেকগুলোই মেঙ্গেলের অপরাধের প্রকৃত তথ্য বিকৃত করে এবং তাকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করে। কেউ কেউ তাকে একজন 'পাগল বিজ্ঞানী' হিসেবে দেখান যিনি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই কেবল পৈশাচিক পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। মেঙ্গেল সম্পর্কে আসল সত্যটি আরও বেশি উদ্বেগজনক। তিনি ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা গবেষক, সেইসাথে একজন পদকজয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সৈনিক। তিনি তার কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মানিত ছিলেন এবং জার্মানির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। আউশভিৎজে তার পরিচালিত অনেক চিকিৎসা গবেষণা অন্যান্য জার্মান বিজ্ঞানীদের কাজকেই সহায়তা করত। নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের ওপর পরীক্ষা চালানো কয়েক ডজন বায়োমেডিকেল গবেষকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। এছাড়াও আউশভিৎজের গ্যাস চেম্বারে হত্যার জন্য শিকার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অনেক চিকিৎসা পেশাদারদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন। নাৎসি শাসনামলে জার্মান বিজ্ঞানের যে ধারা ছিল, মেঙ্গেল সেই নিয়ম মেনেই কাজ করেছিলেন। তার অপরাধগুলো বিজ্ঞানের সেই চরম বিপদকে তুলে ধরে, যখন বিজ্ঞান এমন এক আদর্শের সেবায় নিয়োজিত হয় যা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং মানবতাকে অস্বীকার করে।
জোসেফ মেঙ্গেল ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের গুঞ্জবার্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কৃষি সরঞ্জাম তৈরির এক সমৃদ্ধশালী শিল্পপতি কার্ল মেঙ্গেলের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। মেঙ্গেল বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যা এবং শারীরিক নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৭ সালে মেঙ্গেল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে 'ইনস্টিটিউট ফর হেরিডিটারি বায়োলজি অ্যান্ড রেশিয়াল হাইজিন' এ কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. ওটমার ফন ভার্শুয়ারের সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ভার্শুয়ার ছিলেন একজন প্রখ্যাত জিনতত্ত্ববিদ, যিনি যমজদের ওপর গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ভার্শুয়ারের তত্ত্বাবধানে মেঙ্গেল ১৯৩৮ সালে আরও একটি ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
জোসেফ মেঙ্গেল ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের গুঞ্জবার্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কৃষি সরঞ্জাম তৈরির এক সমৃদ্ধশালী শিল্পপতি কার্ল মেঙ্গেলের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। মেঙ্গেল বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যা এবং শারীরিক নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৭ সালে মেঙ্গেল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে 'ইনস্টিটিউট ফর হেরিডিটারি বায়োলজি অ্যান্ড রেশিয়াল হাইজিন' এ কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. ওটমার ফন ভার্শুয়ারের সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ভার্শুয়ার ছিলেন একজন প্রখ্যাত জিনতত্ত্ববিদ, যিনি যমজদের ওপর গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ভার্শুয়ারের তত্ত্বাবধানে মেঙ্গেল ১৯৩৮ সালে আরও একটি ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

