আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সাথে গোয়েন্দা তথ্যের অমিল
NHP NewsView

নিউজভিউ ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ প্রায় এক মাসে গড়ালেও, এখনো দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসব তথ্য।
সূত্রগুলোর মতে, আরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থা অনিশ্চিত। বোমা হামলায় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস কিংবা ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কারে চাপা পড়ে থাকতে পারে। একই ধরনের মূল্যায়ন ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—সেখানেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র এখন অকার্যকর হলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র মজুদ রয়েছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের হাতে “খুব অল্প সংখ্যক রকেট” অবশিষ্ট আছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ধরা যাক আমরা তাদের ৯৯% ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি—তবুও ১% বিপজ্জনক, কারণ সেটিই একটি বিলিয়ন ডলারের জাহাজ ধ্বংস করতে পারে।”
তিনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে অবশিষ্ট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভবিষ্যৎ মার্কিন অভিযানের জন্য হুমকি হতে পারে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০% কমে গেছে। এছাড়া মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ উৎপাদন স্থাপনার ৬৬%-এর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।
“এপিক ফিউরি” নামের এই অভিযানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের বড় নৌযানের ৯২% পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত কত শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। এর মধ্যে ৩৩৫টির বেশি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ৭০%।
তবে তারা স্বীকার করেছেন, বাকি ৩০% ধ্বংস করা আরও কঠিন হবে।
মার্কিন হামলার তীব্রতা সত্ত্বেও, ইরান এখনো সক্রিয়ভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিনেই তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সম্প্রতি তারা প্রথমবারের মতো দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরের Diego Garcia ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।
নিকোল গ্রাজেভস্কি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের অভিযানের সাফল্য কিছুটা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। তার মতে, ব্যাপক বোমা হামলার পরও ইরান এখনো তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি থেকে হামলা চালাতে সক্ষম।
তিনি বলেন, “তারা এই সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে—এটাই প্রমাণ করে যে সবকিছু ধ্বংস হয়নি।” তার ধারণা, ইরানের এখনও প্রায় ৩০% ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট আছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক তাদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র এই টানেলগুলোতে লুকানো থাকতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান একটি বিশাল দেশ, এবং তারা টানেল ও রকেটে বিপুল বিনিয়োগ করেছে—ঠিক যেমন গাজায় হামাস করেছে।”
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পদ্ধতিগতভাবে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করছে, তবে কত শতাংশ সফলতা এসেছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি।
সব মিলিয়ে, এক মাসের যুদ্ধের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বড় অংশ ধ্বংস হলেও অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো এখনো আমেরিকার জন্য বড় হুমকি হয়েই রয়ে গেছে—যা ভবিষ্যৎ সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ প্রায় এক মাসে গড়ালেও, এখনো দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসব তথ্য।
সূত্রগুলোর মতে, আরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থা অনিশ্চিত। বোমা হামলায় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস কিংবা ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কারে চাপা পড়ে থাকতে পারে। একই ধরনের মূল্যায়ন ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—সেখানেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র এখন অকার্যকর হলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র মজুদ রয়েছে। যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের হাতে “খুব অল্প সংখ্যক রকেট” অবশিষ্ট আছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ধরা যাক আমরা তাদের ৯৯% ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি—তবুও ১% বিপজ্জনক, কারণ সেটিই একটি বিলিয়ন ডলারের জাহাজ ধ্বংস করতে পারে।”
তিনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে অবশিষ্ট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভবিষ্যৎ মার্কিন অভিযানের জন্য হুমকি হতে পারে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০% কমে গেছে। এছাড়া মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ উৎপাদন স্থাপনার ৬৬%-এর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে।
“এপিক ফিউরি” নামের এই অভিযানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের বড় নৌযানের ৯২% পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত কত শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। এর মধ্যে ৩৩৫টির বেশি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ৭০%।
তবে তারা স্বীকার করেছেন, বাকি ৩০% ধ্বংস করা আরও কঠিন হবে।
মার্কিন হামলার তীব্রতা সত্ত্বেও, ইরান এখনো সক্রিয়ভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিনেই তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সম্প্রতি তারা প্রথমবারের মতো দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরের Diego Garcia ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।
নিকোল গ্রাজেভস্কি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের অভিযানের সাফল্য কিছুটা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। তার মতে, ব্যাপক বোমা হামলার পরও ইরান এখনো তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি থেকে হামলা চালাতে সক্ষম।
তিনি বলেন, “তারা এই সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে—এটাই প্রমাণ করে যে সবকিছু ধ্বংস হয়নি।” তার ধারণা, ইরানের এখনও প্রায় ৩০% ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট আছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক তাদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র এই টানেলগুলোতে লুকানো থাকতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান একটি বিশাল দেশ, এবং তারা টানেল ও রকেটে বিপুল বিনিয়োগ করেছে—ঠিক যেমন গাজায় হামাস করেছে।”
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পদ্ধতিগতভাবে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করছে, তবে কত শতাংশ সফলতা এসেছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি।
সব মিলিয়ে, এক মাসের যুদ্ধের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বড় অংশ ধ্বংস হলেও অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো এখনো আমেরিকার জন্য বড় হুমকি হয়েই রয়ে গেছে—যা ভবিষ্যৎ সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
লোড হচ্ছে...