জাতীয়
ভারত, চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র
কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?
NHP NewsView

নিউজভিউ ডেস্ক
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হতে চলেছে। নতুন এই সরকারের শুরুতেই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তুলেছে। জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন ঢাকা’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। লক্ষ্য মূলত জনশক্তি রপ্তানি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং চলতি সপ্তাহেই তার ভারত সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এই ঘনঘন সফরগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঢাকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ সক্রিয়।
আওয়ামী লীগ আমলের দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতের সাথে যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে একই সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার সম্পর্ক উষ্ণ হতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন—
"আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। আমাদের নীতি হলো সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখা। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে ঘিরে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।"
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিবৃতিতে কেবল ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল, যা নিয়ে খোদ ইরানি রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সরকার একটি ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, নতুন সরকারকে বোঝার জন্য আরও কিছুটা সময় বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনের মতে, তিস্তা প্রকল্প হবে বাংলাদেশ-ভারত-চীন সম্পর্কের ‘লিটমাস টেস্ট’। এখানে ভারত ও চীনের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী। তিনি মনে করেন, জাতীয় ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকলে বিদেশি চাপ সামলানো সহজ হয়। অন্যথায় এটি ‘দলভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি’তে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগও অপরিহার্য। আবার জ্বালানি ও নিরাপত্তার জন্য ভারতের সাথে কাজ করা জরুরি। বিশেজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে ইউরোপ-আমেরিকায়, কিন্তু কাঁচামাল আসে চীন-ভারত থেকে। ফলে কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ভাষায়, "কে নাখোশ হবে সেটা বড় কথা নয়, দেশের মানুষের কল্যাণই আমাদের কাছে মুখ্য।" তবে প্রভাবশালী দেশগুলোর নানামুখী চাপ সামলে এই ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য সবথেকে বড় অগ্নিপরীক্ষা। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হতে চলেছে। নতুন এই সরকারের শুরুতেই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তুলেছে। জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন ঢাকা’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। লক্ষ্য মূলত জনশক্তি রপ্তানি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং চলতি সপ্তাহেই তার ভারত সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। এই ঘনঘন সফরগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঢাকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ সক্রিয়।
আওয়ামী লীগ আমলের দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতের সাথে যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে একই সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে ঢাকার সম্পর্ক উষ্ণ হতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন—
"আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। আমাদের নীতি হলো সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখা। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে ঘিরে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।"
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিবৃতিতে কেবল ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল, যা নিয়ে খোদ ইরানি রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সরকার একটি ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, নতুন সরকারকে বোঝার জন্য আরও কিছুটা সময় বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনের মতে, তিস্তা প্রকল্প হবে বাংলাদেশ-ভারত-চীন সম্পর্কের ‘লিটমাস টেস্ট’। এখানে ভারত ও চীনের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী। তিনি মনে করেন, জাতীয় ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকলে বিদেশি চাপ সামলানো সহজ হয়। অন্যথায় এটি ‘দলভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি’তে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগও অপরিহার্য। আবার জ্বালানি ও নিরাপত্তার জন্য ভারতের সাথে কাজ করা জরুরি। বিশেজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে ইউরোপ-আমেরিকায়, কিন্তু কাঁচামাল আসে চীন-ভারত থেকে। ফলে কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ভাষায়, "কে নাখোশ হবে সেটা বড় কথা নয়, দেশের মানুষের কল্যাণই আমাদের কাছে মুখ্য।" তবে প্রভাবশালী দেশগুলোর নানামুখী চাপ সামলে এই ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য সবথেকে বড় অগ্নিপরীক্ষা। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
লোড হচ্ছে...