জাতীয়
ত্বকী হত্যার ১৩ বছর
কারা ঠেকিয়ে রেখেছে বিচার
NewsView

নিউজভিউ বিশেষ
তেরো বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার এখনো শুরুই হয়নি। এটি রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার এবং নাগরিকের জন্য ভয়ানক শঙ্কার। এই শঙ্কা তাড়ানোর জন্যই মানুষ প্রাণ দেয়। ভাষাটি বুঝতে পারতে হবে তাদের, যারা গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা রাখেন। কারণ নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে খুন করার অধিকার দেশের সংবিধান কাউকে দেয় না। আবার বিচারিক ন্যায্যতা হরণের অধিকারও কারো থাকতে পারে না। কিন্তু ত্বকী হত্যার বিচার ঠেকিয়ে দিয়ে অন্যায্যতাকেই উসকে দেওয়া।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়া এক মেধাবী কিশোরের নিথর দেহ দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে পাওয়া গিয়েছিল। সেই দিন থেকেই শুরু হয়েছে এক দীর্ঘ বিচারহীনতার ইতিহাস। ত্বকী এখন শুধু একটি নাম নয়—এটি ক্ষমতার ছায়ায় আটকে থাকা ন্যায়বিচারের প্রতীক।
ঘটনার পর তদন্তে বহুবার অগ্রগতির দাবি এসেছে, আবার থেমেও গেছে। বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। একাধিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, তদন্ত সংস্থার বক্তব্য—সবকিছুই যেন শেষ পর্যন্ত গিয়ে আটকে গেছে অদৃশ্য এক প্রাচীরে। ফলে প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্র কি সত্যিই এই হত্যার বিচার করতে চায়, নাকি ক্ষমতার চাপের কাছে বারবার পিছিয়ে যায়? কারা ঠেকিয়ে রেখেছে বিচার প্রক্রিয়া?
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে। কিন্তু এখনো সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। অথচ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবিচলভাবে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমবাতি হাতে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি যেন রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো বাকি।
সংবিধান কোনো সরকারকে নাগরিক হত্যার বিচার আটকে রাখার অধিকার দেয় না। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আইনের শাসনের মৌলিক নীতি একটাই—অপরাধীর বিচার হতে হবে। কিন্তু ত্বকী হত্যার ক্ষেত্রে সেই নীতিই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রায় দেড় বছর পার করে গেলেও ত্বকী হত্যার বিচারের স্পষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—খুনিদের প্রভাব কি এখনও এতটাই শক্তিশালী যে, রাষ্ট্রও তাদের সামনে নীরব? যদি সেটিই সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি হবে অন্তবর্তী সরকারের অন্যতম বড় বিচারিক ব্যর্থতা।
আমরা দেখেছি, জুলাই অভুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ঘটনায় দ্রুত গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাহলে একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? ন্যায়বিচারের প্রশ্ন কি এখনও ক্ষমতার রাজনীতির সাপলুডু?
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে ত্বকীকে অপহরণ করা হয়। দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড়ে পাওয়া যায় তার নিথর দেহ। মামলার পর ঘাতক সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক বিবরণ। সেখানে বলা হয়, তৎকালীন প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের উপস্থিতিতে গজারির লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে ত্বকীকে হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালে র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হাসান সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই দাবির পরও এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে জমা পড়েনি। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত অচল হয়ে আছে।
এই সময়ের মধ্যে বিচার চাওয়ার ‘অপরাধে’ ত্বকীর পরিবার ও আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে এসেছে দমন-পীড়ন। সাতটি মিথ্যা মামলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি—এসব সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি। বরং দেশের সীমানা পেরিয়ে ২৩টি দেশেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ হয়েছে।
তেরো বছর পর এসে প্রশ্নটি তাই আরও স্পষ্ট—এই হত্যার বিচার কি সত্যিই হবে? নাকি ত্বকী হত্যাও বাংলাদেশের বিচারহীনতার দীর্ঘ তালিকায় আরেকটি নাম হয়ে থাকবে?
