সারা দেশ
পরিবারতন্ত্র ও চাঁদাবাজির রাজনীতি অবসান চান হাসনাত আব্দুল্লাহ
NewsView

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার নির্লজ্জভাবে স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের যাত্রা শুরু করেছে।
রবিবার বিকেলে হোমনা উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালুর মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হোমনা উপজেলা শাখার আয়োজনে এক বিশাল পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
"দেশ গড়ার শপথ নিন, এনসিপি-তে যোগ দিন" এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় যুবশক্তি-র আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি যুব-মুখ্য সংগঠন (দক্ষিণাঞ্চল)-এর মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোমনা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী রাজু আহমেদ সরকার।
বর্তমান সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের কী পরিবর্তন হয়েছে, তা মানুষ জানতে চায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য সেক্টর তথা স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খারাপ, হাম ও নিউমোনিয়ায় শিশুরা মারা যাচ্ছে। আর এখন কোনো প্রশ্ন তুললেই বলা হয়- সব অন্তর্বর্তী সরকারের দোষ!
তিনি আরও বলেন, কেউ কি বলতে পারেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিদিন যে আন্দোলনগুলো হচ্ছিল, সেগুলো এখন কোথায়? মানুষের সব দাবি কি পূরণ হয়ে গেছে? সরকারের প্রতিটি সেক্টরে এখন দুর্নীতি চলছে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ডিপ্রেশন ও হতাশা বিরাজ করছে।
অতীতে তাকে কুমিল্লায় আসতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছয় মাস আগে আমাকে কুমিল্লায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, মাফ চেয়ে কুমিল্লায় আসতে হবে। আজ ওপরে আল্লাহ আর নিচে জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি তাদের এলাকাতেই প্রোগ্রাম করছি। ইনশাল্লাহ আমাদের প্রোগ্রামেও ওনাদেরকে দাওয়াত দেব।
বিএনপি ও অন্যান্য দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত সতেরো বছর যারা জেল-জুলুম, হামলা ও মামলা খেটেছেন, আজ সরকার গঠনের পর এই শ্রেণির নেতাকর্মীদের তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
বিএনপির যেসব নেতাকর্মী কষ্টে আছেন, রাতে নির্জনে কাঁদছেন, আমরা আপনাদের কষ্ট বুঝি। আপনারা এই চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির হোমনা চাননি। আমরা এনসিপিতে কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতি করি না। এনসিপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যপন্থা ও সাম্যের রাজনীতি করবে।
সমাবেশে নারীর অধিকার ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "ভোটের আগে অনেকে নারীদের পায়ে ধরে বসে থাকে, ভোট শেষ হলে খোঁজ নেয় না। নারীদের পিছিয়ে রেখে সমাজ এগোতে পারে না। যারা নারীদের শিক্ষা ও ভোটের অধিকারের বিরোধিতা করে, তারা পশ্চাৎপদ। আমরা চাই নারী নেতৃত্ব উঠে আসুক।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার কারো নেই। কোনো মাজার বা মন্দিরে আক্রমণ করা চলবে না। বাংলাদেশে কেউ 'সংখ্যালঘু' নয়; যারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না, তারাই সংখ্যালঘু। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই আমাদের ভাই এবং এ দেশের সমান নাগরিক।
সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সরকার এখন যেখানে-সেখানে ট্যাক্স বসাচ্ছে। বাইক ও অটোরিকশার ওপর ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে। না জানি কোন দিন মানুষের কথার ওপরেও ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হয়! অটোরিকশা বা বাইক যারা চালায় তারা কেউ এলিট শ্রেণি নয়, পেটের দায়ে চালায়। এই খাতের ওপর ট্যাক্স বসানো বন্ধ করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রাইভেট সেক্টরকে উন্মুক্ত ও পৃষ্ঠপোষকতা করার দাবি জানান তিনি।
বিভাজনের রাজনীতির অবসান ও আগামী পৌর নির্বাচনের ঘোষণা
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বলেন, কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে টুপি পরে আর কে পরে না— এসব বলে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দেশটাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা তরুণ প্রজন্ম এই বিভাজন চাই না।
বক্তব্য শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ মাঠের উপস্থিত হাজারো জনতার করতালির মধ্য দিয়ে আগামী স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে হোমনা উপজেলা এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক জনাব রাজু আহমেদ সরকারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একক পৌর মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্থানীয় জনগণকে রাজু আহমেদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে হোমনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, ছাত্র ও তরুণ দলে দলে যোগ দেন। মাঠ "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার নির্লজ্জভাবে স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের যাত্রা শুরু করেছে।
রবিবার বিকেলে হোমনা উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালুর মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হোমনা উপজেলা শাখার আয়োজনে এক বিশাল পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
"দেশ গড়ার শপথ নিন, এনসিপি-তে যোগ দিন" এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় যুবশক্তি-র আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি যুব-মুখ্য সংগঠন (দক্ষিণাঞ্চল)-এর মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোমনা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী রাজু আহমেদ সরকার।
বর্তমান সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের কী পরিবর্তন হয়েছে, তা মানুষ জানতে চায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য সেক্টর তথা স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খারাপ, হাম ও নিউমোনিয়ায় শিশুরা মারা যাচ্ছে। আর এখন কোনো প্রশ্ন তুললেই বলা হয়- সব অন্তর্বর্তী সরকারের দোষ!
