সারা দেশ
যানজটে ভোগান্তি
মহাদেবপুরে সড়কের ওপর ধানের হাট
NewsView6

ট্রাকে লোড করার জন্য সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে
নিউজভিউ ডেস্ক
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক জুড়ে বসছে ধানের হাট। এতে যানজটে জনদুর্ভোগ চরম হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শহরের শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও শনিবার হাট বসছে। এই বাইপাস সড়ক দিয়ে নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। এ সড়কের পাশেই অবস্থিত মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। হাটবারে হাটে আসা লোকজনদের ভিড় ঠেকাতে বন্ধ রাখতে হয় উপজেলার পশ্চিম গেট। এতে বিভিন্ন কাজে উপজেলায় আসা লোকজনদেরকে অনেক ঘুরে পূর্ব গেট দিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়াও নওগাঁ নজিপুর সড়কের আখেড়া, বোয়ালমারী ও ব্যাক অফিসের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বসছে ধানের হাট। ব্যস্ততম প্রধান সড়কে ধানের হাট বসায় ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
অন্যদিকে শহরের কুঞ্জবন এলাকায় আত্রাই নদীর ওপর নতুন সেতু হওয়ার পর সড়কটি প্রশস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় এলাকা পর্যন্ত সপ্তাহে দুই দিন অস্থায়ী খুচরা ও পাইকারি বাজার বসছে। হাটের দিন শহরের বক চত্বর মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কের ওপর প্রায় ৪০০ মিটার সড়ক জুড়ে চলে ধান কেনাবেচা। সড়কের ওপর আড়ত বসিয়ে ধান কেনাবেচা করেন ব্যবসায়ীরা। হাটের দিনগুলোতে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে, সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও পথচারীদের। স্থানীয় সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট থেকে বক চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে চলছে ধান কেনাবেচা। ধান কিনে রাস্তার ওপরই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের মধ্যখানেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে ট্রাকে ধান লোড করা হচ্ছে। বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় সড়কের দুই পাশে দোকান বসিয়ে আলু, বেগুন, পটোলসহ প্রভৃতি পণ্য কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দারা বলেন, ‘আগে সড়কটি বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহার হতো। তখন সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল কম হতো। সড়কের ওপর ধানের আড়ত ও বাজার বসলেও সমস্যা হতো না। এখন এটি প্রধান সড়কে পরিণত হয়েছে। যান ও পথচারী চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। অনতিবিলম্বে এই সড়কের ওপর হাটবাজার বসা বন্ধ করা উচিত।’
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৩ সালের দিকে তৎকালীন সদর ইউপি চেয়ারম্যান সফিউদ্দীন সরদার উপজেলা সদরের বরেন্দ্র অফিস এলাকায় হাটের জন্য কয়েক বিঘা জমি কেনেন। কিন্তু সেই জমিগুলো বেদখল থাকায় সেখানে হাট বসানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ঐ জমিগুলো উদ্ধার করে সেখানে হাট স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, এ সমস্যাটি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই এর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লোড হচ্ছে...