আন্তর্জাতিক
১৫২ মিলিয়িন ডলার বরাদ্দ প্রস্তাব ট্রাম্পের
আলকাট্রাজ কারাগার কি আবার চালু হবে!
NHP NewsView

নিউজভিউ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসের ভয়ঙ্কর আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালুর জন্য ১৫২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অর্থের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত কারাগার আলকাট্রাজ আইল্যান্ড আবার সক্রিয় হবে—যা ছিল একসময়কার ভয়ঙ্কর সব অপরাধীদের আবাসস্থল।
১৭৭৫ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান মানুয়েল দে আয়ালা দ্বীপটি আবিষ্কার করে নাম দেন “লা ইসলা দে লস আলকাট্রেসেস” বা পেলিকানের দ্বীপ। জনমানুষহীন দ্বীপটি তখন ছিল শুধুই পাখিদের অভয়ারণ্য।
১৮৫০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিলার্ড ফিলমোর দ্বীপটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। পরে এখানে ১০০টির বেশি কামান বসানো হয় এবং এটি পশ্চিম উপকূলের শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়। গৃহযুদ্ধের সময় এটি বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, যেখানে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের রাখা হতো।
১৯৩৪ সালে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজন্স আলকাট্রাজকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চাদরে মোড়ানো’ বেসামরিক কারাগারে রূপান্তরিত করে।
সান ফ্রান্সিস্কো উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপটি প্রবল ঠান্ডা পানির স্রোতে ঘেরা ছিল—ফলে এই কারাগার থেকে পালানো ছিল অসম্ভব। এখানে রাখা হতো সেইসব অপরাধীদের, যাদের অন্য কোনো কারাগারে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না।
আলকাট্রাজে বন্দি ছিল কুখ্যাত মাফিয়া গ্যাংস্টার আল ক্যাপোন, “বার্ডম্যান” নামে পরিচিত রবার্ট স্ট্রাউড এবং আরও অনেক ভয়ংকর অপরাধী। তবে এসব অপরাধীদের মধ্যে অল্প দোষী বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘায়েল করার জন্য নিরপরাধীও যে ছিলনা তা কিন্তু নয়।
বন্দিদের মাত্র চারটি মৌলিক অধিকার ছিল সেখানে—খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসা। বাকি সব কিছু ছিল “সুবিধা”। থাকার সেলগুলো ছিল ছোট, সংকীর্ণ আর নোংরা (৯×৫ ফুট)। খাবার ছিল অপ্রতুল, ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু ছিলনা। ছিল নিয়ম ভঙ্গকারির জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। এই কঠোর বাস্তবতার কারণে অনেকেই একে “হেলকাট্রাজ” বা নরক বলে ডাকতো।
একদিকে হিমশীতল সমুদ্রের শক্তিশালী স্রোতের প্রতিকূলে দুর্গম যাত্রা, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা দুর্ভেদ্য প্রাচীর, যা একে দিয়েছিল “যেখান থেকে পালানো সম্ভব না” এমন কারাগারের খেতাব। মোট ৩৬ জন বন্দির ১৪টি পালানোর চেষ্টা হলেও, কেউ সফল হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলকাট্রাজের সবচেয়ে বিখ্যাত পালানোর ঘটনা ১৯৬২ সালের ফ্র্যাঙ্ক মরিস ও অ্যাংলিন ভাইদের। তারা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় দেয়াল কেটে, নকল মাথা বানিয়ে এবং রেইনকোট দিয়ে ভেলা তৈরি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি তারা সেই ভয়ঙ্কর সমুদ্রযাত্রায় আসলেই শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন কি না। এই পালানোর ঘটনা তখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। লেখক ‘জে ক্যাম্পবেল ব্রুস’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৩সালে রচনা করেন তার বিখ্যাত উপন্যাস “এস্কেইপ ফ্রম আলকাট্রাজ”। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ডন সিগেল এর পরিচালনায় এর চলচ্চিত্রের এডাপ্টেশন হয় যেখানে ‘ফ্র্যাঙ্ক মরিস’এর ভুমিকায় অভিনয় করেন কিংবদন্তি অভিনেতা ‘ক্লিন্ট ইস্টউড’। দ্যা রক বা আল্কাট্রাজ দ্বিপে জিম্মি সংকটের কাল্পনিক গল্প নিয়ে ১৯৯৬ সালে মাইকেল বে নির্মাণ করেন “দ্যা রক” চলচ্চিত্রটি যেখানে অভিনয় করেন শন কনারি, নিকোলাস কেজ ও এড হ্যারিস এর মত বিখ্যাত অভিনেতারা।
১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ প্রিজনস কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয় এর অত্যাধিক পরিচালনা ব্যয় যা সমসাময়িক অন্যন্য কারাগারের তুলনায় ছিল প্রায় ৩ গুণ। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়প্রাপ্ত ভবনটির সংস্কার ও মেরামত করাও ছিল বেশ ব্যায়বহুল তাছাড়া দ্বীপটির অবস্থান ও প্রবল স্রোত কারারক্ষীদের জন্যও সমস্যা তৈরি করেছিল।
বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চালু আছে। প্রতিবছর প্রায় ১৫ লক্ষ দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণ করেন। ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবার অপরাধীদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে সেই নরকের কারাগার, দ্যা রক, আলকাট্রাজ”।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসের ভয়ঙ্কর আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালুর জন্য ১৫২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অর্থের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত কারাগার আলকাট্রাজ আইল্যান্ড আবার সক্রিয় হবে—যা ছিল একসময়কার ভয়ঙ্কর সব অপরাধীদের আবাসস্থল।
১৭৭৫ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান মানুয়েল দে আয়ালা দ্বীপটি আবিষ্কার করে নাম দেন “লা ইসলা দে লস আলকাট্রেসেস” বা পেলিকানের দ্বীপ। জনমানুষহীন দ্বীপটি তখন ছিল শুধুই পাখিদের অভয়ারণ্য।
১৮৫০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিলার্ড ফিলমোর দ্বীপটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। পরে এখানে ১০০টির বেশি কামান বসানো হয় এবং এটি পশ্চিম উপকূলের শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়। গৃহযুদ্ধের সময় এটি বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, যেখানে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের রাখা হতো।
১৯৩৪ সালে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজন্স আলকাট্রাজকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চাদরে মোড়ানো’ বেসামরিক কারাগারে রূপান্তরিত করে।
সান ফ্রান্সিস্কো উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপটি প্রবল ঠান্ডা পানির স্রোতে ঘেরা ছিল—ফলে এই কারাগার থেকে পালানো ছিল অসম্ভব। এখানে রাখা হতো সেইসব অপরাধীদের, যাদের অন্য কোনো কারাগারে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না।
আলকাট্রাজে বন্দি ছিল কুখ্যাত মাফিয়া গ্যাংস্টার আল ক্যাপোন, “বার্ডম্যান” নামে পরিচিত রবার্ট স্ট্রাউড এবং আরও অনেক ভয়ংকর অপরাধী। তবে এসব অপরাধীদের মধ্যে অল্প দোষী বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘায়েল করার জন্য নিরপরাধীও যে ছিলনা তা কিন্তু নয়।
বন্দিদের মাত্র চারটি মৌলিক অধিকার ছিল সেখানে—খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসা। বাকি সব কিছু ছিল “সুবিধা”। থাকার সেলগুলো ছিল ছোট, সংকীর্ণ আর নোংরা (৯×৫ ফুট)। খাবার ছিল অপ্রতুল, ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু ছিলনা। ছিল নিয়ম ভঙ্গকারির জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। এই কঠোর বাস্তবতার কারণে অনেকেই একে “হেলকাট্রাজ” বা নরক বলে ডাকতো।
একদিকে হিমশীতল সমুদ্রের শক্তিশালী স্রোতের প্রতিকূলে দুর্গম যাত্রা, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা দুর্ভেদ্য প্রাচীর, যা একে দিয়েছিল “যেখান থেকে পালানো সম্ভব না” এমন কারাগারের খেতাব। মোট ৩৬ জন বন্দির ১৪টি পালানোর চেষ্টা হলেও, কেউ সফল হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলকাট্রাজের সবচেয়ে বিখ্যাত পালানোর ঘটনা ১৯৬২ সালের ফ্র্যাঙ্ক মরিস ও অ্যাংলিন ভাইদের। তারা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় দেয়াল কেটে, নকল মাথা বানিয়ে এবং রেইনকোট দিয়ে ভেলা তৈরি করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি তারা সেই ভয়ঙ্কর সমুদ্রযাত্রায় আসলেই শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন কি না। এই পালানোর ঘটনা তখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। লেখক ‘জে ক্যাম্পবেল ব্রুস’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৩সালে রচনা করেন তার বিখ্যাত উপন্যাস “এস্কেইপ ফ্রম আলকাট্রাজ”। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ডন সিগেল এর পরিচালনায় এর চলচ্চিত্রের এডাপ্টেশন হয় যেখানে ‘ফ্র্যাঙ্ক মরিস’এর ভুমিকায় অভিনয় করেন কিংবদন্তি অভিনেতা ‘ক্লিন্ট ইস্টউড’। দ্যা রক বা আল্কাট্রাজ দ্বিপে জিম্মি সংকটের কাল্পনিক গল্প নিয়ে ১৯৯৬ সালে মাইকেল বে নির্মাণ করেন “দ্যা রক” চলচ্চিত্রটি যেখানে অভিনয় করেন শন কনারি, নিকোলাস কেজ ও এড হ্যারিস এর মত বিখ্যাত অভিনেতারা।
১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ প্রিজনস কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয় এর অত্যাধিক পরিচালনা ব্যয় যা সমসাময়িক অন্যন্য কারাগারের তুলনায় ছিল প্রায় ৩ গুণ। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়প্রাপ্ত ভবনটির সংস্কার ও মেরামত করাও ছিল বেশ ব্যায়বহুল তাছাড়া দ্বীপটির অবস্থান ও প্রবল স্রোত কারারক্ষীদের জন্যও সমস্যা তৈরি করেছিল।
বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চালু আছে। প্রতিবছর প্রায় ১৫ লক্ষ দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণ করেন। ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবার অপরাধীদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে সেই নরকের কারাগার, দ্যা রক, আলকাট্রাজ”।
লোড হচ্ছে...