রাষ্ট্রের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব একটাই—আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আর সেই পথের প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি নিঃসন্দেহে ত্বকী হত্যার বিচার।
তেরো বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার এখনো শুরুই হয়নি। এটি রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার এবং নাগরিকের জন্য ভয়ানক শঙ্কার। এই শঙ্কা তাড়ানোর জন্যই মানুষ প্রাণ দেয়। ভাষাটি বুঝতে পারতে হবে তাদের, যারা গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা রাখেন। কারণ নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকে খুন করার অধিকার দেশের সংবিধান কাউকে দেয় না। আবার বিচারিক ন্যায্যতা হরণের অধিকারও কারো থাকতে পারে না। কিন্তু ত্বকী হত্যার বিচার ঠেকিয়ে দিয়ে অন্যায্যতাকেই উসকে দেওয়া।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়া এক মেধাবী কিশোরের নিথর দেহ দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে পাওয়া গিয়েছিল। সেই দিন থেকেই শুরু হয়েছে এক দীর্ঘ বিচারহীনতার ইতিহাস। ত্বকী এখন শুধু একটি নাম নয়—এটি ক্ষমতার ছায়ায় আটকে থাকা ন্যায়বিচারের প্রতীক।
ঘটনার পর তদন্তে বহুবার অগ্রগতির দাবি এসেছে, আবার থেমেও গেছে। বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। একাধিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, তদন্ত সংস্থার বক্তব্য—সবকিছুই যেন শেষ পর্যন্ত গিয়ে আটকে গেছে অদৃশ্য এক প্রাচীরে। ফলে প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্র কি সত্যিই এই হত্যার বিচার করতে চায়, নাকি ক্ষমতার চাপের কাছে বারবার পিছিয়ে যায়? কারা ঠেকিয়ে রেখেছে বিচার প্রক্রিয়া?
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে। কিন্তু এখনো সেই আশার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। অথচ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবিচলভাবে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমবাতি হাতে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি যেন রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো বাকি।
সংবিধান কোনো সরকারকে নাগরিক হত্যার বিচার আটকে রাখার অধিকার দেয় না। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আইনের শাসনের মৌলিক নীতি একটাই—অপরাধীর বিচার হতে হবে। কিন্তু ত্বকী হত্যার ক্ষেত্রে সেই নীতিই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রায় দেড় বছর পার করে গেলেও ত্বকী হত্যার বিচারের স্পষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—খুনিদের প্রভাব কি এখনও এতটাই শক্তিশালী যে, রাষ্ট্রও তাদের সামনে নীরব? যদি সেটিই সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি হবে অন্তবর্তী সরকারের অন্যতম বড় বিচারিক ব্যর্থতা।
আমরা দেখেছি, জুলাই অভুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ঘটনায় দ্রুত গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাহলে একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কেন বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? ন্যায়বিচারের প্রশ্ন কি এখনও ক্ষমতার রাজনীতির সাপলুডু?
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে ত্বকীকে অপহরণ করা হয়। দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড়ে পাওয়া যায় তার নিথর দেহ। মামলার পর ঘাতক সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক বিবরণ। সেখানে বলা হয়, তৎকালীন প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের উপস্থিতিতে গজারির লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে ত্বকীকে হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালে র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হাসান সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই দাবির পরও এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে জমা পড়েনি। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত অচল হয়ে আছে।
এই সময়ের মধ্যে বিচার চাওয়ার ‘অপরাধে’ ত্বকীর পরিবার ও আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে এসেছে দমন-পীড়ন। সাতটি মিথ্যা মামলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি—এসব সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি। বরং দেশের সীমানা পেরিয়ে ২৩টি দেশেও এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ হয়েছে।
তেরো বছর পর এসে প্রশ্নটি তাই আরও স্পষ্ট—এই হত্যার বিচার কি সত্যিই হবে? নাকি ত্বকী হত্যাও বাংলাদেশের বিচারহীনতার দীর্ঘ তালিকায় আরেকটি নাম হয়ে থাকবে?
রাষ্ট্রের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব একটাই—আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আর সেই পথের প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি নিঃসন্দেহে ত্বকী হত্যার বিচার।
লোড হচ্ছে...