সাল ১৯৪৩, চিকিৎসক জোসেফ মেঙ্গেল আউশভিৎজে শিবিরে নিযুক্ত হন। তিনি এই ক্যাম্পে যমজ শিশু ও বন্দিদের ওপর অমানবিক ও প্রাণঘাতী চিকিৎসা পরীক্ষা শুরু করেন। আউশভিৎজের ক্যাম্পের দায়িত্বের অংশ হিসেবে চিকিৎসা কর্মীরা তথাকথিত বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন। এই বাছাইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল যারা কাজ করতে অক্ষম তাদের শনাক্ত করা। এসএস এই ধরনের ব্যক্তিদের অকেজো মনে করত এবং তাই তাদের হত্যা করা হতো। যখন ইহুদিদের বহনকারী ট্রেনগুলো বীরকেনাউতে পৌঁছাত ক্যাম্পের চিকিৎসকরা সক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য আলাদা করতেন। শিশু এবং বৃদ্ধসহ যারা শ্রমের জন্য নির্বাচিত হতো না, তাদের গ্যাস চেম্বারে নিয়ে হত্যা করা হতো।
আউশভিৎজ এবং অন্যান্য কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের চিকিৎসকরা ক্যাম্পের হাসপাতাল এবং ব্যারাকগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে এই বাছাই কাজ চালাতেন। তারা আহত অথবা কাজ করার জন্য অতিরিক্ত অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়া বন্দিদের শনাক্ত করতে এটি করতেন। এসএস এই বন্দিদের হত্যা করার জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন এবং বিষাক্ত গ্যাসসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করত। মেঙ্গেল নিয়মিতভাবে বীরকেনাউতে এই ধরনের বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন। একারণেই অনেক বন্দি তাকে Angel of Death বলে ডাকত। বীরকেনাউর একজন ইহুদি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বন্দি গিজেলা পার্ল পরবর্তীতে স্মৃতিচারণ করেন যে, নারী হাসপাতালে মেঙ্গেলের উপস্থিতি বন্দিদের কতটা আতঙ্কিত করত: "আমরা এই পরিদর্শনগুলোকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি ভয় পেতাম, কারণ আমরা কখনোই জানতাম না যে আমাদের বেঁচে থাকতে দেওয়া হবে কি না,আমাদের নিয়ে যা খুশি করার পূর্ণ স্বাধীনতা তার ছিল।" — গিজেলা পার্লের স্মৃতিকথা I was a Doctor in Auschwitz (New York: International Universities Press, 1948)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, মেঙ্গেলের অধীনে কাজ করা বন্দি চিকিৎসক এবং তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা থেকে বেঁচে যাওয়া বন্দিদের বিবরণের কারণে মেঙ্গেল আউশভিৎজের কর্মকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠেন।
মেঙ্গেল আউশভিৎজে কর্মরত প্রায় ৫০ জন চিকিৎসকের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি আউশভিৎজ ক্যাম্প কমপ্লেক্সের সর্বোচ্চ পদের ডাক্তার ছিলেন না, এমনকি অন্য ডাক্তারদের কমান্ডারও ছিলেন না। তবুও, আউশভিৎজে কাজ করা সমস্ত ডাক্তারদের মধ্যে তার নামটিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এর একটি কারণ ছিল সেই প্ল্যাটফর্ম বা র্যাম্পগুলোতে মেঙ্গেলের ঘনঘন উপস্থিতি যেখানে বাছাই প্রক্রিয়া চলত। মেঙ্গেল যখন নিজে বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকতেন না, তখনও তাকে প্রায়ই সেখানে দেখা যেত; তিনি বন্দিদের মধ্যে তার গবেষণার জন্য যমজ সন্তান খুঁজতেন। এছাড়া বীরকেনাউ হাসপাতালের জন্য তিনি বন্দিদের মধ্য থেকে ডাক্তার খুঁজতেন। ফলস্বরূপ, আউশভিৎজে পৌঁছানোর পর যারা বাছাই প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেঙ্গেলই সেই ডাক্তার যিনি তাদের বেছে নিয়েছিলেন।
