নারায়ণগঞ্জবন্দর
বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ
একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ার পুনরুদ্ধারের লড়াই
NewsView

নিজস্ব প্রতিবেদক
মো. ইসমাইল হোসেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারী। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. মিজানুর রহমান নামে একজন প্রভাষককে। যদিও বিধি অনুযায়ী একজন প্রভাষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে একজন প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসান।
এরপর থেকে ইসমাইল হোসেন ও তার অনুসারী শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) আবেদন করেন। সেই আবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ) মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মিজানুর রহমানকে সরিয়ে মো. ইসমাইল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সভাপতি এই নির্দেশ অমান্য করায় ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের আদেশ দেন। প্রভাবশালী মিজানুর রহমানের মদদপুষ্ট সিন্ডিকেটের ছলচাতুরিতে ‘কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, নতুন কমিটি হলে পদ ছেড়ে দেওয়া হবে’ এমন নানা যুক্তি দেখিয়ে পদ আকড়ে থাকেন।
এ নিয়ে সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন হাইকোর্টের রায়সহ সমস্ত কাগজপত্র দেখে ইসমাইল হোসেনকে মৌখিক নির্দেশ দেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান যদি পদ না ছাড়েন, তিনি নিজেই যেন দায়িত্ব বুঝে নেন।
অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকের মৌখিক আশ্বাসে প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষক বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসমাইল হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বসিয়ে দেন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের অনুসারী শিক্ষকরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি করে এবং বলেন, তারা ইসমাইল হোসেনকে মেনে নেবেন না। পরে তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি একদিনের জন্যও পদে থাকতে চাই না। তবে সবকিছু নিয়মের মধ্যে থেকে হতে হবে। রেগুলার (নিয়মিত) কমিটি গঠন হলেই কেবল আমি কমিটির কাছে পদত্যাগ করব। এর আগে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি কী সিদ্ধান্ত দেন, তারপর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
অবশ্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনের পক্ষের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই মিজানুর রহমান সাহেব কমিটির কাছে দায়িত্ব অর্পণ করবেন বলে নানা তালবাহানা করে আসছেন। কমিটি কবে হবে, তার কোনো ঠিক নেই। অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনের চাকরির মেয়াদ আছে আর মাত্র ছয় মাস। তার ওপর যে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে, তা নিয়ে তিনি মানকিভাবে ভেঙে পড়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবেও হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন। এই আত্মমর্যাদার জায়গা থেকেই তিনি নিজের চেয়ার পুনরুদ্ধারের এই দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে গেছেন। এই শেষ সময়ে এসে তার সম্মান ফিরিয়ে দিতেই আমরা সব শিক্ষক মিলে ইসমাইল হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছি।
মো. ইসমাইল হোসেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারী। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. মিজানুর রহমান নামে একজন প্রভাষককে। যদিও বিধি অনুযায়ী একজন প্রভাষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে একজন প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসান।
এরপর থেকে ইসমাইল হোসেন ও তার অনুসারী শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) আবেদন করেন। সেই আবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ) মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মিজানুর রহমানকে সরিয়ে মো. ইসমাইল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সভাপতি এই নির্দেশ অমান্য করায় ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের আদেশ দেন। প্রভাবশালী মিজানুর রহমানের মদদপুষ্ট সিন্ডিকেটের ছলচাতুরিতে ‘কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, নতুন কমিটি হলে পদ ছেড়ে দেওয়া হবে’ এমন নানা যুক্তি দেখিয়ে পদ আকড়ে থাকেন।
এ নিয়ে সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন হাইকোর্টের রায়সহ সমস্ত কাগজপত্র দেখে ইসমাইল হোসেনকে মৌখিক নির্দেশ দেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান যদি পদ না ছাড়েন, তিনি নিজেই যেন দায়িত্ব বুঝে নেন।
অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকের মৌখিক আশ্বাসে প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষক বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসমাইল হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বসিয়ে দেন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের অনুসারী শিক্ষকরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি করে এবং বলেন, তারা ইসমাইল হোসেনকে মেনে নেবেন না। পরে তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি একদিনের জন্যও পদে থাকতে চাই না। তবে সবকিছু নিয়মের মধ্যে থেকে হতে হবে। রেগুলার (নিয়মিত) কমিটি গঠন হলেই কেবল আমি কমিটির কাছে পদত্যাগ করব। এর আগে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি কী সিদ্ধান্ত দেন, তারপর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
অবশ্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনের পক্ষের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই মিজানুর রহমান সাহেব কমিটির কাছে দায়িত্ব অর্পণ করবেন বলে নানা তালবাহানা করে আসছেন। কমিটি কবে হবে, তার কোনো ঠিক নেই। অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনের চাকরির মেয়াদ আছে আর মাত্র ছয় মাস। তার ওপর যে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে, তা নিয়ে তিনি মানকিভাবে ভেঙে পড়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিকভাবেও হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন। এই আত্মমর্যাদার জায়গা থেকেই তিনি নিজের চেয়ার পুনরুদ্ধারের এই দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে গেছেন। এই শেষ সময়ে এসে তার সম্মান ফিরিয়ে দিতেই আমরা সব শিক্ষক মিলে ইসমাইল হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছি।
লোড হচ্ছে...