নারায়ণগঞ্জসদর
জঞ্জাল সরিয়ে ঝকঝকে নগরীর পথে নারায়ণগঞ্জ, স্বস্তিতে হাজারো পথচারী
NHP NewsView

নিউজভিউ
দীর্ঘ কয়েক দশকের জঞ্জাল সরিয়ে অবশেষে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক এক নগরীর পথে যাত্রা শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ। ফুটপাত দখল আর যানজটের যে চিরচেনা ভোগান্তিতে নগরবাসী অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, প্রশাসনের ইস্পাতকঠিন মনোবল আর জনপ্রতিনিধিদের অনড় অবস্থানের মুখে তা বালির বাঁধের মতো ধসে পড়েছে। হকারমুক্ত ফুটপাত এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, বরং সোমবার সকাল থেকেই এক দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের এই সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন নগরজুড়ে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। তাদের এই ‘ক্লিন সিটি’ মিশন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই শহরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের আল্টিমেটাম আর মাইকিংয়ের প্রভাবে বঙ্গবন্ধু সড়ক (বিবি রোড), নবাব সলিমুল্লাহ রোড, শায়েস্তা খাঁ সড়ক ও ভাষা সৈনিক সড়কের ফুটপাতগুলো ছিল সম্পূর্ণ হকারশূন্য। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে হকাররা আগেভাগেই তাদের পসরা ও ছাউনি সরিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ বছর পর মানুষ ফুটপাত দিয়ে স্বস্তিতে হাঁটতে পারছেন। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও নারী-শিশুদের মধ্যে এই পরিবর্তন এক অন্যরকম স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আগে যেখানে ১০ মিনিটের পথ পার হতে আধা ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল সম্ভব হচ্ছে।

অভিযানটি শহরের চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিস্তৃত হয়। অভিযানে কোনো একক পক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ রক্ষায় সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ ও গণসংহতি জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তবে মূল শহর হকারমুক্ত হলেও সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও কালিরবাজার এলাকায় এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিবি রোড ও সলিমুল্লাহ সড়ক খালি হয়ে গেলেও সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ১৬ তলা ভবনের সামনের একাংশে হকারদের উপস্থিতি ছিল। সংসদ সদস্য আবুল কালামের বাড়ির সামনের রাস্তাটির বড় অংশ দখল করে এখনও নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছে কিছু অসাধু চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের প্রশ্রয়েই এই জবরদখল টিকে আছে। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শায়েস্তা খাঁ সড়কেও কিছু খাটিয়া এখনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা পুরোপুরি অপসারণ সময়ের দাবি।

শহরের সাধারণ পথচারীরা এই পরিবর্তনের জন্য নাসিক প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ফুটপাতে হাঁটতে থাকা মো. কবির হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, “প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন ও এমপি আবুল কালাম সাহেব যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজ প্রথমবার কোনো বাধা ছাড়াই ফুটপাত দিয়ে হাঁটছি। তবে আমাদের ভয় একটাই, অতীতে অনেকবার উচ্ছেদের পর আবার দখল হয়ে গেছে। আমরা চাই এই স্বস্তি যেন স্থায়ী হয়।” সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু উচ্ছেদ নয়, হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসন এবং অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করলে নারায়ণগঞ্জ হবে সত্যিকারের এক মেগাসিটি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সংসদ সদস্য আবুল কালাম উভয়েই স্পষ্ট জানিয়েছেন, হকারমুক্ত এই অভিযান কোনো সাময়িক লোকদেখানো কর্মসূচি নয়। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিবি রোড দিয়ে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান পর্যায়ক্রমে সিরাজউদ্দৌলা, মিরজুমলা ও চেম্বার রোডসহ শহরের প্রতিটি অলিগলিতে পৌঁছাবে। হকারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। জনস্বার্থে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানে রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের পূর্ণ সমর্থন থাকায় নারায়ণগঞ্জ এখন এক নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, উচ্ছেদ মানে উচ্ছেদ। কোন পুনর্বাসনের গল্প যেন আমাদের শুনতে না হয়। মানুষের মনে ভয় এই উচ্ছেদ কার্যকর হবে না দুইদিন পরে হকাররা আবার বসবে। আমি এদিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আজকের আগে আগে হকাররা উঠে গেছে। কিন্তু তাদের অবৈধ বিদ্যুতের লাইন এখনও আছে। আমি বলতে চাই বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। প্রশাসনকে টহল দিতে হবে। যেন কালকে আবার নসে না পড়ে। কালকের মধ্যে মিটিং ডেকে এগুলো অপসারণ করুন।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযানের আগেই নগরবাসী এর সুফল ভোগ করছে। ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে সরকারি দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে হবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা যানজটমুক্ত হওয়ার জন্য ও হকারমুক্ত করার জন্য আমরা সমবেত হয়েছি। আজকে যে হকার মুক্ত হয়েছে আমরা সেটা স্থায়ী হোক। সামনে কোরবাণীর ঈদ আছে। যে সময় কেউ যাতে না বলতে পারে যে আবার দুইদিনের জন্য বসুক হকার অথবা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বসুক। কোন অজুহাতেই যাতে ফুটপাতে আর বসতে না পারে। এছাড়া যানজটের যে অন্যতম আরেকটি কারণ রয়েছে ‘অটোরিক্সা’। এই গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের নারায়ণগঞ্জকে যানজট মুক্ত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আমরা হকার মুক্ত করি নাই, আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের রাস্তায় নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এই রাস্তা জনগণের, কোনোভাবেই তা হকারদের দখলে থাকতে পারে না। যারা হকার পুনর্বাসনের নামে আবার ফুটপাত দখলের সুযোগ তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জকে একটি চকচকে ঝকঝকে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করতে চাই। এই কার্যক্রমে আমরা সরাসরি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে চাই যাতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান, এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও নানামুখী ও কঠোর কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের জঞ্জাল সরিয়ে অবশেষে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক এক নগরীর পথে যাত্রা শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ। ফুটপাত দখল আর যানজটের যে চিরচেনা ভোগান্তিতে নগরবাসী অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, প্রশাসনের ইস্পাতকঠিন মনোবল আর জনপ্রতিনিধিদের অনড় অবস্থানের মুখে তা বালির বাঁধের মতো ধসে পড়েছে। হকারমুক্ত ফুটপাত এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, বরং সোমবার সকাল থেকেই এক দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের এই সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন নগরজুড়ে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। তাদের এই ‘ক্লিন সিটি’ মিশন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই শহরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের আল্টিমেটাম আর মাইকিংয়ের প্রভাবে বঙ্গবন্ধু সড়ক (বিবি রোড), নবাব সলিমুল্লাহ রোড, শায়েস্তা খাঁ সড়ক ও ভাষা সৈনিক সড়কের ফুটপাতগুলো ছিল সম্পূর্ণ হকারশূন্য। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে হকাররা আগেভাগেই তাদের পসরা ও ছাউনি সরিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ বছর পর মানুষ ফুটপাত দিয়ে স্বস্তিতে হাঁটতে পারছেন। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও নারী-শিশুদের মধ্যে এই পরিবর্তন এক অন্যরকম স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আগে যেখানে ১০ মিনিটের পথ পার হতে আধা ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল সম্ভব হচ্ছে।