আউশভিৎজে তার নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে মেঙ্গেল বন্দিদের ওপর নিজস্ব গবেষণা ও পরীক্ষা চালাতেন। তার মেন্টর ভার্শুয়ার সম্ভবত কায়সার উইলহেম ইনস্টিটিউট (KWI-A) এর গবেষণায় সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই মেঙ্গেলকে আউশভিৎজে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। আউশভিৎজে থাকাকালীন মেঙ্গেল তার সহকর্মীদের কাছে রক্ত, শরীরের অংশ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, কঙ্কাল এবং ভ্রূণ পাঠাতেন যা সবই আউশভিৎজের বন্দিদের শরীর থেকে নেওয়া হয়েছিল। KWI-A এর কাজের পাশাপাশি মেঙ্গেল নিজেরও কিছু পরীক্ষা চালাতেন। তিনি আশা করেছিলেন যে এর ফলাফলগুলো প্রকাশ করার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার যোগ্যতা অর্জন করবেন। মেঙ্গেল সেখানে বেশ কয়েকটি ব্যারাকে একটি গবেষণা কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছিলেন এবং বন্দিদের মধ্য থেকেই যারা চিকিৎসা পেশাজীবী ছিলেন তাদের দিয়ে নিজের কর্মী দল গঠন করেছিলেন। তিনি তার গবেষণার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এমনকি একটি প্যাথলজি ল্যাবও স্থাপন করেছিলেন।
মেঙ্গেলের নিজস্ব গবেষণা এবং KWI-A এর জন্য করা গবেষণাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল জিন কীভাবে নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করে তা খুঁজে বের করা। নৈতিকভাবে করা হলে এটি জিনতত্ত্বের একটি বৈধ এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু মেঙ্গেল ও ভার্শুয়ারের কাজ ছিল বর্ণবাদের একটি ভ্রান্ত ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দ্বারা বিকৃত। এই তত্ত্ব অনুযায়ী:মানব জাতিগুলো একে অপরের থেকে জিনগতভাবে আলাদা। জাতিগুলোর মধ্যে একটি ক্রমবিন্যাস আছে, যেখানে নিম্নতর জাতিগুলো উচ্চতর জাতির তুলনায় জিনগতভাবে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কেবল শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতাই নয়, বরং ভবঘুরে স্বভাব,পতিতাবৃত্তি এবং অপরাধ প্রবণতার মতো সামাজিক আচরণকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এই ভ্রান্ত তত্ত্ব অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিয়ে তথাকথিত উচ্চতর জাতির মধ্যে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য ছড়িয়ে দেয় এবং জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব নষ্ট করে।
মেঙ্গেল এমন কিছু শারীরিক ও জৈব রাসায়নিক চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন যা দিয়ে নির্দিষ্ট জাতির সদস্যদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এই গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। মেঙ্গেল এবং তার সহকর্মীদের কাছে এই গবেষণার গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, তারা তথাকথিত নিম্নতর জাতির মানুষের (আউশভিৎজের বন্দি) ওপর ক্ষতিকর এবং প্রাণঘাতী পরীক্ষা চালানোকেও ন্যায়সঙ্গত মনে করতেন। মেঙ্গেল তার পরীক্ষার জন্য প্রধানত দুটি জাতিগোষ্ঠীকে বেছে নিয়েছিলেন: রোমানি এবং ইহুদি। নাৎসি জার্মানির বায়োমেডিকেল গবেষকদের কাছে এই দুটি গোষ্ঠী বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল। নাৎসি আদর্শ অনুযায়ী রোমানি এবং ইহুদিরা ছিল নিম্নমানবী এবং তারা জার্মান জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই কারণে, নাৎসি বিজ্ঞানীরা মনে করতেন যে এই গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর কোনো চিকিৎসা নীতি প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। মেঙ্গেল যখন আউশভিৎজ-বীরকেনাউতে কর্মরত ছিলেন, তখন সেখানে ২০,০০০-এর বেশি রোমানি বন্দি ছিল এবং লক্ষ লক্ষ ইহুদি সেখানে পৌঁছাত। বিশ্বের আর কোথাও বিজ্ঞানীরা এক জায়গায় এত বিপুল সংখ্যক নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে পেতেন না। জনৈক সহকর্মীর মতে, মেঙ্গেল বলতেন যে আউশভিৎজের এই সুযোগ কাজে না লাগানো হবে একটি অপরাধ ।