তিনি আরও বলেন, কেউ কি বলতে পারেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিদিন যে আন্দোলনগুলো হচ্ছিল, সেগুলো এখন কোথায়? মানুষের সব দাবি কি পূরণ হয়ে গেছে? সরকারের প্রতিটি সেক্টরে এখন দুর্নীতি চলছে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ডিপ্রেশন ও হতাশা বিরাজ করছে।
অতীতে তাকে কুমিল্লায় আসতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছয় মাস আগে আমাকে কুমিল্লায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, মাফ চেয়ে কুমিল্লায় আসতে হবে। আজ ওপরে আল্লাহ আর নিচে জনগণের সমর্থন নিয়ে আমি তাদের এলাকাতেই প্রোগ্রাম করছি। ইনশাল্লাহ আমাদের প্রোগ্রামেও ওনাদেরকে দাওয়াত দেব।
বিএনপি ও অন্যান্য দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত সতেরো বছর যারা জেল-জুলুম, হামলা ও মামলা খেটেছেন, আজ সরকার গঠনের পর এই শ্রেণির নেতাকর্মীদের তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
বিএনপির যেসব নেতাকর্মী কষ্টে আছেন, রাতে নির্জনে কাঁদছেন, আমরা আপনাদের কষ্ট বুঝি। আপনারা এই চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির হোমনা চাননি। আমরা এনসিপিতে কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতি করি না। এনসিপি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যপন্থা ও সাম্যের রাজনীতি করবে।
সমাবেশে নারীর অধিকার ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "ভোটের আগে অনেকে নারীদের পায়ে ধরে বসে থাকে, ভোট শেষ হলে খোঁজ নেয় না। নারীদের পিছিয়ে রেখে সমাজ এগোতে পারে না। যারা নারীদের শিক্ষা ও ভোটের অধিকারের বিরোধিতা করে, তারা পশ্চাৎপদ। আমরা চাই নারী নেতৃত্ব উঠে আসুক।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার কারো নেই। কোনো মাজার বা মন্দিরে আক্রমণ করা চলবে না। বাংলাদেশে কেউ 'সংখ্যালঘু' নয়; যারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না, তারাই সংখ্যালঘু। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই আমাদের ভাই এবং এ দেশের সমান নাগরিক।
সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সরকার এখন যেখানে-সেখানে ট্যাক্স বসাচ্ছে। বাইক ও অটোরিকশার ওপর ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে। না জানি কোন দিন মানুষের কথার ওপরেও ট্যাক্স বসিয়ে দেওয়া হয়! অটোরিকশা বা বাইক যারা চালায় তারা কেউ এলিট শ্রেণি নয়, পেটের দায়ে চালায়। এই খাতের ওপর ট্যাক্স বসানো বন্ধ করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রাইভেট সেক্টরকে উন্মুক্ত ও পৃষ্ঠপোষকতা করার দাবি জানান তিনি।
বিভাজনের রাজনীতির অবসান ও আগামী পৌর নির্বাচনের ঘোষণা
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বলেন, কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে টুপি পরে আর কে পরে না— এসব বলে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দেশটাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা তরুণ প্রজন্ম এই বিভাজন চাই না।
বক্তব্য শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ মাঠের উপস্থিত হাজারো জনতার করতালির মধ্য দিয়ে আগামী স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে হোমনা উপজেলা এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক জনাব রাজু আহমেদ সরকারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একক পৌর মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্থানীয় জনগণকে রাজু আহমেদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে হোমনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, ছাত্র ও তরুণ দলে দলে যোগ দেন। মাঠ "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
লোড হচ্ছে...