সারা দেশ
ঝিনাইদহে আড়াই থেকে আট বছর পড়ে আছে পাঁচ হাসপাতাল
NewsView6

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের ২০ বেডের এ হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর আড়াই বছর এভাবে পড়ে আছে।
নিউজভিউ ডেস্ক
ঝিনাইদহ জেলায় মহেশপুর একটি ২০ বেডের হাসপাতাল ও অন্য উপজেলায় চারটি ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল উদ্বোধনের আড়াই বছর থেকে আট বছর পরও চালু হয়নি।
গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়। জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বছরের পর বছর অব্যবহƒত অবস্থায় পড়ে আছে।
জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধন হয়েছে আড়াই বছর আগে। কিন্তু আজও চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ বেডের হাসপাতালটি। ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে।
জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভৈরবা সাকোরখাল এলাকায় ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ১৬ কোটি টাকার এই হাসপাতালটি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়। লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এখনো তার কার্যক্রম শুরু হয়নি। চালু না হওয়ায় হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের কিছু কিছু যন্ত্রাংশ চুরিও হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতাল চালু হলে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু এখনো অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।’
খাদিজা বানু নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাগের এই হাসপাতাল করতে ম্যালা টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তুক আজ পর্যন্ত দেখলাম না কোনো ডাক্তার আসতি। তাহলি হাসপাতাল করে লাভ কি হলো? আমরা চাই এডা যেন তাড়াতাড়ি চালু করা হয়।’
মহেশপুরের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা পেত। আমরা চালু করার ব্যাপারে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
এর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ও দুধসর, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা ও কালীগঞ্জ উপজেলার সোয়ায়েবনগরে ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
প্রতিটির নির্মাণ-ব্যয় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা করে। এলাকার মানুষ এগুলোকে ছোট হাসপাতাল বলে জানে। প্রতিটি হাসপাতাল যন্ত্রপাতি, বেড ও অন্যান্য আসবাবপত্রে পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। এমনকি ডাক্তারের বসার চেয়ারে তোয়ালেও সাজানো আছে। এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে হেলথ ভিজিটর দিয়ে নামমাত্র চালু দেখানো হচ্ছে। প্রতিটিতে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। সবই অব্যবহƒত অবস্থায় পড়ে আছে।’
ভৈরবা গ্রামের চাষি করমআলি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, হাসপাতাল চালু হলে চিকিৎসার জন্য মহেশপুর ও যশোর যেতে হবে না। এলাকাবাসির আশা এখনো পূরণ হয়নি।’ শৈলকুপা উপজেলার কাচোরকোল গ্রামের বদনুর নাহার বলেন, ‘আট বছর হয়ে গেল, ঘরের দুয়ারের এ হাসপাতাল চালু হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।’
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোজ্জামেল করিম বলেন, ‘এ ছোট ছোট হাসপাতাল প্রশাসনিক অনুমোদন পায়নি। প্রতিটি হাসপাতাল চালুর জন্য দুই জন ডাক্তারসহ ১২ জন লোকবল নিয়োগের কথা আছে। ঢাকায় বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ভৈরবা হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেতেন। সীমান্তবর্তী এই এলাকার চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে লাঘব হতো।
ঝিনাইদহ জেলায় মহেশপুর একটি ২০ বেডের হাসপাতাল ও অন্য উপজেলায় চারটি ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল উদ্বোধনের আড়াই বছর থেকে আট বছর পরও চালু হয়নি।
গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়। জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বছরের পর বছর অব্যবহƒত অবস্থায় পড়ে আছে।
জেলার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধন হয়েছে আড়াই বছর আগে। কিন্তু আজও চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ বেডের হাসপাতালটি। ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে।
জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভৈরবা সাকোরখাল এলাকায় ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ১৬ কোটি টাকার এই হাসপাতালটি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়। লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এখনো তার কার্যক্রম শুরু হয়নি। চালু না হওয়ায় হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের কিছু কিছু যন্ত্রাংশ চুরিও হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতাল চালু হলে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু এখনো অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।’
খাদিজা বানু নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাগের এই হাসপাতাল করতে ম্যালা টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তুক আজ পর্যন্ত দেখলাম না কোনো ডাক্তার আসতি। তাহলি হাসপাতাল করে লাভ কি হলো? আমরা চাই এডা যেন তাড়াতাড়ি চালু করা হয়।’
মহেশপুরের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা পেত। আমরা চালু করার ব্যাপারে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
এর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ও দুধসর, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা ও কালীগঞ্জ উপজেলার সোয়ায়েবনগরে ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
প্রতিটির নির্মাণ-ব্যয় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা করে। এলাকার মানুষ এগুলোকে ছোট হাসপাতাল বলে জানে। প্রতিটি হাসপাতাল যন্ত্রপাতি, বেড ও অন্যান্য আসবাবপত্রে পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। এমনকি ডাক্তারের বসার চেয়ারে তোয়ালেও সাজানো আছে। এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে হেলথ ভিজিটর দিয়ে নামমাত্র চালু দেখানো হচ্ছে। প্রতিটিতে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। সবই অব্যবহƒত অবস্থায় পড়ে আছে।’
ভৈরবা গ্রামের চাষি করমআলি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, হাসপাতাল চালু হলে চিকিৎসার জন্য মহেশপুর ও যশোর যেতে হবে না। এলাকাবাসির আশা এখনো পূরণ হয়নি।’ শৈলকুপা উপজেলার কাচোরকোল গ্রামের বদনুর নাহার বলেন, ‘আট বছর হয়ে গেল, ঘরের দুয়ারের এ হাসপাতাল চালু হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।’
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোজ্জামেল করিম বলেন, ‘এ ছোট ছোট হাসপাতাল প্রশাসনিক অনুমোদন পায়নি। প্রতিটি হাসপাতাল চালুর জন্য দুই জন ডাক্তারসহ ১২ জন লোকবল নিয়োগের কথা আছে। ঢাকায় বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ভৈরবা হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেতেন। সীমান্তবর্তী এই এলাকার চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে লাঘব হতো।
লোড হচ্ছে...