মেঙ্গেল রোমানি পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়েছিলেন। যখন ক্যাম্পে রোমানি শিশুদের মধ্যে 'নোমা' (এক ধরনের মুখের গ্যাংগ্রিন) ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি বন্দি চিকিৎসকদের এটি নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দেন। নোমা মূলত চরম অপুষ্টির কারণে হয়, কিন্তু মেঙ্গেল বিশ্বাস করতেন এটি বংশগত কারণে হচ্ছে। বন্দি চিকিৎসকরা এর নিরাময় খুঁজে পেলেও, সুস্থ হয়ে যাওয়া শিশুদের শেষ পর্যন্ত গ্যাস চেম্বারে হত্যা করা হয়েছিল।
১৯৩০-এর দশকে যমজ শিশুরা ছিল জিনতত্ত্ব গবেষণার প্রধান বিষয়। আউশভিৎজে মেঙ্গেল শত শত যমজ জোড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি তাদের শরীরের প্রতিটি অংশ মেপে রেকর্ড করতেন, প্রচুর পরিমাণে রক্ত নিতেন এবং যন্ত্রণাদায়ক সব পরীক্ষা চালাতেন। "তারা আমাদের সারা শরীরে ইনজেকশন দিত। এর ফলে আমার বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার ঘাড় ফুলে যায়। তারা কোনো অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই তাকে অস্ত্রোপচার করেছিল।"
— লরেন্স আন্দ্রেয়াস মেনাচে (বন্দি নম্বর A 12090)-এর বিবরণ থেকে।
মেঙ্গেল প্রায়ই যমজদের একই সময়ে হত্যা করতেন যাতে তাদের মৃতদেহের ময়না-তদন্ত করে তুলনা করা যায়। মেঙ্গেল বামন, অতিমানবীয় উচ্চতাসম্পন্ন বা জন্মগতভাবে পা বাঁকা ব্যক্তিদের খুঁজতেন। তিনি তাদের ওপর গবেষণা চালিয়ে তাদের হত্যা করতেন এবং গবেষণার জন্য তাদের দেহ জার্মানিতে পাঠিয়ে দিতেন। এছাড়া 'হেটেরোক্রোমিয়া' (দুটি চোখের রঙ ভিন্ন হওয়া) সম্পন্ন ব্যক্তিদের চোখ উপড়ে নিয়ে তিনি তার সহকর্মীদের কাছে পাঠাতেন। মেঙ্গেলের অধিকাংশ শিকারই ছিল শিশু। তিনি তাদের সাথে ভালো আচরণ করতেন এবং চকলেট দিতেন, কিন্তু পরক্ষণেই তাদের ওপর নৃশংস অস্ত্রোপচার বা রাসায়নিক প্রয়োগ করতেন। বেঁচে যাওয়া মোশে ওফার বর্ণনা করেন যে, “মেঙ্গেল তার ভাই তিবির মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করেছিলেন এবং মাথায় পিন ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তিবি শেষ পর্যন্ত মোশের কোলেই মারা যায়”। ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে সোভিয়েত বাহিনী এগিয়ে এলে মেঙ্গেল আউশভিৎজ থেকে পালিয়ে যান। যুদ্ধের পর তিনি নাম ভাঁড়িয়ে মার্কিন যুদ্ধবন্দি হিসেবে ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে চিনতে না পেরে ছেড়ে দেয়। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানিতে ছদ্মনামে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন এবং পরে সপরিবারে আর্থিক সহায়তায় আর্জেন্টিনা পালিয়ে যান। ১৯৫৯ সালে পশ্চিম জার্মানি তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি প্যারাগুয়ে এবং পরে ব্রাজিলে পালিয়ে যান। ১৯৭৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের একটি রিসোর্টে সাঁতার কাটার সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি ডুবে মারা যান। তাকে 'উলফগ্যাং গেরহার্ড' নামে ছদ্মনামে সমাহিত করা হয়। ১৯৮৫ সালে জার্মানি, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টায় মেঙ্গেলের কবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ব্রাজিলে তার মৃতদেহ উত্তোলন করা হয় এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যে এটি জোসেফ মেঙ্গেলেরই দেহ। ১৯৯২ সালে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। মেঙ্গেল ৩৪ বছর পালিয়ে ছিলেন এবং কখনোই তার অপরাধের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি।
