সারা দেশ
গোলপাতা বহনে ব্যবহার করা হয়
পেটকাটা নৌকা মেরামতে ব্যস্ত শ্রমিকরা
NewsView6

শিবসা নদীর চরে নৌকা মেরামত করা হচ্ছে
নিউজভিউ ডেস্ক
সুন্দরবনের গোলপাতা, মাছ, কাঠ ও মধু আহরণ শেষ হওয়ার পরে বন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় পেটকাটাসহ সকল নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে সুন্দরবন নির্ভর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
নদীপথে গোলপাতা বহন করতে ব্যবহƒত বিশেষ ধরণের নৌকাকে স্থানীয়রা পেটকাটা নৌকা বলেন। এটি আকারে অনেক বড় এবং পেটের দিকে চওড়া থাকে। নৌকার মাধখানে কিছু অংশ কাটা থাকে গোলপাতা লোড-আনলোড করার জন্য। বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবন থেকে কাটা গোলপাতা এই নৌকাগুলোতে করে বহন করা হয়।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের নলিয়ান রেঞ্জের পাঁচটি স্টেশন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এ নৌকা মেরামতের দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। নলিয়ান রেঞ্জের সুতারখাল কালাবগী, বানীয়াখালী, পাইকগাছা, হড্ডা, মৌখালী, বাশাখালী, গড়ইখালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, জোড়শিং, কাশিয়াবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় পেটকাটা নৌকা মেরামত ও তৈরির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পাইকগাছার শিববাড়িতে শিবসা নদীর চরে বড় নৌকা মেরামত করা হচ্ছে।
শীববাটি গ্রামের জয়নাল শেখ, কামাল গাজী ও মো. জলিল মোড়ল বলেন, আমাদের বড় নৌকাটি ১০ বছর আগে তৈরি করা। এখন প্রতিবছর গোলপাতা আহরণ শেষ হলে মেরামত করা লাগে। এতে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। আর নতুন একটি নৌকা নির্মাণে খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা। মো. সোহরাব ফকির বলেন, গোলপাতা বহন করা নৌকাগুলো অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। এ কারণে গোলপাতার মৌসুম শেষ হলে নৌকাগুলো নদীর চরে ফেলে রাখতে হয়। যার কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিবসা নদীর চরে পুরোনো বড় দুটি নৌকা মেরামতে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা। নৌকাগুলোতে শক্ত কাঠ দিয়ে বেঁধে নিচের পাটাতনে নতুন তক্তা বসানো হচ্ছে। আবার কোনো কোনো নৌকায় দেওয়া হচ্ছে আলকাতরার প্রলেপ। কাঠ মিস্ত্রী আছাবুর বলেন, সারা বছরই নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ করা হয়। তবে সুন্দরবন নির্ভর সকল মৌসুম শেষে মেরামতের কাজ বেশি থাকে। একটি বড় নৌকা মেরামতের ৩০ হাজার টাকা মুজুরি নেওয়া হচ্ছে।
বাওয়ালি আতিয়ার রহমার বলেন, এ বছর নৌকা মেরামতে খরচ বেশি হচ্ছে। ১৪ কেজির একটি আলকাতরার দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা। একটি নৌকায় আলকাতরা লাগে প্রায় ১০ টিন। সে হিসাবে শুধু আলকাতরা কেনায় খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা। এরপর মিস্ত্রি, শ্রমিক, কাঠ ও লোহা কেনা খরচ তো আছে।
সুন্দরবন বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই ও পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা-সাতক্ষীরার নির্দিষ্ট কুপ বা এলাকা থেকে গোলপাতা সংগ্রহের জন্য এ ধরণের বড় বড় পেট কাটা নৌকার প্রয়োজন হয়। সুন্দরবনের গোলপাতা আহরণের মৌসুম মূলত ৩ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৮ দিন ধরে চলে। প্রতিবছর দুই দফায় মোট ৫৬ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়। এখন মৌসুম শেষ হওয়ায় সকল নৌকা মেরামতে ব্যস্ত এ পেশার শ্রমিকরা।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতেই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় গোলপাতা ছাড়া অন্য কোনো কাঠ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
লোড হচ্ছে...