বিশেষ
নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী ফল বিলিম্বি বিলুপ্তির পথে
NewsView5
.jpg)
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী টক ফল ও সবজি বিলিম্বি । এটি রসালো ও মুখরোচক। ফলটি তরকারিতে অপূর্ব স্বাদ এনে দেয়।
নবীনগর ব্যতিত বাংলাদেশের অন্য কোথাও বিলিম্বি ফল সাধারণত চোখে পড়ে না। মায়ানমার বা তৎকালীন বার্মার খুব কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে এ ফল হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো হচ্ছে এ ফল গাছটি। কাচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ রঙের হয় ও পাকা অবস্থায় হলুদবর্ণ ধারণ করে। তেঁতুল বা আমলকির মতো কড়া টক।
বিলিম্বি অক্সিডেসি গোত্রের অর্ন্তগত একটি উদ্ভিদ। কামরাঙ্গাও একই গোত্রের ফল। বিলিম্বির বৈজ্ঞানিক নাম এভারোয়া বিলিম্বী এবং ইংরেজিতে কিউকামবার ট্রি বা ট্রি সরিল নামেও পরিচিত।
বিলিম্বি দেখতে অনেকটা পটলের মতো। লম্বায় ৩ থেকে ৬ সেমি পর্যন্ত হয়।এর উৎপত্তি সর্ম্পকে জানা যায়, খুব সম্ভবত ইন্দোশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় তবে অনেক উদ্ভিদবিদের মতে এর উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল ও দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দোনিশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমার। বিলিম্বি গাছ উচ্চতায় প্রায় ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়। । এই ফল বারো মাসেই দেখা যায়। ফলটির ভেতরে বীজ হয়। গাছের ডালে সমাহার চিরল চিরল পাতার। একটি গাছ এক নাগাড়ে ফল দেয় ১৫ থেকে ২০ বছর। প্রতিটি ডালে প্রচুর ফল ধরে। একটি গাছ বর্ষায় আনুমানিক ৬০ কেজি এবং শীতে ৩০ কেজি ফল দিতে পারে। তবে ভালো ভাবে যত্ন নিলে ৩০০ কেজির উপরও ফলন হয়। গোড়ায় পানি জমলে বা বর্ষার পানিতে এ গাছ মারা যায়। বিলিম্বির চারা হয় বীজ থেকে। তিন বছরে ফল ধরে। ফুল থেকে ফল হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। গাছ থেকে পাকা বিলিম্বি ফল পড়ার কয়েকদিনের মধ্যে পচে যায় । গাছের পাতা ছেঁটে দিলে ফলন বেশি হয়।
বিলিম্বি গাছের ফল ও পাতা বিভিন্ন দেশে ঔষধি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিলিম্বির পাতা চর্মরোগ, যৌনরোগ, কিডনীর সমস্যায়, বিষধর প্রাণীর কামড়ের থেকে নিরাময়ের জন্য, জন্ম টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ফিলিপাইন ও মায়ানমারে। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
এই ফল আমিষ ০.৬১ গ্রাম, তন্ত ০.৬ গ্রাম, ফসফরাস ১১.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.০১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ০.০৩৫ মিলিগ্রাম, এসকোরবিক এসিড ১৫.৫ মিলিগ্রাম ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। বিলিম্বি ভারতের তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও কেরালায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। এ ফল মাছের তরকারি আর ডালে ব্যবহৃত হয় বেশি। তাছাড়া এটি দিয়ে আচারও করা যায় । স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বিলিম্বি ৩০/৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নবীনগরে এই গাছ সংগ্রহের ইতিহাস ভারতবর্ষের ইতিহাসের সাথে জড়িত। যখন বাংলাদেশ সহ ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি দেশের একে অপরের সাথে অবাধ যোগাযোগ ছিল। প্রায় ৯৫ বছর আগে স্থানীয় মুন্সেফ আদালতের চাপরাশি নরেন্দ্র চন্দ্র মোদী মায়ানমার তথা বার্মা থেকে নবীনগর ডাকঘরের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার ইয়াকুব আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত বাগিচার জন্য উপহার হিসেবে আনেন বিলিম্বির চারা। নরেন্দ্রের আনা একটি গাছ এখন নবীনগরের আনাচে-কানাচে সব জায়গা পাওয়া যায়।