আউশভিৎজ এবং অন্যান্য কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের চিকিৎসকরা ক্যাম্পের হাসপাতাল এবং ব্যারাকগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে এই বাছাই কাজ চালাতেন। তারা আহত অথবা কাজ করার জন্য অতিরিক্ত অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়া বন্দিদের শনাক্ত করতে এটি করতেন। এসএস এই বন্দিদের হত্যা করার জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন এবং বিষাক্ত গ্যাসসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করত। মেঙ্গেল নিয়মিতভাবে বীরকেনাউতে এই ধরনের বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন। একারণেই অনেক বন্দি তাকে Angel of Death বলে ডাকত। বীরকেনাউর একজন ইহুদি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বন্দি গিজেলা পার্ল পরবর্তীতে স্মৃতিচারণ করেন যে, নারী হাসপাতালে মেঙ্গেলের উপস্থিতি বন্দিদের কতটা আতঙ্কিত করত: "আমরা এই পরিদর্শনগুলোকে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি ভয় পেতাম, কারণ আমরা কখনোই জানতাম না যে আমাদের বেঁচে থাকতে দেওয়া হবে কি না,আমাদের নিয়ে যা খুশি করার পূর্ণ স্বাধীনতা তার ছিল।" — গিজেলা পার্লের স্মৃতিকথা I was a Doctor in Auschwitz (New York: International Universities Press, 1948)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, মেঙ্গেলের অধীনে কাজ করা বন্দি চিকিৎসক এবং তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা থেকে বেঁচে যাওয়া বন্দিদের বিবরণের কারণে মেঙ্গেল আউশভিৎজের কর্মকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত হয়ে ওঠেন।
মেঙ্গেল আউশভিৎজে কর্মরত প্রায় ৫০ জন চিকিৎসকের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি আউশভিৎজ ক্যাম্প কমপ্লেক্সের সর্বোচ্চ পদের ডাক্তার ছিলেন না, এমনকি অন্য ডাক্তারদের কমান্ডারও ছিলেন না। তবুও, আউশভিৎজে কাজ করা সমস্ত ডাক্তারদের মধ্যে তার নামটিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এর একটি কারণ ছিল সেই প্ল্যাটফর্ম বা র্যাম্পগুলোতে মেঙ্গেলের ঘনঘন উপস্থিতি যেখানে বাছাই প্রক্রিয়া চলত। মেঙ্গেল যখন নিজে বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকতেন না, তখনও তাকে প্রায়ই সেখানে দেখা যেত; তিনি বন্দিদের মধ্যে তার গবেষণার জন্য যমজ সন্তান খুঁজতেন। এছাড়া বীরকেনাউ হাসপাতালের জন্য তিনি বন্দিদের মধ্য থেকে ডাক্তার খুঁজতেন। ফলস্বরূপ, আউশভিৎজে পৌঁছানোর পর যারা বাছাই প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেঙ্গেলই সেই ডাক্তার যিনি তাদের বেছে নিয়েছিলেন।