অভিযানটি শহরের চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিস্তৃত হয়। অভিযানে কোনো একক পক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ রক্ষায় সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ ও গণসংহতি জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তবে মূল শহর হকারমুক্ত হলেও সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও কালিরবাজার এলাকায় এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিবি রোড ও সলিমুল্লাহ সড়ক খালি হয়ে গেলেও সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ১৬ তলা ভবনের সামনের একাংশে হকারদের উপস্থিতি ছিল। সংসদ সদস্য আবুল কালামের বাড়ির সামনের রাস্তাটির বড় অংশ দখল করে এখনও নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছে কিছু অসাধু চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের প্রশ্রয়েই এই জবরদখল টিকে আছে। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শায়েস্তা খাঁ সড়কেও কিছু খাটিয়া এখনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা পুরোপুরি অপসারণ সময়ের দাবি।

শহরের সাধারণ পথচারীরা এই পরিবর্তনের জন্য নাসিক প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ফুটপাতে হাঁটতে থাকা মো. কবির হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, “প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন ও এমপি আবুল কালাম সাহেব যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আজ প্রথমবার কোনো বাধা ছাড়াই ফুটপাত দিয়ে হাঁটছি। তবে আমাদের ভয় একটাই, অতীতে অনেকবার উচ্ছেদের পর আবার দখল হয়ে গেছে। আমরা চাই এই স্বস্তি যেন স্থায়ী হয়।” সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু উচ্ছেদ নয়, হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসন এবং অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করলে নারায়ণগঞ্জ হবে সত্যিকারের এক মেগাসিটি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সংসদ সদস্য আবুল কালাম উভয়েই স্পষ্ট জানিয়েছেন, হকারমুক্ত এই অভিযান কোনো সাময়িক লোকদেখানো কর্মসূচি নয়। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিবি রোড দিয়ে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান পর্যায়ক্রমে সিরাজউদ্দৌলা, মিরজুমলা ও চেম্বার রোডসহ শহরের প্রতিটি অলিগলিতে পৌঁছাবে। হকারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। জনস্বার্থে নেওয়া এই কঠোর অবস্থানে রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের পূর্ণ সমর্থন থাকায় নারায়ণগঞ্জ এখন এক নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, উচ্ছেদ মানে উচ্ছেদ। কোন পুনর্বাসনের গল্প যেন আমাদের শুনতে না হয়। মানুষের মনে ভয় এই উচ্ছেদ কার্যকর হবে না দুইদিন পরে হকাররা আবার বসবে। আমি এদিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আজকের আগে আগে হকাররা উঠে গেছে। কিন্তু তাদের অবৈধ বিদ্যুতের লাইন এখনও আছে। আমি বলতে চাই বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। প্রশাসনকে টহল দিতে হবে। যেন কালকে আবার নসে না পড়ে। কালকের মধ্যে মিটিং ডেকে এগুলো অপসারণ করুন।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযানের আগেই নগরবাসী এর সুফল ভোগ করছে। ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে সরকারি দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে হবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা যানজটমুক্ত হওয়ার জন্য ও হকারমুক্ত করার জন্য আমরা সমবেত হয়েছি। আজকে যে হকার মুক্ত হয়েছে আমরা সেটা স্থায়ী হোক। সামনে কোরবাণীর ঈদ আছে। যে সময় কেউ যাতে না বলতে পারে যে আবার দুইদিনের জন্য বসুক হকার অথবা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বসুক। কোন অজুহাতেই যাতে ফুটপাতে আর বসতে না পারে। এছাড়া যানজটের যে অন্যতম আরেকটি কারণ রয়েছে ‘অটোরিক্সা’। এই গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের নারায়ণগঞ্জকে যানজট মুক্ত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, আমরা হকার মুক্ত করি নাই, আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের রাস্তায় নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এই রাস্তা জনগণের, কোনোভাবেই তা হকারদের দখলে থাকতে পারে না। যারা হকার পুনর্বাসনের নামে আবার ফুটপাত দখলের সুযোগ তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জকে একটি চকচকে ঝকঝকে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করতে চাই। এই কার্যক্রমে আমরা সরাসরি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে চাই যাতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা। তিনি আরও জানান, এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও নানামুখী ও কঠোর কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
লোড হচ্ছে...