এছাড়া নবীনগরের বিভিন্ন নার্সারীতে বানিজ্যিক ভাবে বিক্রির জন্য চারা উৎপাদন করা হয়। বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিলিম্বি পাওয়া যায় নবীনগরে। এখানকার হাট-বাজারে বিলিম্বির চারা কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিটি চারা ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে তরকারি এবং আচার হিসেবে বিলিম্বির সম্ভাবনাকে। নবীনগরবাসীর প্রাণের দাবি এই ফলটিকে যেন বানিজ্যিক ভাবে রপ্তানি করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। নবীনগরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এই ফল গাছটি থাকায় এর উৎপাদনও অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষি বিভাগের সামান্য একটি উদ্যোগ এই ফলটির বানিজ্যিক রপ্তানি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
ছোট গল্পাকার সুমনা দেবনাথ কৃষ্ণা বলেন, এক সময় নবীনগর উপজেলা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিলিম্বি গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগে বাড়ি-ঘরের আনাচে-কানাচে কিংবা সদর দরজার সামনে দেখা যেতো বিলিম্বি গাছ। বাড়ির নারীদের টক খাওয়ার ইচ্ছে হলে হাতের নাগালে থাকা বিলিম্বি ফল গুড়া মরিচ ও লবন দিয়ে কাঁচা খেতো। মসুর ডালের সাথে এটি দিলে বেশ সুস্বাদু হতো। এখন তো দিন দিন বিলুপ্তির পথে বিলিম্বি গাছ।
কাজী কামরুল হাসান টুটুল বলেন, শত বছর আগে মায়ানমার থেকে আনা বিলিম্বি গাছ আমাদের ঐতিহ্য হয়ে উঠেছিলো। দিন দিন নগারায়েণের ফলে হারাতে বসেছে এ গাছ। সামাজিক ও কৃষি কর্মকর্তাদের একটি উদ্যোগই রুখতে পারে এর বিলুপ্তি।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বিলিম্বি গাছ রোপনে বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই। বিলিম্বি ফল সবজি ও আচার হিসেবে খাওয়া যায়। এই ফলটির একটি বানিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে।
নবীনগর ব্যতিত বাংলাদেশের অন্য কোথাও বিলিম্বি ফল সাধারণত চোখে পড়ে না। মায়ানমার বা তৎকালীন বার্মার খুব কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে এ ফল হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো হচ্ছে এ ফল গাছটি। কাচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ রঙের হয় ও পাকা অবস্থায় হলুদবর্ণ ধারণ করে। তেঁতুল বা আমলকির মতো কড়া টক।
বিলিম্বি অক্সিডেসি গোত্রের অর্ন্তগত একটি উদ্ভিদ। কামরাঙ্গাও একই গোত্রের ফল। বিলিম্বির বৈজ্ঞানিক নাম এভারোয়া বিলিম্বী এবং ইংরেজিতে কিউকামবার ট্রি বা ট্রি সরিল নামেও পরিচিত।
বিলিম্বি দেখতে অনেকটা পটলের মতো। লম্বায় ৩ থেকে ৬ সেমি পর্যন্ত হয়।এর উৎপত্তি সর্ম্পকে জানা যায়, খুব সম্ভবত ইন্দোশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় তবে অনেক উদ্ভিদবিদের মতে এর উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল ও দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দোনিশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমার। বিলিম্বি গাছ উচ্চতায় প্রায় ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়। । এই ফল বারো মাসেই দেখা যায়। ফলটির ভেতরে বীজ হয়। গাছের ডালে সমাহার চিরল চিরল পাতার। একটি গাছ এক নাগাড়ে ফল দেয় ১৫ থেকে ২০ বছর। প্রতিটি ডালে প্রচুর ফল ধরে। একটি গাছ বর্ষায় আনুমানিক ৬০ কেজি এবং শীতে ৩০ কেজি ফল দিতে পারে। তবে ভালো ভাবে যত্ন নিলে ৩০০ কেজির উপরও ফলন হয়। গোড়ায় পানি জমলে বা বর্ষার পানিতে এ গাছ মারা যায়। বিলিম্বির চারা হয় বীজ থেকে। তিন বছরে ফল ধরে। ফুল থেকে ফল হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। গাছ থেকে পাকা বিলিম্বি ফল পড়ার কয়েকদিনের মধ্যে পচে যায় । গাছের পাতা ছেঁটে দিলে ফলন বেশি হয়।
