আদালত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা
NewsView

নিউজ ভিউ, নারায়ণগঞ্জ: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তবে আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে দায় স্বীকার করায় তিনি এই দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
রায় ঘোষণা ও বিচারিক প্যানেল
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই বহুল আলোচিত রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর, এবং ওই দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি প্রধান অভিযোগ
প্রসিকিউশন কর্তৃক গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ প্রদান। আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
এই পাঁচটি অভিযোগে, যা ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ ও ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ নীতির ভিত্তিতে গঠিত, গত ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরু হয়।
আসামিদের অবস্থান ও রাজসাক্ষী
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে শেখ হাসিনা দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পলাতক জীবন বেছে নেন। মামলার প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় পলাতক হিসেবে বিবেচিত। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন, ফলে তিনি দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।
বিচার কার্যক্রমের বিস্তারিত
এ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয় ৮ অক্টোবর, যুক্তিতর্ক শুরু ও সমাপ্তি হয় ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য হয় ১৩ নভেম্বর।
পলাতক থাকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন না। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে আপিল করতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হবে।
এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ডের (যেখানে তাকে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ বলতে শোনা যায়) জেরে আদালত অবমাননার মামলায় গত ২ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণা ও বিচারিক প্যানেল
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই বহুল আলোচিত রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর, এবং ওই দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি প্রধান অভিযোগ
প্রসিকিউশন কর্তৃক গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ প্রদান। আন্দোলনকারীদের নির্মূল করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
এই পাঁচটি অভিযোগে, যা ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ ও ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ নীতির ভিত্তিতে গঠিত, গত ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বিচার শুরু হয়।
আসামিদের অবস্থান ও রাজসাক্ষী
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে শেখ হাসিনা দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পলাতক জীবন বেছে নেন। মামলার প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় পলাতক হিসেবে বিবেচিত। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন, ফলে তিনি দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।
বিচার কার্যক্রমের বিস্তারিত
এ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয় ৮ অক্টোবর, যুক্তিতর্ক শুরু ও সমাপ্তি হয় ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য হয় ১৩ নভেম্বর।
পলাতক থাকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন না। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে আপিল করতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হবে।
এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ডের (যেখানে তাকে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ বলতে শোনা যায়) জেরে আদালত অবমাননার মামলায় গত ২ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
লোড হচ্ছে...