নারায়ণগঞ্জসদর
রঙের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য, বৈশাখী আমেজে মাতোয়ারা নারায়ণগঞ্জ
NHP NewsView

সামিতুল হাসান নিরাক
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে অনন্য এক সাজে সেজেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। চৈত্রের তপ্ত দুপুর আর বিদায়ের ঘণ্টার সুর ছাপিয়ে এখন কেবলই নতুনের আবাহন। গত কয়েক বছর নানা সীমাবদ্ধতা ও রমজানের মধ্যে বৈশাখ উদযাপিত হলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারের উৎসব আসছে এক বিশাল উৎসবমুখরতা আর বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে। চারুকলার আঙিনায় রঙ-তুলির আঁচড় আর বাঁশ-কাঠের ঠুকঠাক শব্দে মুখরিত চারপাশ জানিয়ে দিচ্ছে, এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে অতীতের চেয়েও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ এবং ইতিহাসের গভীর সংলগ্ন।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে দেখা যায় উৎসবের পূর্ণ প্রস্তুতি। এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতিকে। চারুকলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগে ছবি আঁকছেন কেউ মাটির সরায় আলপনা দিচ্ছেন কেউবা বাঘের মুখোশ তৈরিতে মগ্ন। নিচ তলায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির পালকি টেপা পুতুল ও হাতির কাঠামো। মূলত বাংলার আদি লোকজ ঐতিহ্যকে জনসম্মুখে তুলে ধরাই এবারের চারুকলা টিমের প্রধান লক্ষ্য।

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি সম্পর্কে চারুকলার শিক্ষার্থী অভি কর নয়ন জানান এবার রমজান না থাকায় আয়োজন অনেক বড় পরিসরে হচ্ছে। সবাই মিলে একযোগে কাজ করার আনন্দই আলাদা। শিক্ষার্থী রাইফু বলেন বর্তমানে বিশ্বের বড় সমস্যা যুদ্ধ। তাই মানুষের মঙ্গল কামনা ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে তারা প্রতিদিন ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে দিনরাত এক করে পালকি ও হাতি তৈরির কাজ করছেন। বাঙালির এই ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে শিক্ষার্থীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত।

নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সামছুল আলম আজাদ এবারের আয়োজন সম্পর্কে এক তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, অতীতের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে ও ইতিহাসকে ফুটিয়ে তুলেই আমাদের চারুকলার আয়োজন হয়। বিজ্ঞানের বা সাহিত্যের ইতিহাসের মতো আমরা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক ভাবেই ইতিহাসে ফেরত যাই। আমরা এখন যে আইকনগুলো তৈরি করছি তা হাজার বছর আগে সাধারণ মানুষ তৈরি করতো। শিল্পই পৃথিবীর ইতিহাস নির্মাণ করেছে। চারুকলার শিক্ষার্থীরাই সেই অতীতে ফিরে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনে।
শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, পূর্বের সরকারের আমলে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম থাকলেও বর্তমান বিএনপি সরকারের শাসনামলে এটিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আসলে পৃথিবীর সব মানুষই আনন্দ উৎসব পালন করতে রঙিন পোশাক পরে মিছিলে যোগ দেয়। এখানে দুঃখের মিছিল আছে আবার আনন্দেরও মিছিল আছে। ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশে এই বর্ণাঢ্য মেলা ও লোকশিল্পের আদলে জিনিসপত্র তৈরি শুরু হয়েছে। কারণ মানুষ এগুলো চেনে এবং ভালোবাসে। আমরা মানুষের এই চেনাজানাকে নিয়েই সবার সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। নাম যেটাই হোক মূল উদ্দেশ্য হলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামনে নিয়ে আসা।

শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হওয়া হাতপাখা শখের হাঁড়ি আর বৈচিত্র্যময় সব সরা এখন শোভা পাওয়ার অপেক্ষায়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এবার চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে এই বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যের পালকি আর প্রাচীন টেপা পুতুলের আদলে তৈরি শিল্পকর্মগুলো যখন রাস্তায় বের হবে তখন তা এক নতুন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলবে।
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে অনন্য এক সাজে সেজেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। চৈত্রের তপ্ত দুপুর আর বিদায়ের ঘণ্টার সুর ছাপিয়ে এখন কেবলই নতুনের আবাহন। গত কয়েক বছর নানা সীমাবদ্ধতা ও রমজানের মধ্যে বৈশাখ উদযাপিত হলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারের উৎসব আসছে এক বিশাল উৎসবমুখরতা আর বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে। চারুকলার আঙিনায় রঙ-তুলির আঁচড় আর বাঁশ-কাঠের ঠুকঠাক শব্দে মুখরিত চারপাশ জানিয়ে দিচ্ছে, এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে অতীতের চেয়েও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ এবং ইতিহাসের গভীর সংলগ্ন।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে দেখা যায় উৎসবের পূর্ণ প্রস্তুতি। এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতিকে। চারুকলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগে ছবি আঁকছেন কেউ মাটির সরায় আলপনা দিচ্ছেন কেউবা বাঘের মুখোশ তৈরিতে মগ্ন। নিচ তলায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির পালকি টেপা পুতুল ও হাতির কাঠামো। মূলত বাংলার আদি লোকজ ঐতিহ্যকে জনসম্মুখে তুলে ধরাই এবারের চারুকলা টিমের প্রধান লক্ষ্য।

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি সম্পর্কে চারুকলার শিক্ষার্থী অভি কর নয়ন জানান এবার রমজান না থাকায় আয়োজন অনেক বড় পরিসরে হচ্ছে। সবাই মিলে একযোগে কাজ করার আনন্দই আলাদা। শিক্ষার্থী রাইফু বলেন বর্তমানে বিশ্বের বড় সমস্যা যুদ্ধ। তাই মানুষের মঙ্গল কামনা ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে তারা প্রতিদিন ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে দিনরাত এক করে পালকি ও হাতি তৈরির কাজ করছেন। বাঙালির এই ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে শিক্ষার্থীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত।

নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সামছুল আলম আজাদ এবারের আয়োজন সম্পর্কে এক তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, অতীতের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে ও ইতিহাসকে ফুটিয়ে তুলেই আমাদের চারুকলার আয়োজন হয়। বিজ্ঞানের বা সাহিত্যের ইতিহাসের মতো আমরা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে ব্যবহারিক ভাবেই ইতিহাসে ফেরত যাই। আমরা এখন যে আইকনগুলো তৈরি করছি তা হাজার বছর আগে সাধারণ মানুষ তৈরি করতো। শিল্পই পৃথিবীর ইতিহাস নির্মাণ করেছে। চারুকলার শিক্ষার্থীরাই সেই অতীতে ফিরে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনে।
শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, পূর্বের সরকারের আমলে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম থাকলেও বর্তমান বিএনপি সরকারের শাসনামলে এটিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আসলে পৃথিবীর সব মানুষই আনন্দ উৎসব পালন করতে রঙিন পোশাক পরে মিছিলে যোগ দেয়। এখানে দুঃখের মিছিল আছে আবার আনন্দেরও মিছিল আছে। ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশে এই বর্ণাঢ্য মেলা ও লোকশিল্পের আদলে জিনিসপত্র তৈরি শুরু হয়েছে। কারণ মানুষ এগুলো চেনে এবং ভালোবাসে। আমরা মানুষের এই চেনাজানাকে নিয়েই সবার সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। নাম যেটাই হোক মূল উদ্দেশ্য হলো একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামনে নিয়ে আসা।

শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হওয়া হাতপাখা শখের হাঁড়ি আর বৈচিত্র্যময় সব সরা এখন শোভা পাওয়ার অপেক্ষায়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এবার চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে এই বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যের পালকি আর প্রাচীন টেপা পুতুলের আদলে তৈরি শিল্পকর্মগুলো যখন রাস্তায় বের হবে তখন তা এক নতুন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলবে।
লোড হচ্ছে...