বিলিম্বি গাছের ফল ও পাতা বিভিন্ন দেশে ঔষধি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিলিম্বির পাতা চর্মরোগ, যৌনরোগ, কিডনীর সমস্যায়, বিষধর প্রাণীর কামড়ের থেকে নিরাময়ের জন্য, জন্ম টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ফিলিপাইন ও মায়ানমারে। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
এই ফল আমিষ ০.৬১ গ্রাম, তন্ত ০.৬ গ্রাম, ফসফরাস ১১.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.০১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ০.০৩৫ মিলিগ্রাম, এসকোরবিক এসিড ১৫.৫ মিলিগ্রাম ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। বিলিম্বি ভারতের তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও কেরালায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। এ ফল মাছের তরকারি আর ডালে ব্যবহৃত হয় বেশি। তাছাড়া এটি দিয়ে আচারও করা যায় । স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বিলিম্বি ৩০/৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নবীনগরে এই গাছ সংগ্রহের ইতিহাস ভারতবর্ষের ইতিহাসের সাথে জড়িত। যখন বাংলাদেশ সহ ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি দেশের একে অপরের সাথে অবাধ যোগাযোগ ছিল। প্রায় ৯৫ বছর আগে স্থানীয় মুন্সেফ আদালতের চাপরাশি নরেন্দ্র চন্দ্র মোদী মায়ানমার তথা বার্মা থেকে নবীনগর ডাকঘরের তৎকালীন পোস্ট মাস্টার ইয়াকুব আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত বাগিচার জন্য উপহার হিসেবে আনেন বিলিম্বির চারা। নরেন্দ্রের আনা একটি গাছ এখন নবীনগরের আনাচে-কানাচে সব জায়গা পাওয়া যায়।
এছাড়া নবীনগরের বিভিন্ন নার্সারীতে বানিজ্যিক ভাবে বিক্রির জন্য চারা উৎপাদন করা হয়। বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিলিম্বি পাওয়া যায় নবীনগরে। এখানকার হাট-বাজারে বিলিম্বির চারা কিনতে পাওয়া যায়। প্রতিটি চারা ৪০/৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে তরকারি এবং আচার হিসেবে বিলিম্বির সম্ভাবনাকে। নবীনগরবাসীর প্রাণের দাবি এই ফলটিকে যেন বানিজ্যিক ভাবে রপ্তানি করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। নবীনগরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এই ফল গাছটি থাকায় এর উৎপাদনও অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষি বিভাগের সামান্য একটি উদ্যোগ এই ফলটির বানিজ্যিক রপ্তানি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
ছোট গল্পাকার সুমনা দেবনাথ কৃষ্ণা বলেন, এক সময় নবীনগর উপজেলা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিলিম্বি গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগে বাড়ি-ঘরের আনাচে-কানাচে কিংবা সদর দরজার সামনে দেখা যেতো বিলিম্বি গাছ। বাড়ির নারীদের টক খাওয়ার ইচ্ছে হলে হাতের নাগালে থাকা বিলিম্বি ফল গুড়া মরিচ ও লবন দিয়ে কাঁচা খেতো। মসুর ডালের সাথে এটি দিলে বেশ সুস্বাদু হতো। এখন তো দিন দিন বিলুপ্তির পথে বিলিম্বি গাছ।
কাজী কামরুল হাসান টুটুল বলেন, শত বছর আগে মায়ানমার থেকে আনা বিলিম্বি গাছ আমাদের ঐতিহ্য হয়ে উঠেছিলো। দিন দিন নগারায়েণের ফলে হারাতে বসেছে এ গাছ। সামাজিক ও কৃষি কর্মকর্তাদের একটি উদ্যোগই রুখতে পারে এর বিলুপ্তি।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বিলিম্বি গাছ রোপনে বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই। বিলিম্বি ফল সবজি ও আচার হিসেবে খাওয়া যায়। এই ফলটির একটি বানিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে।
লোড হচ্ছে...