আউশভিৎজে তার নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে মেঙ্গেল বন্দিদের ওপর নিজস্ব গবেষণা ও পরীক্ষা চালাতেন। তার মেন্টর ভার্শুয়ার সম্ভবত কায়সার উইলহেম ইনস্টিটিউট (KWI-A) এর গবেষণায় সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই মেঙ্গেলকে আউশভিৎজে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। আউশভিৎজে থাকাকালীন মেঙ্গেল তার সহকর্মীদের কাছে রক্ত, শরীরের অংশ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, কঙ্কাল এবং ভ্রূণ পাঠাতেন যা সবই আউশভিৎজের বন্দিদের শরীর থেকে নেওয়া হয়েছিল। KWI-A এর কাজের পাশাপাশি মেঙ্গেল নিজেরও কিছু পরীক্ষা চালাতেন। তিনি আশা করেছিলেন যে এর ফলাফলগুলো প্রকাশ করার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার যোগ্যতা অর্জন করবেন। মেঙ্গেল সেখানে বেশ কয়েকটি ব্যারাকে একটি গবেষণা কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছিলেন এবং বন্দিদের মধ্য থেকেই যারা চিকিৎসা পেশাজীবী ছিলেন তাদের দিয়ে নিজের কর্মী দল গঠন করেছিলেন। তিনি তার গবেষণার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এমনকি একটি প্যাথলজি ল্যাবও স্থাপন করেছিলেন।
মেঙ্গেলের নিজস্ব গবেষণা এবং KWI-A এর জন্য করা গবেষণাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল জিন কীভাবে নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করে তা খুঁজে বের করা। নৈতিকভাবে করা হলে এটি জিনতত্ত্বের একটি বৈধ এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু মেঙ্গেল ও ভার্শুয়ারের কাজ ছিল বর্ণবাদের একটি ভ্রান্ত ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দ্বারা বিকৃত। এই তত্ত্ব অনুযায়ী:মানব জাতিগুলো একে অপরের থেকে জিনগতভাবে আলাদা। জাতিগুলোর মধ্যে একটি ক্রমবিন্যাস আছে, যেখানে নিম্নতর জাতিগুলো উচ্চতর জাতির তুলনায় জিনগতভাবে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কেবল শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতাই নয়, বরং ভবঘুরে স্বভাব,পতিতাবৃত্তি এবং অপরাধ প্রবণতার মতো সামাজিক আচরণকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এই ভ্রান্ত তত্ত্ব অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিয়ে তথাকথিত উচ্চতর জাতির মধ্যে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য ছড়িয়ে দেয় এবং জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব নষ্ট করে।
মেঙ্গেল এমন কিছু শারীরিক ও জৈব রাসায়নিক চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন যা দিয়ে নির্দিষ্ট জাতির সদস্যদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এই গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। মেঙ্গেল এবং তার সহকর্মীদের কাছে এই গবেষণার গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, তারা তথাকথিত নিম্নতর জাতির মানুষের (আউশভিৎজের বন্দি) ওপর ক্ষতিকর এবং প্রাণঘাতী পরীক্ষা চালানোকেও ন্যায়সঙ্গত মনে করতেন। মেঙ্গেল তার পরীক্ষার জন্য প্রধানত দুটি জাতিগোষ্ঠীকে বেছে নিয়েছিলেন: রোমানি এবং ইহুদি। নাৎসি জার্মানির বায়োমেডিকেল গবেষকদের কাছে এই দুটি গোষ্ঠী বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল। নাৎসি আদর্শ অনুযায়ী রোমানি এবং ইহুদিরা ছিল নিম্নমানবী এবং তারা জার্মান জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই কারণে, নাৎসি বিজ্ঞানীরা মনে করতেন যে এই গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর কোনো চিকিৎসা নীতি প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। মেঙ্গেল যখন আউশভিৎজ-বীরকেনাউতে কর্মরত ছিলেন, তখন সেখানে ২০,০০০-এর বেশি রোমানি বন্দি ছিল এবং লক্ষ লক্ষ ইহুদি সেখানে পৌঁছাত। বিশ্বের আর কোথাও বিজ্ঞানীরা এক জায়গায় এত বিপুল সংখ্যক নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে পেতেন না। জনৈক সহকর্মীর মতে, মেঙ্গেল বলতেন যে আউশভিৎজের এই সুযোগ কাজে না লাগানো হবে একটি অপরাধ ।মেঙ্গেল রোমানি পুরুষ, নারী ও শিশুদের ওপর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়েছিলেন। যখন ক্যাম্পে রোমানি শিশুদের মধ্যে 'নোমা' (এক ধরনের মুখের গ্যাংগ্রিন) ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি বন্দি চিকিৎসকদের এটি নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দেন। নোমা মূলত চরম অপুষ্টির কারণে হয়, কিন্তু মেঙ্গেল বিশ্বাস করতেন এটি বংশগত কারণে হচ্ছে। বন্দি চিকিৎসকরা এর নিরাময় খুঁজে পেলেও, সুস্থ হয়ে যাওয়া শিশুদের শেষ পর্যন্ত গ্যাস চেম্বারে হত্যা করা হয়েছিল।
