জাতীয়
ময়ুখ চৌধুরী ও ওবায়েদ আকাশ গ্রহণ করলেন কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার
NewsView

নিউজভিউ
‘অনেকে আছেন যারা জেগে থেকেও চুপ থাকেন, আবার অনেকে আছেন যারা ঘুমিয়ে গেলেও কথা বলেন। কবি রফিক আজাদ এখন ঘুমিয়ে থাকলেও অনেক কথা বলছেন। তাঁর কবিতা আজ সারা দেশের মানুষ পাঠ করছে।’ ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে গত ১৪ জানুয়ারি অপরাহ্ণে কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন কথাগুলো বলেন। সমসাময়িক বাংলা কবিতার ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ দুই কবি-সম্পাদককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য কবি ও গবেষক ময়ুখ চৌধুরী এবং ২০২৬ সালের জন্য ‘সংবাদ’-এর সাহিত্য সম্পাদক ও লিটল ম্যাগাজিন ‘শালুক’-সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রত্যেককে একটি করে ক্রেস্ট, পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যমানের চেক এবং উত্তরীয় পরিয়ে, পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ময়ুখ চৌধুরীর নামে শংসাবচন পাঠ করেন কবি আব্দুর রব এবং ওবায়েদ আকাশের নামে শংসাবচন পড়ে শোনান কবি সাবেরা তাবাসসুম। ময়ুখ চৌধুরী ও ওবায়েদ আকাশ: দুজনের হাতেই পুরস্কারের ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। কবিদ্বয়কে সম্মাননা সনদ তুলে দেন রফিক আজাদ-পত্নী কবি দিলার হাফিজ। পুত্র অব্যয় আজাদ ও অভিন্ন আজাদ তুলে দেন পুরস্কারের অর্থমূল্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদের সভাপতি কবি ফারুক মাহমুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি জরিনা আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি সাকিরা পারভীন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রফিক আজাদপুত্র অব্যয় আজাদ। রফিক আজাদের প্রিয়, রবীন্দ্রনাথের ভক্তিগীতি “সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা’ পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। কবি রফিক আজাদের কবিতার মূল্যায়ন করে প্রবন্ধ পাঠ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রফিক আজাদ গবেষক গোলাম রব্বানী। পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই কবি-সম্পাদক সংক্ষেপে তাদের পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন কবি রফিক আজাদ তাঁর বন্ধু ও সহপাঠী ছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি রফিক আজাদের কাছ থেকে উপহার পাওয়া একটি বইয়ের অটোগ্রাফে দেশের জন্য কাজ করে যাবার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেটি পাঠ করেন ও রফিক আজাদের একটি কবিতা পড়ে শোনান। যে কবিতাটি এ সময়ের উপযোগী পাঠ বলে বিবেচিত হয়। একজন কবি কীভাবে ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হয়ে ওঠেন, তার রচনার মধ্যেই তার ইঙ্গিত থাকে। সমসাময়িক সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তেমনই একটি কবিতা সৈয়দ আকরম হোসেন পাঠ করে উপস্থিত কবি-লেখকবৃন্দকে প্রমাণ করে দেন। বিশেষ অতিথি জরিনা আখতার ও সভাপতি ফারুক মাহমুদ তাদের বক্তব্যে কবি রফিক আজাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কগাথা বর্ণনা করেন। অধুনাবাদী চিন্তার লিটল ম্যাগাজিন শালুক-এর পক্ষ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই কবিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শালুকের নির্বাহী সম্পাদক কবি ও নন্দনতাত্ত্বিক মাহফুজ আল-হোসেন। কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদের উপদেষ্টা কবি দিলারা হাফিজ অনুষ্ঠান প্রান্তে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি স্মৃতি পর্ষদের ২০১৭ সালে যাত্রা পর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমিও হয়তো থাকবো না, তবে এ কার্যক্রম চলবে। তিনি তাঁর দুই পুত্র অভিন্ন ও অব্যয় আজাদের কথা মনে করে বলেন, এরাই আগামী দিনে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। বেঙ্গল শিল্পালয়ের হলরুমটি তীব্র যানজটের দিনেও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে উপস্থিত কবি লেখক শিল্পী শুভাকাক্সক্ষীদের সরব উপস্থিতিতে। অনেকে আবার অনুষ্ঠান উপলক্ষে যাত্রা শুরু করেও ট্রাফিক জ্যামের কারণে অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। অনুষ্ঠান শেষে সিঙ্গাড়া সমুচা লাড্ডু ও চা কফি দিয়ে আগতদের আপ্যায়ন করা হয়।