১৯৩০-এর দশকে যমজ শিশুরা ছিল জিনতত্ত্ব গবেষণার প্রধান বিষয়। আউশভিৎজে মেঙ্গেল শত শত যমজ জোড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি তাদের শরীরের প্রতিটি অংশ মেপে রেকর্ড করতেন, প্রচুর পরিমাণে রক্ত নিতেন এবং যন্ত্রণাদায়ক সব পরীক্ষা চালাতেন। "তারা আমাদের সারা শরীরে ইনজেকশন দিত। এর ফলে আমার বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার ঘাড় ফুলে যায়। তারা কোনো অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই তাকে অস্ত্রোপচার করেছিল।"
— লরেন্স আন্দ্রেয়াস মেনাচে (বন্দি নম্বর A 12090)-এর বিবরণ থেকে।
মেঙ্গেল প্রায়ই যমজদের একই সময়ে হত্যা করতেন যাতে তাদের মৃতদেহের ময়না-তদন্ত করে তুলনা করা যায়। মেঙ্গেল বামন, অতিমানবীয় উচ্চতাসম্পন্ন বা জন্মগতভাবে পা বাঁকা ব্যক্তিদের খুঁজতেন। তিনি তাদের ওপর গবেষণা চালিয়ে তাদের হত্যা করতেন এবং গবেষণার জন্য তাদের দেহ জার্মানিতে পাঠিয়ে দিতেন। এছাড়া 'হেটেরোক্রোমিয়া' (দুটি চোখের রঙ ভিন্ন হওয়া) সম্পন্ন ব্যক্তিদের চোখ উপড়ে নিয়ে তিনি তার সহকর্মীদের কাছে পাঠাতেন। মেঙ্গেলের অধিকাংশ শিকারই ছিল শিশু। তিনি তাদের সাথে ভালো আচরণ করতেন এবং চকলেট দিতেন, কিন্তু পরক্ষণেই তাদের ওপর নৃশংস অস্ত্রোপচার বা রাসায়নিক প্রয়োগ করতেন। বেঁচে যাওয়া মোশে ওফার বর্ণনা করেন যে, “মেঙ্গেল তার ভাই তিবির মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করেছিলেন এবং মাথায় পিন ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তিবি শেষ পর্যন্ত মোশের কোলেই মারা যায়”। ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে সোভিয়েত বাহিনী এগিয়ে এলে মেঙ্গেল আউশভিৎজ থেকে পালিয়ে যান। যুদ্ধের পর তিনি নাম ভাঁড়িয়ে মার্কিন যুদ্ধবন্দি হিসেবে ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে চিনতে না পেরে ছেড়ে দেয়। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানিতে ছদ্মনামে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন এবং পরে সপরিবারে আর্থিক সহায়তায় আর্জেন্টিনা পালিয়ে যান। ১৯৫৯ সালে পশ্চিম জার্মানি তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি প্যারাগুয়ে এবং পরে ব্রাজিলে পালিয়ে যান। ১৯৭৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের একটি রিসোর্টে সাঁতার কাটার সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি ডুবে মারা যান। তাকে 'উলফগ্যাং গেরহার্ড' নামে ছদ্মনামে সমাহিত করা হয়। ১৯৮৫ সালে জার্মানি, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টায় মেঙ্গেলের কবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ব্রাজিলে তার মৃতদেহ উত্তোলন করা হয় এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যে এটি জোসেফ মেঙ্গেলেরই দেহ। ১৯৯২ সালে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। মেঙ্গেল ৩৪ বছর পালিয়ে ছিলেন এবং কখনোই তার অপরাধের জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি।
লোড হচ্ছে...